(প্রিয়.কম) প্রযুক্তি বিষয়ক স্থানীয় স্টার্টআপগুলো গড়ে তুলতে এবং তাদের দ্রুত ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে তৃতীয় ব্যাচের জন্য আবেদন পত্র গ্রহণ শুরু করেছে জিপি অ্যাকসেলেরেটর। আর এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় বছরের মতো এ কর্মসূচিতে কার্যক্রম সহযোগী হিসেব আছে এসডি এশিয়া।   

তৃতীয় ব্যাচে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী এমভিপি সহ (মিনিমাম ভায়াবল প্রডাক্ট) প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপগুলো  এ বছরের ৪ মার্চের মধ্যে আবেদন করতে পারবে এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। 

যেসব প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপের নূন্যতম টেকসই পণ্য রয়েছে শুধুমাত্র তাদেরই আবেদন পত্র গ্রহণ করা হবে। আগ্রহী স্টার্টআপগুলোর অবশ্যই অন্তত দু’জন সহ-প্রতিষ্ঠাতা থাকতে হবে যারা জিপি অ্যাকসেলেরেটর থেকে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে এ কর্মসূচির প্রতি সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। 

প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা দেশীয় প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপগুলোকে সহায়তা করবে জিপি অ্যাকসেলেরেটর। এরই মধ্যে আগের কর্মসূচির স্টার্টআপগুলো বর্তমান সময়ের বড় কিছু সমস্যার সমাধান করছে। এসব স্টার্টআপের মধ্যে রয়েছে সিএমইডি। যারা ডায়াবেটিস ও রক্তচাপের মতো প্রতিরোধযোগ্য নীরব ঘাতকের প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করছে। কিছু স্টার্টআপ কাজ করছে নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা নিয়ে। যেমন: সোশিয়ান, ব্র্যান্ডগুলোকে সুযোগ করে দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভোক্তাদের আলোচ্য বিষয়গুলো সম্পর্কে জানার।

ইতিমধ্যেই জিপি অ্যাকসেলেরেটরের প্রথম দু’টি ব্যাচে নয়টি স্টার্টআপের গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন হয়েছে। ডেমো ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার ছয় মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে এ স্টার্টআপগুলো তাদের মূল্যমান বাড়াতে সক্ষম হয়েছে গড়ে ৩.৭ গুণ।  এই স্টার্টআপগুলোকে চার মাস কঠোর, তৎপর ও গভীর প্রশিক্ষণ এবং কোচিং করানো হয়। ব্যবসা শুরুর জন্য ১১ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি, স্টার্টআপগুলোকে জিপি হাউজে কাজ করার সুযোগ দেয়া হয়। স্টার্টআপগুলোর বাজারে আসার পথকে সুগম ও গতিশীল করতে বিনিয়োগকারী, খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও পেশাদারগণ স্টার্টআপগুলোকে টার্ম শিট, ভ্যালুয়েশন ও ফাইন্যান্সিয়াল মডেলিং করার ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করে।

এছাড়াও, নির্দিষ্ট সময়কালীন ও দলভিত্তিক এ কর্মসূচি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগযোগ্য ও সামর্থশীল ব্যবসায়িক মডেল নির্মাণে এবং নিজেদের সম্প্রসারণের সুযোগ করে দেয়। টেলিনর গ্রুপের একটি অংশ হিসেবে গ্রামীণফোনের সুযোগ রয়েছে স্টার্টআপগুলোকে গড়ে উঠতে সহায়তা করার পাশাপাশি দেশের বাইরেও তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করার। 

এ কর্মসূচি নিয়ে গ্রামীণফোন অ্যাকসেলেরেটরের প্রধান মিনহাজ আনোয়ার বলেন, ‘শুধুমাত্র ব্যবসা শুরুতে আর্থিক সহায়তার দানের জন্যই জিপি অ্যাকসেলেরেটর ভূমিকা রাখছে না পাশাপাশি, যখন খুবই অল্প কিছু মানুষ প্রতিষ্ঠাতাদের ওপর আস্থা রাখে তখন জিপি অ্যাকসেলেরেটর তাদের সাধারণ অ্যাকসেলেরেটর প্রতিশ্রুতির বাইরেও বহুদূরে যাবার সুযোগ দেয়। বাজারে প্রবেশ ও সম্প্রসারণের সুযোগ, যোগাযোগ এবং অন্যান্য সুবিধাসহ জিপি অ্যাকসেলেরেটর স্টার্টআপগুলোকে প্রয়োজনীয় অনেক সহায়তা প্রদান করে। আমরা যেসব নতুন ব্যাচ গড়ে তুলছি তাদের প্রত্যকে দক্ষতা, গ্রাহকের জন্য প্রস্তাবিত সেবার মান, বিনিয়োগ এবং বিস্তৃতির সম্ভাবনার ক্ষেত্রে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করছে।’

এ নিয়ে এসডি এশিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর আর খান বলেন, ‘গ্রাহক অর্জন অথবা আয়ের ক্ষেত্রে উদ্যম ও প্রচেষ্টা রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকেই আমরা খুঁজছি। এ কর্মসূচি এবং এর প্রত্যাশা নিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে বেশ কয়েকটি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠাতারা এসব সেশনে অংশগ্রহণ করতে পারেন। কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে জিপি অ্যাকসেলেরেটরের ফেসবুক পেইজ:  এবং এই ওয়েবসাইট থেকে।