বাড়ির আঙিনায় প্রবাসীর মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ দিন ধরে বাড়ির আঙিনায় পড়ে আছে প্রবাসীর মরদেহ!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রবাসী সেলিমের মরদেহ দেশে পাঠাতে প্রতিবেশী করম আলীর তিন লাখ টাকা খরচ হয়। খরচের টাকা পরিশোধের পর সেলিমের মরদেহ দাফন করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে প্রতিবেশী করম আলী ফোন করেন।

সীমান্ত খোকন
কন্ট্রিবিউটর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সময় - ১৪:৩২


বাড়ির আঙিনায় প্রবাসীর মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) পরিবহন খরচ দিতে না পারায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার টিঘর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী সেলিম মিয়ার মরদেহ টানা পাঁচদিন বাড়ির আঙিনায় পড়ে রয়েছে।

সেলিম মিয়ার স্ত্রী সালেহা বেগম জানান, ৯ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় ছিলেন তার স্বামী সেলিম মিয়া। গত ৩১ আগস্ট মালয়েশিয়ায় মারা যান তিনি। গত ৮ সেপ্টেম্বর সেলিমের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আসে।

সেলিমের মরদেহ দাফনের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তার স্বজনরা। কিন্তু মরদেহ দেশে পাঠাতে প্রতিবেশী করম আলীর খরচ হওয়া তিন লাখ টাকা পরিশোধের পর মরদেহ দাফন করতে বলেন তিনি।

এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে প্রতিবেশী করম আলী ফোন করে টাকা পরিশোধের পর মরদেহ দাফন করতে বলেন। সেলিমের পরিবার খরচের টাকা যোগাড় করতে না পারায় তার মরদেহ দাফন করা সম্ভব হয়নি।

তারা আরও জানান, বাড়ির আঙিনায় টানা পাঁচ দিন পড়ে থেকে মরদেহের বিভিন্ন অংশে পচন ধরতে শুরু করেছে। পরে ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে এলাকায় মিছিল করেছেন স্থানীয়রা।

তবে দাফনে বাধা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে করম আলীর স্ত্রী আলেয়া বেগম জানান, লাশের পরিবহন খরচ বাবদ তার স্বামী তিন লাখ টাকা দিয়েছেন। তিনি টাকা চেয়েছেন। কিন্তু লাশ দাফনে বাধা দেননি।

টিঘর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রইস মিয়া জানান, খবর পেয়ে রাতে টিঘর গ্রামে সেলিম মিয়ার বাড়িতে যায় পুলিশ। ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলের মধ্যে পুলিশ লাশ দাফন করার নির্দেশও দেন।

জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আগে পুলিশকে জানানো হয়নি। গতকাল পুলিশ গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছে। আজ লাশ দাফন হবে। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে মামলা হবে।’

প্রিয় সংবাদ/শিরিন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন বিএনপির
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ১৬ জুলাই ২০১৮