(প্রিয়.কম): দেশের বাইরে যাবার জন্য সাথে করে ক্যাশ টাকা নিয়ে যাবার বদলে আজকাল প্রচলন হয়েছে প্রিপেইড কার্ড, যেগুলো ব্যবহার করে আপনি দেশের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য এটিএম, পস (POS) মেশিন ইত্যাদি ব্যবহার করে লেনদেন করতে পারবেন। আসুন আজ সেরকম একটা কার্ডের সুযোগ সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে কথা বলি।
 
আপনি ভাবতে পারেন, ক্যাশ টাকা তো সুবিধা, এটা হাতে থাকলে একটা নিরাপত্তাও থাকে মনে। অবশ্যই তাই। ক্যাশে টাকা হাতে থাকা সুবিধা, সবসময় ব্যবহারযোগ্য থাকে। আর সবজায়গায় এটিএম বুথ কিংবা সব দোকানে বা হোটেলে কার্ড একসেপ্টও করে না।
 
কিন্তু ক্যাশ টাকার একটা সমস্যা আছে, ভ্রমণে গেলে বিপুল পরিমাণ ক্যাশ সাথে রাখতে হয়। এটা বিভিন্ন দিক থেকেই বিপজ্জনক, চুরি যেতে পারে, হারিয়ে যেতে পারে, টাকার জন্য আপনি কারও টার্গেট হতে পারেন।
 
সে তুলনায় আপনার যদি থাকে একটা ভিসা কিংবা মাস্টার-কার্ড, তাহলে আপনি সেখান থেকে দরকার মত টাকা তুলে নিতে পারলেন, কিছু ক্যাশ সবসময়ই আপনার হাতে থাকবে। আর বাকিটা কার্ডে থাকার কারণে থাকবে নিরাপদ। যদি কার্ড চুরিও যায়, তাহলেও চোর পিন কোড এর অভাবে সেটা ব্যবহার করতে পারবে না, তাই আপনার টাকা নিরাপদ। চুরি গেছে এটা বোঝার সাথে সাথে আপনি কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে জানিয়ে দিলে তারা কার্ডটাকে অচল করে দেবে।
 
আপনি অন্য কার্ড এর জন্য আবেদন করতে পারেন এবং আপনার কার্ড ইস্যু করা প্রতিষ্ঠানের সাথে কথার প্রেক্ষিতে কয়েকদিনের মাঝে আপনার ঠিকানায় সেটা পৌঁছে যাওয়াও সম্ভব। আপনার টাকা কিন্তু তখনও কার্ডেই আছে। নতুন কার্ড দিয়ে আবার টাকা তোলা শুরু করতে পারবেন।
 
তবে সবার ক্রেডিট কার্ড থাকে না, ক্রেডিট কার্ড করা এবং সেটার বিভিন্ন জটিলতার সাথে মানিয়ে চলা সহজ কাজ নয়। সে জন্য আছে ভিন্ন উপায়, সহজ, সস্তা কিন্তু প্রায় একই রকম কাজের।
 
যারা ভারতে বেড়াতে যান, তাদের কাছে জনপ্রিয় একটি কার্ড হল স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া থেকে ইস্যু করা ট্রাভেল কার্ড। সেটা নিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন এখানে। তবে এটার সমস্যা হল, আপনি এই কার্ড দিয়ে দেশের ভেতরে কোন পারচেজ করতে পারবেন না। অনলাইনেও পারচেজ করতে পারবেন না। কেবলমাত্র ভারত সহ সারা বিশ্বের বিভিন্ন এটিএম মেশিন ও দোকানে কেনাকাটা বা পজ (POS) মেশিনে ব্যবহার করতে পারবেন।
 
মাস্টারকার্ড চিহ্ন থাকা যে কোন এটিএম বুথে আপনি টাকা তুলতে পারবেন। ছবি: সংগৃহীত।
 
সেদিক থেকে আর একটা বিকল্প হতে পারে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড থেকে ইস্যু করা প্রিপেইড মাস্টার-কার্ড, যেটার নাম তারা দিয়েছে এ্যাকুয়া কার্ড। এতে আপনি দেশে ও দেশের বাইরে সব কেনাকাটা করতে পারবেন, অনলাইনে প্রোডাক্ট ও সফটওয়্যার পারচেজ করতে পারবেন ৩০০ ডলার পর্যন্ত ও হোটেল বুকিংও দিতে পারবেন অনলাইনে। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পড়াশোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফী প্রদান করাও সম্ভব এটার মাধ্যমে। তবে এটা দিয়ে ফ্লাইট পারচেজ করা যাবে না যদি সেটার মূল্যমান ১০০ ডলার এর চেয়ে বেশি হয়। ১০০ ডলার এর চেয়ে বেশি কেনাকাটায় ব্যাংকে জমা দিতে হবে অনলাইন ডিক্লেয়ারেশন ফর্ম।
 
আসুন, দেখে নেয়া যাক, কিভাবে ইস্টার্ন ব্যাংক থেকে আপনি এই কার্ডটা করাতে পারবেন।
 
নাম: এ্যাকুয়া কার্ড।
 
ফাইনান্সিয়াল নেটওয়ার্ক: মাস্টার-কার্ড।
 
ইস্যুইং ব্যাংক: ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড।
 
ব্যাংকের শাখা: যে কোন।
 
কার্ড করাতে খরচ: ৫৭৫ টাকা ওয়ান টাইম ফী।
 
কার্ডের মেয়াদ: তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে বাড়িয়ে নেয়া সম্ভব। এই তিন বছরের জন্য আর কোন বাৎসরিক ফী নেই।
 
কার্ডের কারেন্সি: ডুয়েল কারেন্সি। টাকা এবং এনডোর্স করা সাপেক্ষে ডলার।
 
কার্ডের এনডোর্সমেন্ট লিমিটেশন: এক বছরে সার্ক-ভুক্ত দেশ ভ্রমণ করার জন্য ৫০০০ ডলার এবং অন্য দেশ এর জন্য ৭০০০ ডলার।
 
কার্ডের মাধ্যমে অনলাইন পারচেজ: অনলাইন পারচেজ করার জন্য ব্যাংকে অনলাইন ডিক্লেয়ারেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে।
 
কার্ড করার জন্য ডকুমেন্টস: এনআইডি / পাসপোর্ট / অফিস আইডি / সত্যায়িত জন্ম সনদ, দুই কপি ছবি নিতে হবে। প্রি পেইড কার্ড এর ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে।
 
কেনাকাটাতেও নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত।
 
এই কার্ডটি করা থাকলে বাংলাদেশ ও ভারত তো বটেই, দেশের বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় সহযোগিতা পাবেন আপনি। যাদের ক্রেডিট কার্ড নেই, তাদের জন্য এই কার্ডটি হতে পারে অত্যন্ত চমৎকার একটি অপশন।
 
আরও বিভিন্ন তথ্য জানতে খেয়াল করুন ইবিএল এর এই ফেসবুক লিংকটি। কোন জিজ্ঞাসা থাকলে এই ফেসবুক পেজটিকে কমেন্ট করলে ইবিএল এর পক্ষ থেকে জবাব দেয়া হয়।
 
আশা করা যায় এই কার্ডটি আপনার ভ্রমণকে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিময় করবে। আর একটা কথা, এটায় এনডোর্সমেন্ট করলে সেটা ভারতীয় ভিসার জন্য ব্যবহার করা যাবে।
 
সম্পাদনা: ড. জিনিয়া রহমান।
আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।