ছবি: জনকণ্ঠ

(প্রিয়.কম) অঞ্জলী, শেফালি, প্রতিমা, নূরজাহান, কোহিনূর এরা কেউ তীব্র অভাবী পরিবারের মেয়ে কিংবা বধূ নন। কারও কাছে হাত পাততে হয় না। তবুও তারা মাঠে নেমেছেন। দিনভর ক্ষেতে আলু তোলার কাজ করেন। বিনিময়ে প্রত্যেকে মাথাপিছু দৈনিক ১০ কেজি করে আলু পান, যা সংসারে আরও সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনছে, দিচ্ছে বাড়তি সচ্ছলতা। তাদের আরও স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করছে। 

২১ মার্চ মঙ্গলবার ‘ক্ষেতের আলু তুলে সংসারে সচ্ছলতা, চাষীরাও ব্যস্ত’ শীর্ষক শিরোনামে দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তাদের মতো আরও কয়েক শ’ নারী এ মুহূর্তে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাটির নিচ থেকে গোলআলু তোলার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাদের কাজ করার এ দৃশ্য পাল্টে দিয়েছে এলাকার চিরায়ত প্রথা, যা সমাজ-সংসারে এগিয়ে দিচ্ছে পরিশ্রমী এই নারীদের।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কয়েকটি গ্রামে এবার চার শ’ হেক্টরেরও বেশি জমিতে গোল আলুর চাষ হয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের মতে, এবার উৎপাদনের পরিমাণ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। টাকার অঙ্কে যা ৪০ থেকে ৪৫ কোটি টাকায় বিক্রি হবে। উপজেলা শহর সংলগ্ন মুরাদনগর, উত্তর বোয়ালিয়া, দক্ষিণ বোয়ালিয়া, পক্ষিয়া, চরখালীসহ কয়েকটি গ্রামে এ মুহূর্তে ক্ষেত থেকে আলু তোলার ভর মৌসুম চলছে। প্রতিদিন ট্রলার-ট্রাক ভর্তি আলু যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন মোকামে। আলুচাষীরা তাই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, আলু চাষীদের প্রচন্দ্র ব্যস্ততার নানান খন্ড চিত্র। তারা মহাজনদের সঙ্গে দরদাম করছেন। টাকা গুনছেন। মোবাইল ফোনে মোকামে কথা বলছেন। হিমাগারের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে। কেউ কেউ আলুর স্তূপ ওজন করছেন। বস্তায় ভরছেন। এমন অসংখ্য খ-চিত্রের মাঝেই দেখা গেল ভিন্নতর দৃশ্য। ক্ষেতের মাটির নিচ থেকে আলু তোলার কাজটি কেবল নারীরাই করছেন। 

আলুচাষী মোঃ বাবুল জানান, তিনি প্রায় ৬ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেছেন। তার ক্ষেতে ১৮-২০ জন নারী কাজ করছেন। 

শফি কেরানী জানান, আলু তোলার কাজে পুরুষদের তুলনায় নারীদের মজুরী কম। তারপরও তারা কাজ করেন বেশি। তাই তারা নারীদের দিয়ে এ কাজটি করান। 

প্রিয় সংবাদ/রুবেল/খোরশেদ