ফাইল ছবি

ঢাকার ৫২২ স্কুলশিক্ষককে বদলির সুপারিশ, নেপথ্যে কোচিং বাণিজ্য

র্নীতি দমন কমিশন-দুদক রাজধানীর ২৪টি সরকারি বিদ্যালয়ের ৫২২ জন শিক্ষককে বদলির সুপারিশ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক উপায়ে বদলি ঠেকিয়ে একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন অবস্থান করে কোচিং বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে।

হাসান আদিল
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর ২০১৭, ২২:১০ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ২১:৩২
প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর ২০১৭, ২২:১০ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ২১:৩২


ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক রাজধানীর ২৪টি সরকারি বিদ্যালয়ের ৫২২ জন শিক্ষককে বদলির সুপারিশ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক উপায়ে বদলি ঠেকিয়ে একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন অবস্থান করে কোচিং বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে।

এ বছরের শুরুর দিকে দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি, কোচিং ও নিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগ তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত শেষে ১ নভেম্বর বুধবার কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বদলির সুপারিশ করা শিক্ষকগণ ১০ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩৩ বছর পর্যন্ত একই বিদ্যালয়ে চাকরি করছেন। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে তারা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি কোচিং বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে অর্থ উপার্জন করছেন। এক কর্মস্থলে বছরের পর বছর থাকার ফলে ওই শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়ানোর নামে কোচিং সেন্টার গড়ে তুলেছেন এবং শিক্ষার্থীদের সেখানে পড়তে বাধ্য করা হয়।

বদলি ঠেকানোর বিষয় সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু সংখ্যক শিক্ষক কোচিং বা প্রাইভেট বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে বছরের পর বছর ঢাকার একই বিদ্যালয়ে অবস্থান করছেন।

প্রতিবেদনে যে ২৪ টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির সুপারিশ করা হয়েছে-

মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩২ জন, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের ৩২ জন, খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩১ জন, নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩১ জন, টিকাটুলী কামরুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০ জন, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের ২৯ জন, তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৮ জন, শেরেবাংলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৭ জন, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৬ জন, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত হাই স্কুলের ২৫ জন, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৪ জন, গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৪ জন, শেরেবাংলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৪ জন, বাংলাবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২২ জন, তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২১ জন, আরমানিটোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ২১ জন, মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯ জন, নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯ জন, ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুলের ১৭ জন, ঢাকা গভর্নমেন্ট মুসলিম হাই স্কুলের ৯ জন, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ জন, ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ জন, ধানমন্ডি কামরুন্নেছা সরকারি বিদ্যালয়ের ৭ জন, ধানমন্ডি ও নিউ গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুলের ৭ জন।

প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ জানানো হয়েছে দুদকের পক্ষ থেকে। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে - 

>> যেসব শিক্ষক ১০ বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন তাদেরকে বিভাগের বাইরে বদলি করা।

>> পাঁচ বছরের বেশি সময় কর্মরত শিক্ষকদের ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে বদলি নিশ্চিত করা।

>> যেসব শিক্ষক তিন বছরের বেশি সময় একই বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন তাদের অন্যত্র বদলি নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনে উঠে আসে, সাত জেলা শিক্ষা অফিসারকে জেলায় দায়িত্ব না দিয়ে ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও বরিশালের সাত বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিক্ষক হিসেবে তাদেরকে পুনরায় পদায়ন না করতে বলা হয়েছে।

এরা হলেন- খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মেহেরুন নেছা, ধানমণ্ডি কামরুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাসরিন আক্তার, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নুরুন নাহার, তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহরীন খান রূপা, গাজীপুরের কালিগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের লুবনা আক্তার, চট্টগ্রামের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শাহিদা আক্তার ও বরিশালের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাহবুবা খানম।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত  

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...