(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের পার্লামেন্ট ভবনের উপর ড্রোন উড়িয়ে ছবি ধারণের সময় আটক হওয়া দুই বিদেশিসহ চার সংবাদকর্মীকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম টিআরটির হয়ে সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন তারা।

এই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের আমদানি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। লাইসেন্সবিহীন পন্য আমদানি করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তারা জরিমানাসহ তিন বছরের কারাদণ্ড পেতে পারেন।

অভিযুক্ত দুই বিদেশি নাগরিক হলেন, সিঙ্গাপুরের নাগরিক ল হোন মেং ও মালয়েশীয় নাগরিক মোক চোয়। ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করে পার্লামেন্ট ভবনের ছবি তোলার সময় মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদো থেকে তাদের আটক করা হয়। তাদের সঙ্গে ছিলেন মিয়ানমারের পরিচিত সাংবাদিক অং নাইনে সোয়ি ও তাদের ড্রাইভার হ্লা তিন।

দেশটির পুলিশ কর্মকর্তা কর্নেল কাউই মো বলেছেন, ‘এই চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত রিমান্ডে থাকবেন তারা।’

এমন এক পরিস্থিতি এই ঘটনা ঘটল, যখন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযানের নির্মমতায় ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বাড়িঘর পুড়তে দেখে পালাতে থাকা এসব রোহিঙ্গারা বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ এই হামলা চালিয়েছে।

দীর্ঘদিন সামরিক শাসনের কবল থেকে গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করা মিয়ানমারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেবলই আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। তবে ইতোমধ্যে চলতি বছরে দেশটিতে আটক হয়েছেন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। অনেকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের পক্ষে সংবাদ করার অভিযাগ আনা হয়েছে।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত