২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ফাইল ছবি

‘২১ আগস্ট হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড পাকিস্তানে তৈরি’

২১ আগস্ট হামলার পর অবিস্ফোরিত অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ’র বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া গ্রেনেড বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা করানোর পর ভয়াবহ এ তথ্য পাওয়া যায়।

শেখ নোমান
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০১৭, ২১:১২ আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১৫:০০
প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০১৭, ২১:১২ আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১৫:০০


২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে চালানো হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড পাকিস্তানে তৈরি করা হয় বলে দাবি করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান।  

৬ নভেম্বর সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি আজ ষষ্ঠ দিনের মতো যুক্ততর্ক শুনানিতে এ বক্তব্য পেশ করেন। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আগামীকাল ৭ নভেম্বর মঙ্গলবার পর্যন্ত মূলতবি করা হয়েছে।

যুক্তিতর্কে সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকায় ২১ আগস্ট ৯টি স্থানে গ্রেনেডগুলো বিস্ফোরিত হয় এবং এগুলো পাকিস্তান ও অষ্ট্রিয়ায় তৈরি হয়। ২১ আগস্ট হামলার পর অবিস্ফোরিত অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া গ্রেনেড বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা করানোর পর ভয়াবহ এ তথ্য পাওয়া যায়।

নৃশংস, চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির জ্যেষ্ঠ বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দসহ মোট ২২৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরপর আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য পেশ ও সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয়। 

অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং মুফতি হান্নানের ফাঁসি হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী এবং সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদ জামিনে রয়েছেন। তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৮ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। 

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পত্নী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। 

এ ঘটনায় পরদিন মতিঝিল থানার তৎকালীন এসআই ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তের পরে মামলাটি যায় সিআইডিতে। সিআইডির পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ ২০১১ সালের ৩ জুলাই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম যুক্ত করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। 

প্রিয় সংবাদ/শান্ত