ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুলে ম্যাক্রোঁ। ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের সহিংসতাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট

‘জাতিসংঘ এ অব্যাহত গণহত্যা এবং জাতিগত নির্মূলের ঘটনায় যেন নিন্দা জ্ঞাপন করে সে বিষয়ে ফ্রান্স নিরাপত্তা পরিষদের বাকি সদস্যদের সঙ্গে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আগ্রহী।’

হাসান আদিল
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৭:০৭ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৩২
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৭:০৭ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৩২


ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুলে ম্যাক্রোঁ। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর সহিংসতা ও নিপীড়নকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এ সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

২১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল টিএমসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ আহ্বান জানান। 

সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘জাতিসংঘ এ অব্যাহত গণহত্যা এবং জাতিগত নির্মূলের ঘটনায় যেন নিন্দা জ্ঞাপন করে সে বিষয়ে ফ্রান্স নিরাপত্তা পরিষদের বাকি সদস্যদের সঙ্গে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আগ্রহী।’ 

তিনি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনা অভিযান বন্ধ করতে হবে। মানবিক ত্রাণসহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দিতে হবে এবং যে জাতিগত নিধন চলছে তা বন্ধ করে আইনের শাসন ফেরাতে হবে।’

রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দমন অভিযান বন্ধ করতে নিরাপত্তা পরিষদ যেন হস্তক্ষেপ করে তার জন্য একটি পদক্ষেপ নিতে ফ্রান্স পরিকল্পনা করছে বলেও জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট।

প্রসঙ্গত, ২৪ আগস্ট রাতে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে প্রায় ৪ লাখ ২১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এর সংখ্যা বছর শেষে ১০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

ইতোমধ্যে প্রায় ২১৪টি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানিয়েছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট ওয়াচ। সারা বিশ্বজুড়ে এ গণহত্যার প্রতিবাদে সমালোচনার ঝড় উঠলেও উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে রেখেছেন শান্তিতে নোবেল জয়ী মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি। সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া একটি ভাষণে সংকট নিরসনের ক্ষেত্রে আশার বাণী শোনাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

এর আগে যুক্তরাজ্য ও সুইডেনের অনুরোধের প্রেক্ষিতে জরুরি বৈঠকে বসেছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। সেখানে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। 

সূত্র: আনাদুলু এজেন্সি

প্রিয় সংবাদ/শান্ত