অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় ইইউ: মির্জা ফখরুল

১৪ ফেব্রয়ারি, বুধবার রাতে ইইউর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল এ কথা বলেন।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, সময় - ২৩:২০

বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। ছবি: প্রিয়.কম

(‌প্রিয়.কম) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

১৪ ফেব্রয়ারি, বুধবার রাতে ইইউর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল এ কথা বলেন।

বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে ইইউ কী বলেছে জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, ‘তাদের ব্রিফিংয়েও তারা বলেছেন বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন তারা দেখতে চায়। সব দল অংশ নিক, এটা তারা চায়। ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারে, তাদের মতামত যেন প্রকাশ করতে পারে, সে বিষয়টা সম্পর্কে পরিষ্কার করে তারা বলেছে।’

‘আগামী নির্বাচনে প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য নির্বাচন কমিশন তাদেরকে (ইইউ) চিঠি দিয়েছে। তারা প্রতিনিধি পাঠাবেন কি পাঠাবেন না, সিদ্ধান্ত নেবেন। সাধারণত প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন না হলে তারা প্রতিনিধি পাঠান না। গতবারও তারা পাঠাননি। সুতরাং এই বিষয়গুলো খুব পরিষ্কার যে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর গোটা পৃথিবীর যে প্রতিক্রিয়া ছিল, তারা বলেছিল, এটা একটা ফ্রড ইলেকশন (প্রতারণার নির্বাচন) হয়েছে। নির্বাচনটা গ্রহণযোগ্য ছিল না। তারা এখনো আশা প্রকাশ করে ইনক্লুসিভ (সব দলের অংশগ্রহণে) নির্বাচন হবে।’

খালেদা জিয়ার কারাবরণ দেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অন্তরায় কি না জানতে চাইলে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘আমরা আমাদের আলোচনাটা করেছি। যে আলোচনা হয়েছে, তার ডিটেইলস আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারছি না। কিছু মনে করবেন না, এটা সম্ভব না।’

জিয়া অরফোনেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় আগামী নির্বাচনে অন্তরায় হবে কি না, সে বিষয়টা ইউরোপীয় ইউনিয়ন খতিয়ে দেখছে বলে মন্তব্য করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘একটা জিনিস আপনাদেরকে বুঝতে হবে, বেশির ভাগ পশ্চিমা দেশগুলো আইন, আইনের শাসন, বিচার, বিচার বিভাগ ও রায়-এগুলোর বিষয়ে নিজস্ব নর্মস-ভ্যালু (রীতি-নীতি) পোষণ করে। তাদের পক্ষে বাংলাদেশের বিষয়গুলো বুঝতে কষ্ট হয়, বেগ পেতে হয়। তাদের যে কালচার আর আমাদের দেশের যে অবস্থা, তারা তা মেলাতে পারে না। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। এ কারণে হয়তো বা তারা দেখছে, বলছে আমরা অবজার্ভ (পর্যবেক্ষণ) করছি।’

প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক এক ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহবুবুর রহমান, ড. আবদুল মঈন খানমির্জা আব্বাসনজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনাম আহমেদ চৌধুরী, রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল কাইয়ুম, বিশেষ সম্পাদক  ড. আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ। 

বাংলাদেশ সফররত দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জিন ল্যামবার্টের নেতৃত্বে ইইউ প্রতিনিধি দলে ছিলেন জেমস নিকোলসন, রিচার্ড করবেট, ওয়াজিদ খান ও সাজ্জাদ করিম।

এর আগে মঙ্গলবার বিদেশি কূটনৈতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল বিএনপি। বৈঠকে খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেছেন বিএনপি নেতারা।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ/আজহার

 

 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট
জনপ্রিয়
আরো পড়ুন