অন্ধকার থেকে আলোর উৎসমুখে যাত্রা ছিল ১৭৮৯ সালের মহান ফরাসী বিপ্লব। আর আলো থেকে অন্ধকারের দিকে উল্টো পুরানের দিন হলো ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর। ১৭৮৯-এর ১৪ জুলাই যে তমসাঘন বিশ্ব আলোর অভিমুখে যাত্রা করেছিল, তেমনি স্বাধীন ভারতবর্ষ এই ১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বর ইতিহাসের রথচক্রকে পিছনের দিকে ঘোরাতে শুরু করে। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে তাই ‘কালো রোববার’ হিসেবে ৬ ডিসেম্বর চিহ্নিত। এই দিনটি ফিরে এলেই হিন্দু সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী শিবির পৈশাচিক উন্মত্ততায় মেতে ওঠে। এই দিনটি তাই আমাদের কাছে স্বাধীন, সার্বভৌম ভারতবর্ষের সংবিধানের মূলস্তম্ভ ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’কে অসভ্য বর্বর সাম্প্রদায়িক শক্তি যেমন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়, তেমনই গণতন্ত্রপ্রিয়, ধর্মনিরপেক্ষ, দেশপ্রেমিক ভারতীয় নাগরিকের কাছে প্রবহমান ভারতবর্ষ, সমন্বয়ী সংস্কৃতির ভারতবর্ষ, আধুনিক বিজ্ঞানমনষ্ক ভারতবর্ষকে টিকিয়ে রাখার একটা মহতী চ্যালেঞ্জ হিসেবে ও একটা আলাদা মাত্রা নিয়ে আসে।

ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে প্রবহমান সমন্বয়ী সংস্কৃতির যে ভারতবর্ষকে ভেঙে টুকরো টুকরো করবার ঘৃণ্য অভিসন্ধি এ দেশে ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির নাটের গুরু আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ) এবং তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি গত পঁচিশ বছর আগে শুরু করেছিল। ভোটের রাজনীতি ও সামাজিক ভাজক রেখার জেরে সেই ধ্বংসাত্মক কাজে তারা এখন অনেকটাই সফল। সাড়ে ছয় বছর ধরে এনডিএ নামক একটি নীতিবিহীন সুবিধাবাদী জোটের নেতৃত্ব দিয়ে বিজেপি এই শতাব্দীর প্রথম ভাগে এ দেশে ক্ষমতাসীন ছিল। সেই সময়কালে সামাজিক মেরুকরণের একটা প্রক্রিয়া তারা প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে করতে শুরু করে দেয়। প্রশাসনের অভ্যন্তরে ওই সাড়ে ছয় বছরে তারা যে আরএসএসীয়করণ করেছিল, সেই বিষ পরবর্তীকালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার দু’দফায় দশ বছর ক্ষমতায় থেকেও এতটুকু নামাতে পারেনি।

ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পিছনে আরএসএসীয় হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তির মূল লক্ষ্য ছিল কৌশলগতভাবে গোপন রাখা কর্মসূচির মাধ্যমে তথাকথিত ‘হিন্দু রাষ্ট্রে’র দিকে ভারতবর্ষকে এগিয়ে দেওয়া। এই লক্ষ্যপূরণেই তাদের কর্মসূচি ছিল রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল। কংগ্রেসের নীতিহীনতা, দুর্নীতি, নরম সাম্প্রদায়িকতা এবং বিরোধী রাজনীতির ব্যর্থতা খুব অল্প সময়ের ভেতরেই রাষ্ট্রক্ষমতাকে করায়ত্ত করবার সুযোগ এনে দেয় আরএসএসের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপির হাতে। বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ভেতর দিয়ে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পিছনে হিন্দু সাম্প্রদায়িকদের যেসব উদ্দেশ্য ছিল সেগুলোর প্রয়োগের রাস্তা তাদের কাছে প্রসারিত হয়। এই সুযোগটা হিন্দু সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী শিবিরকে করে দেওয়ার ক্ষেত্রে দ্রাবিড় রাজনীতির ঘরোয়া কোন্দল, কুমারী জয়রাম জয়ললিতা, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসী রাজনীতির কোন্দল- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঊড়িষ্যাতে নবীন পট্টনায়কের আঞ্চলিক রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা ইত্যাদি প্রবণতা প্রচন্ড ইতিবাচক হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক দুনিয়াতে বিশ্বায়ন নামক সাম্রাজ্যবাদের বিবর্তিত রূপটি তখন আর নরসিংহ রাও বা উদার অর্থনীতির ভারতীয় রূপকার হিসেবে তার অর্থমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ওপর পরিপূর্ণ ভরসা রাখতে পারছিল না? তাই-ই কি জয়ললিতা, মমতা, নবীন পট্টনায়ক ইত্যাদিদের মতো আঞ্চলিক শক্তির ওপর ভর করে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসকারীদের প্রতিই তারা তাদের আস্থা স্থাপনে উৎসুক ছিল? আরএসএসের রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বিজেপির কাম্য হলো নাগপুরের কেশব ভবন নির্দেশিত তথাকথিত ‘হিন্দুরাষ্ট্র’। এই তথ্য তো মমতা থেকে জয়ললিতা কিংবা ফারুক আবদুল্লা থেকে নবীন পট্টনায়ক, কারও কাছেই অজানা ছিল না। তাহলে দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে এইসব আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো কেন এমন এক বৃহৎ রাজনৈতিক দলের হাত ধরল, যাদের মূল উদ্দেশ্য হলো- দেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ‘ধর্মনিরপেক্ষতাকে’ ধ্বংস করে দেওয়া? ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে যে ধ্বংসাত্মক দিকে ভারতকে ঠেলে দিতে চাইছিল হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি, তা একটা পরিণতির দিকে এগোতে থাকে বাজপেয়ী তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ফলে। আর সেই পরিণতির দিকে দেশকে ঠেলে দিতে নাগপুরীয় হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তির বিশেষ সহায়ক হিসেবে এআইডিএমকে, তৃণমূল কংগ্রেস, অসম গণপরিষদ, বিজু জনতা দলের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো বিশেষ রকম ভূমিকা পালন করেছিল।

এনডিএ জামানার সাড়ে ছয় বছর সময়ে প্রশাসনের ভেতরে নিরন্তর সাম্প্রদায়িক চেতনার প্রসারের চেষ্টা করে গিয়েছিল আরএসএস এবং তাদের হাজারও বর্ণের শাখা সংগঠনগুলো। রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়- যে রাজ্যেই সেই সময়কালে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, সেখানেই ঘটেছে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের চিন্তা চেতনার প্রসার ও প্রয়োগ। সার্বিকভাবে গোটা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সাম্প্রদায়িকীকরণের লক্ষ্যে এক অরাজক অবস্থার সৃষ্টি করেছিল আরএসএস এবং তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি। ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ভেতর দিয়ে ইতিহাসের চাকা পিছন দিকে ঘোরাবার যে ব্যর্থ চেষ্টা হিন্দু সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী শিবির শুরু করেছিল, তাকে একটা পূর্ণতা দিতে তারা ঘটায় গুজরাট গণহত্যা। সেদিনের গুজরাটকে হিন্দুত্ববাদী শিবির অভিহিত করেছিল ‘হিন্দুত্বের গবেষণাগার’ হিসেবে। গণহত্যার ভিতর দিয়ে ধর্মের নামে, জাতপাতের নামে সামাজিক বিভাজনের যে রাস্তা নিতে তারা শুরু করেছিল সেই রাস্তাকেই এখন পরিপূর্ণতা দিতে মোদির প্রধানমন্ত্রিত্বকালে আদা-জল খেয়ে নেমে পড়েছে আরএসএস-বিজেপি। নাগপুরীয় হিন্দুত্বের অস্মিতা দিয়ে আজ গোটা উত্তরভারতকে আড়াআড়িভাবে ভাগ করে দিয়েছে হিন্দু মৌলবাদী শক্তি।

‘সুদিন’ এর প্রত্যাশা জাগিয়ে মোদি দেশি-বিদেশি কর্পোরেট লবির আশীর্বাদ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় মোদির অতিক্রান্ত। কার্যকালের এই সাড়ে তিন বছর সময়ে ‘সুদিন’ এর বদলে যে ‘দুর্দিন’ মোদি দেশবাসীকে দিয়েছেন তা বিরোধী দলগুলো তো দূরের কথা, খোদ মোদির মূল চালিকা শক্তি আরএসএসের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে শুরু করে দিয়েছে। সেই চিন্তার ভাঁজকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে গুজরাট বিধানসভার আসন্ন নির্বাচন। পাঞ্জাবে একটি লোকসভার উপনির্বাচনে শোচনীয়ভাবে বিজেপি হেরেছে। বিধানসভার উপনির্বাচনগুলোতেও যে দশটি আসনে ভোট হয়েছিল তার ভেতর মাত্র পাঁচটি গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে। নোটবন্দী এবং জিএসটির কারণে গোটা দেশের মানুষের একটা বড় অংশ মোদির ওপর বেজায় খাপ্পা, এটা মোদির মূল চালিকা শক্তি আরএসএস খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে শুরু করেছে।

একটা সময় ছিল যখন কেবল মধ্যসত্ত্বভোগী ফড়েদের প্রতিনিধিত্ব করত বিজেপি। সেই কারণে অর্থনৈতিক আলোচনার পরিভাষাতে অনেকেই বিজেপিকে সম্বোধন করত ‘ট্রেডার্স পার্টি’ হিসেবে। কালক্রমে বিজেপির সেই সমর্থনের গন্ডিটা অনেক প্রসারিত হলেও সাবেক সমর্থকদের সমর্থনের দিকটা তাদের অক্ষুণ্ণই ছিল। নোটবন্দী ও জিএসটির কল্যাণে বিজেপির সেই ট্রাডিশনাল সমর্থনের দিকটা প্রায় সম্পূর্ণই টলে গেছে। মধ্যসত্ত্বভোগী ফড়ে সম্প্রদায়ের সমর্থনের সিংহভাগ এখন বিজেপির সঙ্গে নেই। এই অবস্থায় গুজরাটের ভোট তাই আরএসএস-বিজেপির কাছে একটু বেশি রকমের শিরঃপীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোদির ‘আচ্ছে দিন’ বটিকা দেশের মানুষদের তো দূরের কথা, মোদির নিজের রাজ্যের মানুষই গিলতে চাইছে না। দেশজুড়ে ভয়াবহ কৃষক বিক্ষোভ। মোদির নিজের রাজ্য গুজরাটে গত তিন বছর ধরে চলা পাতিদারদের সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলন, যার পেছনে পাতিদারসহ বিভিন্ন দলিত, পিছড়েবর্গের বঞ্চনার করুণ ইতিহাস, বিধানসভার ভোটের আগে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে মোদি ও তার সতীর্থদের কপালে। তাই আরএসএস এবং তাদের রাজনৈতিক সংগঠনের কাছে এখন ‘ফিরে চল মাটির টানে’র মতো রামমন্দিরের বস্তাপচা ইস্যুটিকেই আবার শিয়ালের কুমির ছানা দেখাবার মতো করে বের করা ছাড়া বাঁচবার আর কোনো রাস্তা নেই।

সুপ্রিম কোর্টে ৫ ডিসেম্বর থেকে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের জমির ফয়সালা সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। এর আগে অবশ্য হঠাৎই স্বঘোষিত ধর্মগুরু রবিশঙ্কর নিজের থেকেই সমস্যা সমাধানে মধ্যস্থতা করবার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার সেই মধ্যস্ততার প্রস্তাব বিবাদমান কোনো পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়নি। এই অবস্থায় সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত রামমন্দির নির্মাণের হুমকি দিয়েছেন। তার আগে আরএসএসের প্রতিষ্ঠা দিবস বিজয়া দশমীর দিন বাৎসরিক বক্তৃতায় কল্পকাহিনি এবং জাত্যাভিমানের অস্মিতাকে যে আগামীদিনের কর্মসূচিতে সঙ্ঘ আরও বেশি গুরুত্ব দেবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন মোহন ভাগবত। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের মনে দেশপ্রেমের আবেগের নাম করে মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর বিদ্বেষকে যে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলবে সঙ্ঘ তা ভাগবতের ওই বক্তৃতার ভেতর দিয়েই পরিষ্কার হয়ে গেছে।

কাশ্মীরের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিক কুশক বাকুলা রেনপোছেকে ঘিরে একটা আবেগ তৈরি করতে চাইছে আরএসএস। ভাগবতের বিজয়া দশমীর বক্তৃতাতেই তাদের সেই অভিসন্ধিটা পরিষ্কার হয়েছে। গৌতম বুদ্ধের ষোলজন প্রত্যক্ষ শিষ্যের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বকুল অর্হত। ভাগবত তার বক্তৃতার ভেতর দিয়ে বলতে চেয়েছেন একদা জম্মু কাশ্মীর বিধানসভার সদস্য, পরবর্তী সময়ে লোকসভার সদস্য, মঙ্গোলিয়াতে ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব সামলানো, বাজপেয়ী জামানায় ২০০১ সালে মঙ্গোলীয় নাগরিক সম্মান ‘পোলার স্টার’ প্রাপ্ত কুশক বাকুলা হলেন বকুল অর্হতের অবতার। ভাগবতের দাবি, এই অবতারত্বে বিশ্বাস করেন গোটা হিমালয়ের বৌদ্ধরা। এই রকম একটি পরিস্থিতির ভেতর দিয়েই কর্ণাটকের উদুপি শহরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ আয়োজিত ধর্মসংসদে ভাগবতের ঘোষণা; অযোধ্যায় ভেঙে ফেলা ধ্যাঁচার (হিন্দুত্ববাদীরা ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদকে স্বীকার না করে সেটিকে অভিহিত করে 'ধ্যাঁচা', অর্থাৎ বিতর্কিত কাঠামো হিসেবে) জমিতেই মন্দির তৈরি হবে।

এখানেই শেষ নয়। আরএসএসের শাখা সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (বাজপেয়ী, আডবাণী থেকে শুরু করে বিজেপির বর্তমান প্রজন্মের নেতারাও কার্যত ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভাঙার দায়ভার এই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ওপর চাপিয়ে বিজেপিকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে চান) আন্তর্জাতিক যুগ্ম সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন কর্ণাটকের উদুপির ওই ধর্ম সংসদে ঘোষণা করেছেন, আগামী ২০১৮  সালের ১৮ অক্টোবর থেকে রামমন্দির তৈরির কাজ শুরু হবে। জৈন আরও ঘোষণা দিয়েছেন, এক বছরের ভেতরেই মন্দির তৈরির কাজ শেষ করে আমরা ২০১৯ সালের ধর্মসংসদ অযোধ্যাতেই বসাব।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে অসভ্য বর্বর হিন্দু সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী শিবির যে ধ্বংসাত্মক দিকে গোটা দেশকে ঠেলে দিতে চেয়েছিল, সেই কাজে যে তারা অনেকখানি সফল হয়েছে তা এই তথাকথিত ধর্মসংসদে মোহন ভাগবতের আস্ফালন এবং সুরেন্দ্র জৈনের রামমন্দির তৈরির সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। প্রথম দফায় বাজপেয়ী জামানার সাড়ে ছয় বছর এবং বর্তমানে মোদির সাড়ে তিন বছরে সুপরিকল্পিত দাঙ্গা, গণহত্যা, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ, সামাজিক বিভাজনের ভিতর দিয়ে আরএসএস, বিজেপি, ভিএইচপি, বজরং দল ইত্যাদি গোটা সঙ্ঘ পরিবার সারাদেশে ধর্মান্ধ ফ্যাসিবাদী প্রবণতাকে একটা ভয়াবহ জায়গাতে নিয়ে গিয়েছে। গুজরাটসহ আসন্ন বিধানসভার ভোটগুলোতে জেতার জন্যে রামমন্দিরের নামে আবার রক্তের হোলির পৈশাচিক নেশাতে মেতে উঠেছে গোটা হিন্দুত্ববাদী শিবির। কারণ গোটা দেশে ব্যাপক মোদি ও মোদি সরকার বিরোধী ক্ষোভ। জাতীয় স্তরের গণমাধ্যমগুলো গত বেশ কয়েকদিন ধরে যেভাবে রাহুল গান্ধীকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তাতে সাম্প্রদায়িক শিবির আতঙ্কিত। তাদের মনে এই আশঙ্কা উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কী দেশি- বিদেশি বহুজাতিকদের আর আগের মতো মোদির প্রতি আস্থা নেই? হিন্দু সাম্প্রদায়িক শিবির তাই ইতোমধ্যেই বেশ চিন্তিত আগামী ২০১৯ সালের লোকসভার ভোট নিয়ে। তাই এই মুহূর্তে প্রতিটি ধর্মনিরপেক্ষ, গণতন্ত্রপ্রিয়, দেশপ্রেমিক নাগরিকের আশু কর্তব্য এই ধর্মান্ধ ফ্যাসিবাদী প্রবণতার হাত থেকে দেশকে বাঁচানো।

গৌতম রায়: প্রাবন্ধিক। পেশায় অধ্যাপক, গবেষক। দীর্ঘদিন অন্নদাশঙ্কর রায়ের সাহিত্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।