(প্রিয়.কম) ফরম্যাটটা ভিন্ন হলেও রানে ফেরার খবরটা স্বস্তির হাওয়াই বুলিয়ে দিচ্ছে। যে হাওয়া বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম ঘুরে বাংলাদেশেও পৌঁছে গেছে। দুই টেস্টের চার ইনিংসেই হতশ্রী ব্যাটিং করা বাংলাদেশ ৫০ ওভারের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমে স্কোরকার্ডে ২৫৫ রান জমা করেছে। হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন সাকিব আল হাসান ও সাব্বির রহমান। তবে বাকি ব্যাটসম্যানরা তাদের ব্যাটে স্বস্তি ফেরাতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার আমন্ত্রিত একাদশের বিপক্ষে টস জিতে বল হাতে তুলে নেওয়ার মতো পুরনো ভুল পথে হাঁটেনি বাংলাদেশ। ব্লুমফন্টেইনে এদিন প্রথম ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। এখনও ফিট না হওয়ায় ওপেনার তামিম ইকবালকে ছাড়াই একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। 

ব্যাটিংয়ে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে নিজেদের ছায়া হয়ে ওঠা ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার। তামিম না থাকায় ইনিংস উদ্বোধন করার দায়িত্ব ওঠে এই দুই ব্যাটসম্যানের কাঁধে। কিন্তু তারা দলকে সাবলীল শুরু এনে দিতে পারেননি। দলীয় ৩১ রানে ফিরে যান ব্লুমফন্টেন টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে ১২ রান করা সৌম্য।

১৩ বলে তিন রান করে ফিরে যান বাঁ-হাতি এই ওপেনার। পরের বলে সাজঘরের পথ ধরেন ২২ রান করা ইমরুল কায়েসও। ভরসা হয়ে উঠতে পারেননি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস। ৮ রান করে বিদায় নেন তিনি। টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম দলের অবস্থা বুঝেই ব্যাট চালাচ্ছিলেন। কিন্তু ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ২২ রান করেন তিনি। 

৬৩ রানে চার উইকেট হারানো দলকে পথ দেখাতে শুরু করেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পঞ্চম উইকেটে ৫৭ রানের জুটি গড়েন এ দু‘জন। সাকিব থাকলেও খেই হারান ২১ রান করা মাহমুদউল্লাহ। মাহমুদউল্লাহ ফেরার পর সবচেয়ে বড় জুটিটা পেয়েছে বাংলাদেশ। সাব্বির রহমানকে সাথে নিয়ে ৭৬ রান যোগ করেন টেস্ট সিরিজে বিশ্রামে থাকা সাকিব। 

এসময় ৫৪ বলে ছয় চারে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। হাঁটছিলেন সেঞ্চুরির পথেই। কিন্তু ৬৮ রান করে থামতে হয় তাকে। এরপর হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া সাব্বির রাহমানের ব্যাট থেকে আসে ৫২ রান। নাসির হোসেন ১২, মাশরাফি বিন মুর্তজা ১৭ ও সাইফুদ্দিন অপরাজিত ১৩ রান করলে ৪৮.১ ওভারে ১০ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে বাংলাদেশ। আমন্ত্রিত একাদশের হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন রবি ফ্রাইলিংক, মালুসি সিবোতো, এম্বুলেলো বুডাজা ও অ্যারন ফাঙ্গিসো।