বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

দ্রুতই কারামুক্তি মিলছে না খালেদা জিয়ার

কেউ বলছেন চারটি, কেউ ছয়টি, আবার কেউ বলছেন কারামুক্ত হতে তিন মামলায় জামিন নিতে হবে খালেদা জিয়াকে।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ মে ২০১৮, ১৩:২৮ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০২:০০


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন পেলেও এ মুহূর্তে কারামুক্তি মিলছে না বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। কারণ তার বিরুদ্ধে কুমিল্লা, নড়াইল, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও তেজগাঁওয়ে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। যে মামলাগুলোতে খালেদা জিয়া এখনো জামিন পাননি। তবে কারামুক্তি পেতে কতটি মামলায় তাকে জামিন নিতে হবে, তার সঠিক পরিসংখ্যান দিতে পারেননি খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

মামলার হিসাব নিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা ভিন্ন রকম বক্তব্য দিচ্ছেন। কারো মতে চারটি, কেউ বলছেন ছয়টি, আবার কেউ বলছেন কারামুক্ত হতে তিন মামলায় জামিন নিতে হবে খালেদা জিয়াকে। 

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএন‌পির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। যেগুলো মামলায় জামিন হয়নি সেগুলোতে জামিন করাতে হবে, তবে আমি বিশ্বাস করি সরকার যদি কোনো অশুভ চক্রান্ত না করে তাহলে তিনি (খালেদা জিয়া) অবশ্যই কারামুক্ত হবেন।’

কতগুলো মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘তিনটি মামলায় (নড়াইলে একটি ও কুমিল্লায় দুটি) তাকে জামিন নিতে হবে। নড়াইলে মানহানির অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলাটি দায়ের করা আছে, সেটি জামিনযোগ্য অপরাধ।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে আরও ছয়টি মামলায় জামিন নিতে হবে। আমাদের তো একটা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগুলো সম্পন্ন করতে হবে। সুতরাং সেই জামিনগুলো পাওয়ার পরে খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন এবং খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবেন।’

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন বলেন, ‘মুক্তি পেতে ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) আরও চার মামলায় জামিন নিতে হবে। কুমিল্লায় দুটি, নড়াইলে একটি, যাত্রাবাড়ীতে একটি মামলা রয়েছে, যেগুলোতে তিনি জামিন পাননি। এ চারটি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।’

চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে আটজনকে হত্যার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলা সেটি কুমিল্লার আদালতে বিচারাধীন। রাজধানীর যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা ছুড়ে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা ঢাকার আদালতে বিচারাধীন। আর নড়াইলে মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। 

এর আগে সকালে খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রেখেছে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চ।

একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত ও সাজার মেয়াদ বৃদ্ধিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক দুটি আপিল খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

এ ছাড়া আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চকে আপিল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।

আদালতে উপস্থিত ছিলেন—দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশিবাজারের অস্থায়ী আদালতের বিচারক ড. আকতারুজ্জামান। মামলার অপর আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয় আদালত।

রায় ঘোষণার পর থেকেই পুরান ঢাকার নাজিমুউদ্দিন রোডের কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। তিনি ১০৩ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। রায়ের বিরুদ্ধে ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া। একইসঙ্গে জামিনও চান বিএনপির চেয়ারপারসন।

পরে খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। শুনানি শেষে আদালত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে এ মামলায় চার মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়।

১৩ মার্চ খালেদার জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বারে আবেদন করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি শেষে ১৪ মার্চ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেন এবং আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ১৪ মার্চ দিন নির্ধারণ করেন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী

এরপর ১৪ মার্চ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ১৮ মার্চ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল করতে আদেশ দেয়।

১৯ মার্চ এ মামলার শুনানি করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল গ্রহণ করে আপিল বিভাগ। পাশাপাশি ৮ মে পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করে আদালত। গত ৮ মে ও ৯ মে আপিল বিভাগে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরেন দুদক, রাষ্ট্রপক্ষ এবং খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবীরা।

এরপর রায়ের জন্য ১৫ মে দিন ধার্য করে আদালত। গতকাল সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে আদালতের এজলাসে বসেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ চার বিচারপতি। পরে বেলা ১২টায় শুনানি করতে সময় নির্ধারণ করে আদালত।

বেলা ১২টায় আবার শুনানি শুরু হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত শুনানি করেন। দুপুর ১টায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে রায়ের জন্য বুধবার দিন নির্ধারণ করেন।

প্রিয় সংবাদ/শিরিন/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
ট্রেন্ডিং