ছবি: সংগৃহীত 

(প্রিয়.কম) যেখানে শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর, সেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা স্বত্তেও অনেকেই বছরের পর বছর ভুয়া, জাল সনদের মাধ্যমে চাকরি করে যাচ্ছে এক শ্রেণির শিক্ষক নামের প্রতারক চক্র। আর এসব শিক্ষকরা কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছেন সরকারের কোটি কোটি টাকা। 

জানা গেছে, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে গত বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের সনদ যাচাই করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর (ডিআইএ) ৩৭৬ ভুয়া সনদধারীর তালিকা জমা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদফতরে। এই শিক্ষকরা ভুয়া সনদ ব্যবহার করে সরকারের কোষাগার থেকে সাড়ে ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

অন্যদিকে সারা দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সনদ যাচাই করতে গিয়ে গত দেড় বছরে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে ৫৫৬ শিক্ষকের সনদ জালের প্রমাণ পায় পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর। এর মধ্যে ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন রয়েছে ৩৬৭ জনের, কম্পিউটার সনদ ভুয়া ১৪৭ জনের এবং বিএডের ভুয়া সনদধারী রয়েছেন ৪২ জন। ভুয়া শিক্ষকরা বেতন-ভাতা হিসেবে সরকারের কোষাগার থেকে ১৫ কোটি ৭১ লাখ ৪১ হাজার ৭০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।  

উল্লেখ্য, সম্প্রতি এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে  তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ভুয়া সনদধারী এসব শিক্ষকের যাবতীয় তথ্য জানতে চেয়ে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের পরিচালক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

ডিআইএ সূত্র জানায়, দুদকের চাহিদা মোতাবেক ভুয়া সনদধারী শিক্ষকদের যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। জাল সনদে ৫৫৬ শিক্ষকের নিয়োগসংক্রান্ত সব কাগজপত্র, ডিআইএ কর্তৃক নিরীক্ষা প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রসহ বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছিল দুদকের পক্ষ থেকে। একই চিঠিতে মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুর জেলায় ভুয়া সনদে চাকরিরত শিক্ষকদের ব্যাপারেও নানা তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন 

প্রিয় সংবাদ/ইতি/কামরুল