কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত কাউন্সিলর একরামের স্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

বন্দুকযুদ্ধের নামে একরামকে হত্যা করা হয়েছে, দাবি স্ত্রীর

অপরিচিত এক কণ্ঠ থেকে শোনা যায়, ‘‘তাহলে তুমি জড়িত নও’’, জবাবে একরামের কণ্ঠে শুনা যায় ‘‘না আমি জড়িত নই’’। এরপর গুলির আওয়াজ আর একরামের আর্তচিৎকার শুনা যায়।

শেখ নোমান
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ৩১ মে ২০১৮, ১৯:৩৯ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৩২
প্রকাশিত: ৩১ মে ২০১৮, ১৯:৩৯ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৩২


কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত কাউন্সিলর একরামের স্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

(ইউএনবি) কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত টেকনাফ পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের স্ত্রী ও মেয়েরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

৩১ মে, বৃহস্পতিবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগম এবং মেয়ে তাহিয়া হক ও নাহিয়ান হক এ দাবি জানান। ওই সময় একরামের স্কুলপড়ুয়া দুই মেয়ের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

লিখিত বক্তব্যে আয়েশা বেগম জানান, টেকনাফে দায়িত্বরত একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা জমি কেনার কথা বলে ২৬ মে রাতে একরামুল হককে মোবাইল ফোনে ডেকে নেন। দুই সপ্তাহ আগে থেকে ওই কর্মকর্তা একরামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। তিনি র‌্যাবের এক কর্মকর্তার সঙ্গেও একরামকে পরিচয় করিয়ে দেন।

মোবাইল ফোনের ভয়েস রেকর্ড থাকার দাবি করে আয়েশা বেগম বলেন, ‘ওই দিন রাত ১১টা ৩২ মিনিটের পর একরামকে গুলি করা হত্যা করা হয়। রাত ১১টা ৩২ মিনিটে একরামের নাম্বারে তার মেয়ে ফোন করলে তা রিসিভ করা হয়। কিন্তু একরাম কথা বলতে পারেননি। অপরিচিত এক কণ্ঠ থেকে শোনা যায়, ‘‘তাহলে তুমি জড়িত নও’’, জবাবে একরামের কণ্ঠে শুনা যায় ‘‘না আমি জড়িত নই’’। এরপর গুলির আওয়াজ আর একরামের আর্তচিৎকার শুনা যায়। পরে যারা গুলি করেছেন তাদের কথোপকথন শোনা যায়। তারা বলেন ‘‘এইবার গাড়িতে গুলি কর’’।’

এর আগে রাত ১১টা ১৩ মিনিটে একরামের মোবাইলে কল করলে তিনি মেয়েকে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলেন, ‘মা আমি হ্নীলা যাচ্ছি। আমি যাদের সঙ্গে এসেছিলাম সেই মেজর সাহেবের সঙ্গে হ্নীলা যাচ্ছি।’

আয়েশা বেগমের অভিযোগ, ‘একরামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, এটা ‘‘বন্দুকযুদ্ধ’’ নয়। এ ছাড়া হত্যার পর র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একরামের বাবার নাম ও ঠিকানা ভুল দেওয়া হয়েছে। যা থেকে বুঝা যায় ঘটনাটি সাজানো “বন্দুকযুদ্ধ”।’

‘একরাম কখনো ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত ছিলেন না। তিনি নিজে কোনো অঢেল সম্পত্তির মালিক হতে পারেননি। তার ব্যাংক-ব্যালেন্স বা সম্পদে অস্বাভাবিক কিছু নেই। প্রতি মাসে মেয়েদের টিউশন ফি আর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতেই তাকে হিমশিম খেতে হতো’, যোগ করেন স্ত্রী।

আয়েশা বেগম প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘একরাম আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থেকে সারা জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। তার হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত। নিরীহ একজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।’

ওই সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন ও অনাথ দুই মেয়ের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ জানান।

গত ২৬ মে রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের নোয়াখালী পাড়া এলাকায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে কায়ুকখালি পাড়ার আবদুস সাত্তারের ছেলে একরামুল হক (৪৬) নিহত হন। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...