ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ে খরচ ও চাপ বৃদ্ধি

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পাঠ্যবই নির্ভর। একজন শিক্ষার্থী যদি ভালোভাবে পাঠ্যবই পড়েন, তাহলে তার কোচিংয়ে পড়ার প্রয়োজন নেই; বরং মফস্বলের শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি ভর্তি হচ্ছেন।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৮ মে ২০১৭, ১১:৫৫ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ২২:৪৮
প্রকাশিত: ২৮ মে ২০১৭, ১১:৫৫ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ২২:৪৮


ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বর্তমানে রাজধানীসহ সারা দেশে ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং সেন্টারের শাখা রয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে প্রায় ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী এসব কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়। একজন শিক্ষার্থীর কোচিং ও আনুষঙ্গিক ব্যয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিবছরই ৫০০ থেকে ১০০০ করে বাড়ানো হয়। 

জানা গেছে, প্রতিটি কোচিং সেন্টার প্রতিবছর ফি বাড়াচ্ছে। এখন আবার বেশি টাকা ফি লিখে ‘মূল্য হ্রাসে’ ভর্তি করছে। এ ছাড়া আগের বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া একেকজন মেধাবী ছাত্রকে একাধিক কোচিং সেন্টার নিজেদের দাবি করে চটকদার প্রচারণা করছে।

২০১৩ সালে প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অধীন উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্প গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৯২ শতাংশ কোচিং করেন। এছাড়া ভর্তি-ইচ্ছুক একেকজন শিক্ষার্থীর পেছনে বছরে (এক সিজন) ভর্তি কোচিং ও আনুষঙ্গিক বাবদ খরচ হচ্ছে প্রায় ৪৩ হাজার টাকা। 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা চালুর লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ওই গবেষণা করা হয়। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগের বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮৪ শতাংশ ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোচিং করেছেন। তাদের কোচিং ফিসহ আনুষঙ্গিক মিলিয়ে খরচ পড়েছিল প্রায় সাড়ে ৩১ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরে এই ব্যয় বেড়েছে।

বর্তমানে ৩০টির মতো কোচিং সেন্টারের সারা দেশেই শাখা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই ক্লাসভিত্তিক টাকার বিনিময়ে ক্লাস নেন। ঢাকার বাইরে কলেজের শিক্ষার্থীরাও ক্লাস নেন। এর মধ্যে রাজধানীর গ্রিন রোডে অবস্থিত ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের ভর্তি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলছিলেন, কোচিং ফি প্রতিবছরই ৫০০ থেকে ১০০০ করে বাড়ানো হচ্ছে। 

এদিকে ইউসিসি কোচিং সেন্টারে, শুধু বিজ্ঞান বিভাগে (‘ক’ ইউনিট) কোর্স ফি ১৫ হাজার, মানবিকের (‘খ’ ইউনিট) জন্য ১৪ হাজার, ব্যবসায় শিক্ষার (‘গ’ ইউনিট গণিতসহ) জন্য ১৬ হাজার টাকা।

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্পের গবেষণায় বলা হয়, একেকজন গড়ে শিক্ষার্থী ৫ থেকে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেন। ফলে তাদের প্রচুর অর্থ খরচ ও হয়রানি হয়। তাই একই ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একেকটি গুচ্ছ করে পরীক্ষার সুপারিশ করা হয়। তবে সমন্বিত পদ্ধতিতে পরীক্ষার পরপর ভর্তি পরীক্ষা হলে কোচিংয়ের বোঝা ও হয়রানি বন্ধ হতো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পাঠ্যবইনির্ভর। একজন শিক্ষার্থী যদি ভালোভাবে পাঠ্যবই পড়েন, তাহলে তার কোচিংয়ে পড়ার প্রয়োজন নেই; বরং মফস্বলের শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি ভর্তি হচ্ছেন।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ভবিষ্যতে আইন করে সব ধরনের কোচিং বন্ধ করা হবে। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তো দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছি। এখন রাষ্ট্রপতি বলার ফলে এই চেষ্টা আরও জোরদার হবে।’ তবে আসন্ন ভর্তি থেকে সেটি চালু হবে কি না, তা বলতে পারেননি শিক্ষামন্ত্রী।

সূত্র: প্রথম আলো

প্রিয় সংবাদ/ইতি/আশরাফ

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...