সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর আপিলের রায় যেকোনো দিন

বৃহস্পতিবার দুপুরে ১১তম দিনে শুনানি শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিভি) রেখেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ০১ জুন ২০১৭, ১৩:৪৫ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২২:০০
প্রকাশিত: ০১ জুন ২০১৭, ১৩:৪৫ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২২:০০


সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায় বাতিলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের ওপর যেকোনো দিন রায় দেবেন আপিল বিভাগ।

১ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে ১১তম দিনে শুনানি শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিভি) রেখেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।

আজ শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

এর আগে নিয়োগ পাওয়া ১২ অ্যামিকাস কিউরির মধ্যে ১০ জন গত কয়েকদিনে ধারাবাহিকভাবে তাদের মতামত আদালতে উপস্থাপন করেন। যারা মতামত উপস্থাপন করেছেন- টি এইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এ এফ হাসান আরিফ, এ জে মোহাম্মদ আলী, আজমালুল হোসেন কিউসি ও এম আই ফারুকী।

বাকি দুজন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ও ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ তাদের মতামত উপস্থাপন করেননি। 

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। বিলটি পাসের পর ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

এর মধ্যে গত ২৫ এপ্রিল অসদাচারণের জন্য সুপ্রিমকোর্টের কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্ত ও তাকে অপসারণের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট বিচারক (তদন্ত) আইন’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়। ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৫ মে ওই সংশোধনীকে বাতিল ও সংবিধান পরিপন্থী বলে রায় দেয় হাইকোর্ট।

২০১৬ সালের ৫ মে অবৈধ ঘোষণা করে ষোড়শ সংশোধনীকে বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন উচ্চ আদালত। বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতের ভিত্তিতে রায়টি ঘোষণা করা হয়।

একই বছর ১১ আগস্ট বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে অর্পণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ও বাতিল করে দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করেন উচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১৬৫ পৃষ্ঠার রায়টি প্রকাশ করা হয়। 

এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ আদালত ৭ মার্চ শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে ১২ জন অ্যামিকাস কিউরির নাম ঘোষণা করা হয়।

১২ জন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োহ করেছিল। তারা হলেন- টি এইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এ এফ হাসান আরিফ, এ জে মোহাম্মদ আলী, আজমালুল হোসেন কিউসি, এম আই ফারুকী, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ও ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ।

তবে ষোড়শ সংশোধনীর ৯৬(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে, প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ছাড়া কোনো বিচারককে অপসারিত করা যাবে না।

এ ছাড়া ৯৬ (৩) এ বলা হয়, দফা (২) এর অধীন প্রস্তাব সম্পর্কিত পদ্ধতি এবং কোনো বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল