ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় বেতন স্কেলে কর্মীদের বেতন-ভাতা দেওয়ায় মুনাফা কমেছে গ্রামীণ ব্যাংকের

ব্যাংকটির সামগ্রিক ঋণ বিতরণ বেড়েছে। তবে গত ছয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা সামান্য কমেছে।

এম. রেজাউল করিম
প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০১৭, ১৮:৫৭ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২৩:০০
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০১৭, ১৮:৫৭ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২৩:০০


ছবিঃ সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মীদের বেতন-ভাতা দেওয়ায় গত বছরের তুলনায় মুনাফা কম হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে,  এ অবস্থা সাময়িক, আগামীতে মুনাফা বাড়বে।  

সুত্র জানায়, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও বেশি করে ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি পশুপালন খাতে ঋণ বিতরণ বাড়িয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক। গত ছয় মাসে ৫ লাখ নতুন সদস্যও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে ব্যাংকটির সামগ্রিক ঋণ বিতরণ বেড়েছে। তবে গত ছয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা সামান্য কমেছে। 

জানা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে গ্রামীণ ব্যাংক ১০২ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে, যা ২০১৬ সালের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় ৮ কোটি টাকা কম। গ্রামীণ ব্যাংক গত বছরের জুলাই থেকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এর সঙ্গে সমন্বয় করে মূল বেতন দেওয়া শুরু করে। এরপর গত জানুয়ারি থেকে মূল বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য ভাতাও দেওয়া শুরু করেছে। এ কারণে গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬১ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। 

সূত্র জানায়, এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ব্যাংকটি ১১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। শুধু জুন মাসে এক হাজার ৫৮২ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ করা এসব ঋণের প্রায় ২৫ শতাংশ পশুপালন খাতে দেওয়া হচ্ছে। ২০১৬ সালের প্রথম ৬ মাসে ব্যাংকটি বিতরণ করেছিল ৯ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা। গত ছয় মাসে শুধু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ (এসএমই) খাতেই বিতরণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। গত বছরের জুনের তুলনায় এ বছর জুন শেষে ব্যাংকটিতে ১৭ লাখেরও বেশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ গ্রহীতা বেড়েছে। ব্যাংকটির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে ঋণ বিতরণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে চার হাজার কোটি টাকারও বেশি। 

অন্যদিকে চলতি বছরে এ পর্যন্ত ব্যাংকে ৫ লাখ নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তবে এ সময়ে ব্যাংকটির সদস্য নন এমন ব্যক্তিদের আমানত কমেছে ২৯৭ কোটি টাকা। গত জুন শেষে সদস্য নন এমন ব্যক্তিদের আমানত দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা, যা আগের বছর জুন শেষে ছিল ৬ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। 

গ্রামীণ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক রতন কুমার নাগ বলেন, সরকারের পে-স্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করে বর্ধিত বেতন-ভাতা কার্যকর করা হয়েছে। এতে ব্যাংকের সব পর্যায়ের কর্মীই উৎসাহ নিয়ে কাজ করছেন। এ ছাড়া ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে মাঠ পর্যায়ের কর্মকাণ্ড তদারকি করছেন। যে কারণে সামগ্রিক কর্মকাণ্ডও বেড়েছে। এতে আয় বেড়েছে। তবে সরকারের নতুন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়ায় খরচও বেড়েছে। এ জন্য আগের বছরের তুলনায় মুনাফা কম দেখা যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামীতে মুনাফা বাড়বে। 

গ্রামীণ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক রতন কুমার নাগ বলেন, সরকারের পে-স্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করে বর্ধিত বেতন-ভাতা কার্যকর করা হয়েছে। এতে ব্যাংকের সব পর্যায়ের কর্মীই উৎসাহ নিয়ে কাজ করছেন। এ ছাড়া ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে মাঠ পর্যায়ের কর্মকাণ্ড তদারকি করছেন। যে কারণে সামগ্রিক কর্মকাণ্ডও বেড়েছে। এতে আয় বেড়েছে। তবে সরকারের নতুন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়ায় খরচও বেড়েছে। এ জন্য আগের বছরের তুলনায় মুনাফা কম দেখা যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামীতে মুনাফা বাড়বে। 

তিনি আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিছু পুরনো ঋণ স্কিম চাঙ্গা করা হয়েছে। বিশেষত পশুপালন ঋণে জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ এখন ভারত থেকে গরু আসছে না। ফলে দেশে গরুর চাহিদা বেড়েছে। যে কারণে গ্রামীণ ব্যাংক গরু পালনে বেশি বেশি ঋণ দিচ্ছে। এতে দেশ সমৃদ্ধ হচ্ছে। সদস্যরাও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এ ছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণে জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ অনেকেই বর্তমানে নিজস্ব উদ্যোগে কিছু করতে চাইছে। এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে ঋণ দেওয়াসহ সামগ্রিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে মাঠ পর্যায়ের আঞ্চলিক ও শাখা ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে নিয়মিত স্কাইপিতে আলোচনা করা হচ্ছে। সময়োপযোগী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। 

প্রিয় বিজনেস/মিজান