সাধারণত পাহাড়ি বনাঞ্চলে বেশি জন্মে বৈলাম গাছ। সংগৃহীত ছবি

বিলুপ্তির পথে বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ বৈলাম

সাধারণ জ্ঞানের বইয়ে জনপ্রিয় প্রশ্ন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গাছে কোনটি? এর উত্তরে পাওয়া বৈলাম বৃক্ষ এখন বিলুপ্তির পথে। গবেষকদের আশঙ্কা আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে দেশ থেকে হারিয়ে যাবে এই গাছ।

জাহিদুল ইসলাম জন
জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক, নিউজ এন্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স
প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০১৭, ১১:১১ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২০:৪৮
প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০১৭, ১১:১১ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২০:৪৮


সাধারণত পাহাড়ি বনাঞ্চলে বেশি জন্মে বৈলাম গাছ। সংগৃহীত ছবি

(প্রিয়.কম) সাধারণ জ্ঞানের বইয়ে জনপ্রিয় প্রশ্ন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গাছে কোনটি? এর উত্তরে পাওয়া বৈলাম বৃক্ষ এখন বিলুপ্তির পথে। গবেষকদের আশঙ্কা আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে দেশ থেকে হারিয়ে যাবে এই গাছ।

চট্টগ্রাম বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমানের গবেষণা ও আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা, বাংলাদেশ (আইইউসিএন) প্রকাশিত এক জরিপে জানা গেছে দেশে এখন ২৪ টি বৈলাম বৃক্ষের অস্তিত্ব রয়েছে।

ওই জরিপে দেখা গেছে বৈলামে মতো ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের ১২৮ প্রজাতির গাছ। আর এরই মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে ৬৯ প্রজাতির গাছ।

বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের দেওয়া তথ্য মতে দেশের টিকে থাকা ২৪ টি বৈলাম বৃক্ষ এখন রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানের রুমা বাজার ও কক্সবাজার জেলার ডুলাহাজরা বোমারীঘোনা এলাকায়। এখনই সংরক্ষন করতে না পারলে ১০ বছরের মধ্যে হারিয়ে যাবে এই গাছ। কেন হারিয়ে যাচ্ছে এই গাছ? এমন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. রফিকুল হায়দার দাবি করেছেন, অপরিকল্পিত জুম চাষ এজন্য দায়ী। জুম চাষের জমি তৈরি করতে গিয়ে নির্বিচারে গাছ পোড়ানোয় ঝুঁকির মুখে পড়েছে এই গাছ।

সাধারণত বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকায় জন্ম নেয় বৈলাম গাছ। ২৪০ ফুটের চেয়েও বেশি উচু হওয়া এই গাছ চিরহরিৎ বনাঞ্চলে বেশি দেখা যায়। তবে এই গাছ রক্ষায় বন অধিদফতরের কোনো উদ্যোগ নেই। বরং তারা এটিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনে গবেষণায় তিনি বাংলাদেশে পাঁচ হাজার ৭০০ প্রজাতির উদ্ভিদের অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন। তার মতে,  এর মধ্যে ৬৯ প্রজাতি বিলুপ্ত আর বিপন্ন ১২৮ প্রজাতি।' তার এই তথ্য সমর্থন করেছেন বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তা (বন ব্যবস্থাপনা উইং) ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ (আইইউসিএন)-এর জরিপও।
বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া গাছ: বাঁশপাতা গাছ, সুগন্ধী জাতীয় ধূপগাছ, লতাজাতীয় লতাবাঁশ, তমাল গাছ, ভাদি গাছ, গাব গাছ, ডাইস পাইরোস, হলদু (এডিনা কোর্ডিফোলিয়া) নাগেশ্বর, পুঁতিজাম, ডাকরুম, নারিকেলি, সিবিট গাছ, পেটের পীড়ার প্রতিষেধক শ্যামলতা ও গন্ধ ভাদালী, ঔষধি গাছ আপাং, ধনন্তরী ওষুধ অনন্তমূল ও অন্তমূল, কোয়াশিয়া সিনকোনা, (যা থেকে কুইনাইন তৈরি হয়) যষ্টিমধু, (কুচ) গজপিপলু, কালধুতুরা (মানসিক রোগের জন্য উপকারী), শালপানি, শতমূলী, নিটাম, ভূঁইকোমড়া, সর্পগন্ধা ও ব্রাহ্মি। এছাড়া বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া গাছগুলোর মদ্যে রয়েছে মুলত গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। নির্বিচারে নিধন এই বিলুপ্তির কারণ বলে মনে করেন গবেষকরা।
বিপন্ন ২০ প্রজাতির গাছ : ৬৯ বিলুপ্ত প্রজাতির পথ ধরে বর্তমানে বিপন্ন আরও ২০ প্রজাতির গাছ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো_ বৈলাম বৃক্ষ, কুকুরের কামড়ের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত ঔষধি বৃক্ষ ডরিয়াম পুত্রংজীবা, বান্দরহোলা, ধলিগর্জন, বন আমড়া, চাপালিশ, ধারমারা, গিলাবাটন, জাওয়া বা বেরুলা, গোদা বৃক্ষ, কনক, মোচ, পারুল, বাজনা, বরুন, টিম্বার হিসেবে একসময়ের সর্বাধিক ব্যবহৃত পিতরাজ, শিলবাদী, টালি, উদাল ও বক্স বাদাম।

সূত্র: সমকাল

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...