নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের নামে চাঁদাবাজি!

জেনারেল ম্যানেজারের নির্দেশে টাকা তোলা হচ্ছে বলে জানান উত্তোলনকারীরা। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন, তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।

এম.এ ওয়াদুদ মিয়া
কন্ট্রিবিউটর, শরীয়তপুর
১৩ জানুয়ারি ২০১৮, সময় - ০৯:৫৮

শরীয়তপুরের মানচিত্র।

(প্রিয়.কম) শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আবুড়া গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার নামে মোটা অংকের টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। সেখানে ১৭০টি পরিবার থেকে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিকন্দী ইউনিয়নের আবুড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদ মাদবর, লিজা বেগম, মাকসুদা বেগম, সিকজান বেগম, আলকেছ খান ও ফরিদা বেগমের সাথে কথা বলে জানা যায়, শরীয়তপুরের আবড়া গ্রামের স্থানীয় প্রভাবশালী শাহ আলম চোকদার, নান্নু মাদবর ও হাজী মোছলেম মাদবর। তারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার সোহরাব আলী বিশ্বাসের নির্দেশ ক্রমেই বিদ্যুৎ লাইনের জন্য ১ হাজার টাকা চাঁদা তুলছেন বলে জানায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চিকন্দী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আবুড়া গ্রামের ১৭০ পরিবারকে বিদ্যুতের আওতায় আনার জন্য শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি একটি প্রকল্প হাতে নিয়ে ছিলেন। সেই প্রকল্প অনুসারে বিদ্যুতের লাইন টানার জন্য খুঁটি বসানোর কাজ চলছে। আর এই খুঁটি বসানোর নাম করে স্থানীয় প্রভাবশালী শাহ আলম চোকদার, নান্নু মাদবর ও হাজী মোছলেম মাদবর এলাকায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন।

এ নিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় নূর মোহাম্মদ মাদবর, আবদুর রহিম সরদারের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, ‘নতুন বিদ্যুৎ লাইন এনে দেবার কথা বলে শাহ আলম চোকদার, নান্নু মাদবর ও হাজী মোছলেম মাদবর আমাদের কাছে ১ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছে। আমরা তাদের কথা বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে শাহ আলম বলেন, ‘বিদ্যুতের লাইন এনে দেয়ার কথা বলে কিছু খরচ তোলা হয়েছে। কিন্তু এলাকাবাসী যে পরিমাণ টাকার কথা বলছে সে পরিমাণ টাকা তোলা হয়নি।’

হাজী মোছলেম মাদবরের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘টাকা যা তোলার শাহ আলম তুলেছে। আমি কেবল টাকা তোলার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছি মাত্র। কিন্তু কতো টাকা তুলেছে তা আমরা জানি না।’

চিকন্দী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার তমিজ খান বলেন, ‘বিদ্যুতের নতুন সংযোগ দেয়ার কথা বলে শাহ আলম চোকদার, নান্নু মাদবর ও হাজী মোছলেম মাদবর এলাকাবাসীর কাছ থেকে ১ হাজার করে টাকা তুলেছেন তা আমি জানি। কিন্তু কতো টাকা করে তুলেছে তা জানি না।’

১১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মুঠোফোনে চিকন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল মুন্সি বলেন, ‘আমি ব্যাপারটি জানি না। আর এ ব্যাপারে আমার কাছে কেউ সালিশ নিয়ে আসেনি। আসলে আমি ব্যাপারটি দেখব।’

বিষয়টি নিয়ে ১১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার সোহরাব আলী বলেন, ‘আবুড়া গ্রামের শাহ আলম চোকদার, নান্নু মাদবর ও হাজী মোছলেম মাদবর শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কোন প্রতিনিধি নয়। তাদেরকে আমি চিনি না। তারা যে আমার নাম করে চাঁদা তুলছে তা আমি এই প্রথম শুনলাম। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রিয় সংবাদ/শিরিন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
জনপ্রিয়