(প্রিয়.কম) সারা দেশে সমিতির সদস্যভুক্ত চালকল রয়েছে ১৮ হাজার ৭০০টি। এর মধ্যে অটো রাইস মিলের সংখ্যা ৫০০, সেমি অটো ৭০০ ও হাসকিং মিল ১৭ হাজার ৫০০। সনদ নেয়া এসব মিলের মধ্যে প্রায় নয় হাজার বন্ধ রয়েছে। ৩০০টি অটো রাইস মিল ও ২০০টি সেমি অটো রাইস মিলও উৎপাদনে নেই।

বাংলাদেশ অটো মেজর ও হাসকিং মিল মালিক সমিতির প্রতিবেদনে এ তথ্য রয়েছে। 

উৎপাদিত ধানের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দেশের প্রায় অর্ধেক চালকল বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি চালকল অধ্যুষিত নওগাঁ, বগুড়া, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট এসব জেলার চালকল মালিকরাও জানিয়েছেন ধানের উচ্চমূল্যের কথা। তাদের মতে বেশি দামে ধান কিনতে আগ্রহী না হওয়ায় চাল উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন প্রায় অর্ধেক মিল মালিক। 

রংপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও জেলা চালকল মিল মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, জেলায় চালকল রয়েছে ৯০৫টি। এর মধ্যে সরকারের সঙ্গে চাল সরবরাহের চুক্তি করেছে মাত্র ৪১১টি চালকল। চুক্তির বাইরে থাকা সিংহভাগ মিলই উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সরকারের চাল সংগ্রহ কার্যক্রম। এ পর্যন্ত ৮ শতাংশ চালও সংগ্রহ করতে পারেনি জেলা খাদ্য অফিস।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে ধানের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষক পর্যায়ে প্রায় সব ধানই বিক্রি হয়ে গেছে। গুটিকয় বড় কৃষক বাদ দিলে বীজ ধান ছাড়া কৃষক পর্যায়ে ধানের মজুদ সীমিত। ধানের বড় সংগ্রহ এখন মধ্যস্বত্বভোগী ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছে। ফলে তারা সরকারের মজুদ পরিস্থিতি, আমদানি ও সার্বিক পরিস্থিতি দেখে বেশি দামে বাজারে ধান ছাড়ছেন। বেশি দামে ধান কিনে চাল উৎপাদনের পর তা সরকারের কাছে বিক্রি করাকে লাভজনক মনে করছেন না মিলাররা। 

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যও বলছে, ধানের সরবরাহ ও দামের মধ্যে অসঙ্গতির কারণে চলতি বছর সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেনি সিংহভাগ চালকল। গত বছর বোরো মৌসুমে দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ চালকল চুক্তি করলেও এবার করেছে মাত্র ৩২ শতাংশ।

এদিকে দেশে চালের বড় জোগানদাতা উত্তরবঙ্গের আরেক জেলা দিনাজপুর। জেলাটিতে চালকল রয়েছে প্রায় ২ হাজার ১০০টি। ১৭৫টি অটো রাইস মিলের মধ্যে সদর উপজেলার পুলাহাট, গোপালগঞ্জ, কাহারোল, বীরগঞ্জ ও বোচাগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৩০টি বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া বেশকিছু মিল পরিপূর্ণ উৎপাদনে যেতে পারছে না। ধানের অভাবে উৎপাদনে যেতে পারছে না জেলার ১ হাজারের বেশি হাসকিং মিলও।

সূত্র: বণিক বার্তা

প্রিয় সংবাদ/কামরুল