৬ বছরের শিকল বন্দিত্বের অবসান

এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিল মেয়েটি। তারপর হঠাৎ করেই তার সহিংস আচরণ ধরা পড়ে। বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যরা একটি ঘরে শিকলবন্দি করে রাখে তাকে।

জাহিদুল ইসলাম জন
জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক, নিউজ এন্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স
১৭ জুলাই ২০১৭, সময় - ১৭:২৬

ছয় বছর ধরে নির্জন ঘরে শিকলবন্দি অবস্থায় কেটেছে ফাতেমার। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিল মেয়েটি। তারপর হঠাৎ করেই তার সহিংস আচরণ ধরা পড়ে। বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যরা একটি ঘরে শিকলবন্দি করে রাখে তাকে। অবশেষে ছয় বছর পর শিকল থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। শুরু করা হয়েছে চিকিৎসা।

১৭ জুলাই সোমবার ফাতেমা আক্তার নামের ওই তরুণীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে গতকাল তাকে দেখতে কিশোরগঞ্জের বাড়িতে গিয়েছিলেন জেলার সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি দল।

২১-২২ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তারের বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারি ইউনিয়নের চরকাটিহারী গ্রামে। দরিদ্র কৃষক মহিবুর রহমানের ছয় সন্তানের মধ্যে পঞ্চম সে।

চিকিৎসকেরা আশা করছেন, সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ফাতেমাকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হবে। এক মাসের চিকিৎসায় মেয়েটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে আশার কথা জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন মো. মজিবুর রহমান।

ফাতেমার সঙ্গে ময়মনসিংহের হাসপাতালে এসেছেন বাবা মহিবুর রহমান আর মা আছিয়া খাতুন। তার সুস্থতার জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন বাবা মহিবুর।

জানা গেছে, সম্পূর্ণ সুস্থ ফাতেমার অস্বাভাবিকতার শুরু ২০১১ সালে হোগলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর থেকে। মা-বাবাসহ কাউকে সামনে পেলে দা দিয়ে কোপ দিতে চায় সে। শুরুতে কিছুদিন চিকিৎসা করানো হলেও পরে অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

পরে তার খবর সংবাদমাধ্যমের প্রকাশ পেলে জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নেওয়ায় তার চিকিৎসা শুরু হলো।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত   

জনপ্রিয়
আরো পড়ুন