(প্রিয়.কম) বাবা মেয়ের সম্পর্কটাই অন্যরকম। কথিত আছে প্রায় প্রতিটি পরিবারের ক্ষেত্রে দেখতে পাওয়া যায় বাবার প্রতি টান থাকে মেয়ের। আর মায়ের প্রতি টান থাকে ছেলেদের। আর এটা একজন অভিনেতা নয়, বাবা-কন্যার ভালোবাসার গল্প বলছি আজ। সেই গল্পের বাবা হলেন অভিনেতা টনি ডায়েস এবং মা প্রিয়া ডায়েস। আর তাদের একমাত্র কন্যা অহনা ডায়েস। অহনা একমাত্র সন্তান হওয়াতেই বাবা আর মায়ের দুজনেরই ভালোবাসা পাচ্ছেন বেশ। তবে তার বাবা’র প্রতি টানটাই একটু বেশি মনে হয়। কারণ ওই যে বাবাদের প্রতি কন্যাদের টান বেশি থাকে। এটা বোধায় প্রকৃতির নিয়ম।

জন্মদিনে বাবার সঙ্গে নাচছে মেয়ে অহনা। ছবি: সংগৃহীত।

যাইহোক, অনেকটা শিল্পীর সুরে ঝংকারিত এসেছে ‘কাটেনা সময় যখন আর কিছুতে, মনে হয় বাবার মত কেউ বলেনা আয় খুকু আয়’ গানের কলিগুলোতে কেবল বাবার ভালোবাসাই চিত্রিত হয়েছে। মানুষ বয়সে কিংবা আকৃতিতে যত বড়ই হোক বাবার কাছে সে সেই ছোট্ট শিশুটি। মাতৃগর্ভ থেকে সন্তান পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হওয়ার পর প্রথমবারের মত বাবা যখন সন্তানের মুখ দেখে কিংবা কোলে তোলে সেদিনের সেই অনুভব সন্তানের প্রতি বাবার শেষদিন পর‌্যন্ত অবশিষ্ট থাকে। কালের প্রবাহে দুর্বল শিশুটি পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের দায়িত্ব কাঁধে তুললেও সে তার পিতার কাছে সব সময় শিশুর আসনে। বাবার চোখে কিংবা মনে সন্তানের বাড়ন্ত রূপটি কখনোই ধরা পড়েনা।

বাবা-কন্যার হাত যেন থাকে একসঙ্গে চিরদিন। ছবি: সংগৃহীত।

বাবা তার দায়িত্ব ও পিতৃত্বসূলভ আচরণ তার জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বহাল রাখতে চান। সময়ের পরিবর্তনে বাবাও একদিন সন্তান নির্ভর হয়ে পড়ে ঠিক, কিন্তু বাবা সব পরিবেশেই বাবা। সন্তানের প্রতি বাবার এ দায়িত্ববোধ এবং প্রকৃতি সৃষ্ট ভালোবাসা তাকে দিয়েছে মহত্বের স্থান। কোন পুরুষকে বাবা হতে হলে তার মধ্যে অনেকগুলো বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন। যিনি জন্মদান করেন তিনি সব সময় ভালো বাবা হতে পারবেন এমন নিশ্চয়তা থাকে না। জন্মদাতা আর আদর্শ বাবার মধ্যে রয়েছে বিশাল পার্থক্য। যে পার্থক্য আকাশ ও জমিনের মধ্যকার দূরত্বকেও হার মানায়। 

যিনি শত-সহস্র ঝড়-ঝাঞ্ঝা নিরবে সহ্য করতে রাজি কিন্তু তার সন্তানদের প্রতি অতি ক্ষুদ্র আঘাত কিংবা কষ্টের ছিটেফোঁটা লাগাতেও নারাজ। দাম্পত্যের সুখ জলাঞ্জলি দিয়ে অনেক বাবা তার সন্তানদের ভালো রাখতে নিরলস পরিশ্রম করেন। নিজের শরীর আবৃত কিনা সেদিকে তার সামান্যতম খেয়াল নাই কিন্তু সন্তানের শরীর উন্নত ও দামি পোশাকে মুড়িয়ে রাখতে সদা ব্যস্ত। নিজে না খেয়ে ভাগের সকল খাদ্য ছেলের পাতে তুলে দিতে যিনি এতটুকু কার্পণ্য দেখাননি কোনদিন তিনিই বাবা। জীবন-যৌবনের সকল সুখ-শান্তির ত্যাগ করে শুধু সন্তানদের ভবিষ্যত তৈরি করতে যিনি সকাল থেকে রাত আবার রাত থেকে সকাল পর্যন্ত খেটে যান তিনিই শ্রদ্ধেয় বাবা। শরীরের রক্ত পানি করে বাবা তার সন্তানের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যত এঁকে দিয়ে যান। বাবা ত্যাগের দর্শন গ্রহণ করে সন্তানকে ভোগের নিশ্চয়তা দিতে সদা বদ্ধপরিকর।

বাবা-মায়ের সঙ্গে মধ্যমনি অহনা। ছবি: সংগৃহীত।

তবে কজন বাবা পারেন তার সন্তানের বন্ধু হতে? অনেক পাঠকই বোধয় বলবেন বাবা সন্তানের বন্ধু হবার কী আছে? তাদের জন্যই বলছি। হ্যাঁ একজন বাবা সন্তানের বন্ধু হতে পারলেই সেই সন্তান মানুষের মতো মানুষ হবে। বিশেষ করে যদি সন্তানকে ভালোবাসা শেখানো যায় তাহলে তো আর কোন কথায় নেই। এরকম ভালোবাসাই অভিনেতা টনি ডায়েস ও তার কন্যা অহনার জন্য। মেয়েও অবশ্য কম না, নিজের বাবার প্রতি ভালোবাসা তার সীমাহীন। আর মেয়ে যখন সুইট সিক্সিটিনে মানে ১৬ বছরে পা রাখেন তাহলে তো আর কথায় নেই। মেয়ে বড় যাচ্ছে ধীরে ধীরে। অহনার সেই সুইট সিক্সিটিনের দিন টনি ডায়েস বলেছিলেন, ‘আমাদের অহনা হাঁটি হাঁটি পা পা করে ১৬ বছরে পড়লো। হ্যাঁ SWEET SIXTEEN celebration. গতকাল রবিবার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব সবাই এক হয়েছিল অহনাকে আশীর্বাদ করার জন্য। সবাই অনেক হৈচৈ আর আনন্দ করলো, মেয়েটা সবার মনও জয় করে নিল। এত আনন্দের পাশাপাশি কোথা থেকে যেন নিজের অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসছিল। কিছুই করার নেই এটাইতো জীবন, সামনে এগিয়ে যাওয়া। অনেক বড় হও মামুনি।’

টনি ডায়েস ও প্রিয়া ডায়েসের একমাত্র কন্যা অহনা। ঠিক যেন রাজকন্যা। ছবি: সংগৃহীত।