(প্রিয়.কম) নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর ভারতে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে এবার দেশটির ব্যাংকিং খাতে বড় ধরণের পরিবর্তন অসতে যাচ্ছে। বর্তমানে ভারতে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের সংখ্যা ২১টি। নরেন্দ্র মোদি এ সংখ্যাকে ১০ থেকে ১২ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান। 

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলি আগেই এ ধরনের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন। ভারত সরকার চাইছে, বড় বড় সফল রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ছোট ও অসফল ব্যাংকগুলোকে সংযুক্ত করে দিতে। 

ইতোমধ্যেই ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (এসবিআই) সঙ্গে আরও আরও ছয়টি ব্যাংক সংযুক্ত হয়েছে। গত ১ এপ্রিল এসবিআইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে স্টেট ব্যাংক অফ বিকানির অ্যান্ড জয়পুর, স্টেট ব্যাংক অফ ত্রিবাঙ্কুর, স্টেট ব্যাংক অফ পাটিয়ালা, স্টেট ব্যাংক অফ মাইসোর, স্টেট ব্যাংক অফ হায়দরাবাদ এবং ভারতীয় মহিলা ব্যাংক। 

নতুন এ ছয়টি ব্যাংকের সংযুক্তির ফলে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বিশ্বের সেরা ৫০টি ব্যাংকের তালিকায় ঢুকে পড়ল। ব্যাংকটির মোট গ্রাহক এখন ৪২ কোটিরও বেশি আর মার্কেট শেয়ার ২৩.০৭ শতাংশ। 

ব্যাংক সংযুক্তিতে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সাফল্য দেখেই এ খাতে এরকম আরও পরিবর্তন চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার।

জানা গেছে, আঞ্চলিকভাবে সফল পঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্ক এবং অন্ধ্র ব্যাংক যেমন রয়েছে তেমন থাকবে। বাকি ব্যাংকগুলোর সংযুক্তিকরণ হবে। 

সি রঙ্গরাজন যখন রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) গভর্নর ছিলেন তখনই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের তিনটি স্তরের ভাবনা শুরু হয়। সেই সময়ই আরবিআই প্রধান বলেছিলেন, দেশে সরকার নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকের তিনটি স্তর থাকবে। বড়, ছোট এবং স্থানীয়।

ঠিক কেমন হতে পারে এই সংযুক্তিকরণ? জানা গেছে, দেশের তিনটি অপেক্ষাকৃত বড় ব্যাংক পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, ব্যাংক অফ বরোদা, কানাড়া ব্যাংকের সঙ্গে মিশে যাবে আরও কিছু ব্যাংক। তবে কোন ব্যাংক কোনটার সঙ্গে যুক্ত হবে, সেটি এখনো জানা যায়নি। 

ভারতে এমন সংযুক্তিকরণ অবশ্য নতুন নয়। ২০০৮ সালে স্টেট ব্যাংক অফ সৌরাষ্ট্র এসবিআইয়ের সঙ্গে মিশে যায়। ২০১০ সালে একই পথে হাঁটে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্দোর। শেষে ২০১৭ সালে ছয় ব্যাঙ্কের সংযুক্তিকরণ হয়। এখনও পর্যন্ত সবটাই হয়েছে এসবিআইয়ের সঙ্গে। এবার দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সংখ্যা কমাতে দেশে আরও কয়েকটি বড় ব্যাংকের জন্ম হতে চলেছে। 

প্রিয় বিজনেস/মিজান