(প্রিয়.কম) বাংলাদেশের ৩ পার্বত্যঞ্চলের একটি রাঙ্গামাটি। পাহাড় এখানে জড়িয়ে আছে জীবনে জীবনে। পাহাড়ের ওপর দিয়েই চলে গেছে রাস্তা। তবে নগর পেরিয়ে গহীনে এমন অনেক পাহাড় আছে যেখানে এখনো পা পড়ে নি নাগরিক ভ্রমণকারীর। সেসব পাহাড়ে যাওয়ার আগে আসুন লোকালয়ের একটি পাহাড়ের কথাই জেনে নিই। কাছে হলেও আমি নিশ্চিত অনেকেই এখানে যান নি।
 
ভ্রমণ পাগল বন্ধু দীপ বিশ্বাসের ভ্রমণ ডায়রী থেকে-
 
ফুরমোন পাহাড়ের চূড়া থেকে। ছবি- দীপ বিশ্বাস
 
রাঙ্গামাটির বনরুপা থেকে সিএনজি রিজার্ভ করলে সরাসরি ফুরমোন পাহাড়ের ওঠার রাস্তার ঠিক মুখে নামা যায়। সেখান থেকে পাঁয়ে হেঁটে উঠতে হয় ফুরমোন পাহাড়ের চূড়ায়। দুইটা পথ দিয়ে ওঠা যায় ফুরমোন। সাপছড়ির রাস্তা দিয়ে গেলে কম সময়ে ওঠা যায়। কিন্তু সাপছড়ি দিয়ে গেলে অনেক খাড়া পাহাড় বেয়ে যেতে হয়। অদ্ভুত সুন্দর ফুরমোন পাহাড় এবং ফুরমোন ওঠার পাহাড়ী রাস্তা।
 
ফুরমোন পাহাড়ে গেলে ভালো করে জেনে যাবেন কোন রাস্তা দিয়ে যেতে হবে। আর দয়া করে পাহাড়ে ওঠার আগে কোন বাঙ্গালীর কাছে শুনবেন না যে কোন রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। এরা আপনাকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখাবে। যেমন:-এত খাড়া রাস্তা উঠতে পারবেন না, ছিনতাই হতে পারে, মাঝ রাস্তায় কোন জনবসতি নাই ইত্যাদি ইত্যাদি। এদের কথায় মোটেও কান দেবেন না। এই কথাগুলো যখন ৪-৫ জন বাঙ্গালী আমাদের বলছিল আমার খুবই হাসি পাচ্ছিল। আমি এই সব কাহিনী খুব ভালো করে জানি। কারা কি জন্য কি কথা বলে, কারা কি জন্য কাদের দোষ দেয়! ওদের কথা শুনে আমাদের গ্রুপের দুইজন ফুরমোনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। আমরা বাকী তিনজন ফুরমোন এর চূড়ায় ওঠার জন্য হাঁটা শুরু করলাম। যতই উপরের দিকে উঠছিলাম ততই অবাক হচ্ছিলাম। অবশেষে ২ ঘন্টার মত পাহাড়ী রাস্তা বেঁয়ে ফুরমোনের চূড়ায় গিয়ে পৌঁছালাম।ফুরমোনের চূড়া থেকে কাপ্তাই লেককে অদ্ভুত সুন্দর দেখায়।ফুরমোন এর চূড়ায় ওঠার ঠিক আগে একটা আর্মি ক্যাম্প আছে।
 
ফুরমোন পাহাড়ের চূড়া থেকে। ছবি- দীপ বিশ্বাস
 
তবে হৈ হুল্লোড় থেকে বিরত থাকুন। কারন ভান্তেরা এখানে মেডিটেশন করেন। মনে রাখতে হবে যে, এটা পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটা তীর্থ কেন্দ্র। পাহাড়ে চড়ার আগে প্রয়োজনীয় জিনিসপাতি সাথে নিয়ে নিন কারন পথে কিছুই পাবেন না। যেমনঃ পর্যাপ্ত পানি, শুকনা খাবার, হাঁটার জন্য লাঠি ইত্যাদি। আর পুরো রাস্তায় মাত্র দুটো বাড়ি এছাড়া পুরোটাই জনমানব শূন্য। চারিদিকে মেঘের ছড়াছড়ি। আর নিচে কাপ্তাই লেকের অপরূপ দৃশ্য জুম ক্ষেতের ভেতর দিয়ে। এক কথায় অসাধারণ।
 
সম্পাদনাঃ ড. জিনিয়া রহমান।
আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন zinnia@priyo.com এই ঠিকানায়।