(প্রিয়.কম) শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে ইকবাল হোসেন ফকির (২৫) নামে এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছে। এ সময় সংঘর্ষে ২০ জন গুলিবিদ্ধসহ আরো ৪০ জন আহত হয়েছেন। 

১১ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ১২ আগস্ট শনিবার পর্যন্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক এহসানুল ইসলাম বলেন, 'ইকবাল নামে এক যুবককে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে তার স্বজনরা। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই সে মারা যায়। ময়নাতদন্তে তার শরীররে থেকে ৬৫টি ছোড়া গুলি পাওয়া যায়।' 

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আসলাম উদ্দিন বলেন, 'আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধে। এতে ইকবাল হোসেন ফকির নামে একজন নিহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।'

এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সিরাজ মোল্লা (৫০), সোহরাব ব্যাপারী (৫০), জাহাঙ্গীর হোসেন মীর বহর (৩৬), পারভেজ ব্যাপারী (২০) ও নীরব ব্যাপারী (১৮)। 

নড়িয়া থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাকির হোসেন গাজীর সঙ্গে একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি দাদন মীরবহর ও সাবেক চেয়ারম্যান আলী উজ্জামান মীর মালত গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। আর সেই বিরোধের জের ধরে গত ১ বছর তাদের মধ্যে অন্তত ২০ বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ২০০ শতাধিক লোক আহত হয়।

রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন মো: জাকির গাজী বলেন, 'আমার দলের তিন জন দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফিরছিল। তখন দাদন মীরবহর ও আলী উজ্জামান মীরমালতের সমর্থকরা তাদেরকে মারধর করে। এরপর আমার সমর্থক হাবু মোল্লার বাড়ি ভাংচুরসহ তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ে। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়।'

রাজনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দাদন মীর বহরের বলেন, 'চেয়ারম্যান জাকির গাজীর লোকজন আমার সমর্থকদের উপর হঠাৎ করে হামলা চালায় এবং দোকান পাট লুটপাট করে। তাদের হামলায় আমার সমর্থক যুবলীগ নেতা ইকবাল ফকির গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।'

প্রিয় সংবাদ/সজিব