(প্রিয়.কম) ‘ভালো আছি, ওষুধ কি জন্য খাব? অসুখ হওয়ার আগে আবার ওষুধ খায় কেমনে?’ কথাগুলো মিয়ানমারে থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এক রোহিঙ্গা গৃহবধূ সলেমা খাতুনের। রোহিঙ্গা শিবিরের একটি ঝুপড়ি ঘরের দরজায় ছোট্ট শিশু কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তরুণী বধূ সলেমা খাতুন। তিনি জানান, সন্দেহ থাকলেও নিজের শিশুকে তিনি টিকাদান কেন্দ্রে পাঠিয়ে ওষুধ খাইয়ে এনেছেন।

কক্সবাজারের উখিয়ায় ১০ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে ১৬ অক্টোবর সোমবার পর্যন্ত এক বছরের ঊর্ধ্বে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার জনকে কলেরার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গত তিনদিনে প্রায় সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গাকে এই টিকা খাওয়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এ কর্মসূচির কর্মকর্তারা। তবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি প্রথমবারের মতো কোনো অসুখের টিকা বা প্রতিষেধক গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। 

তাই অসুখ হওয়ার আগেই যে ওষুধ খাওয়া যায় এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা রোহিঙ্গাদের কাছে। আর টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হ্যান্ডমাইকে চলছে প্রচারণা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বৃদ্ধ রশিদ আহমেদ সাগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন কলেরার টিকার জন্য। তিনি বলেন, ‘এসব ওষুধ মিয়ানমারে আমরা কখনো দেখিনি। পেটব্যাথা কিংবা হালকা পাতলা অসুখ বিসুখ হলে দোকান থেকে ওষুধ কিনে খেতাম আমরা।’

রোহিঙ্গাদের কলেরার টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হ্যান্ডমাইকে প্রচারণা।

রোহিঙ্গাদের কলেরার টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হ্যান্ডমাইকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির কাছে ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক গ্রহণের ধারণাটাই নতুন হওয়ায় তাদের এটা খাওয়ানো অনেকটা কঠিন। ভ্রাম্যমাণ টিকাদান কর্মীদের দলনেতা আবদুল খালেক চৌধুরী বলেন, ‘কিছু লোক টিকা খেতে চাইলেও, কিছু লোক চায় না। আমরা হ্যান্ডমাইক নিয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি। এতেও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন না অনেকেই।’

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম বলছেন, ‘কলেরার প্রতিষেধক রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রথম টিকাদান কর্মসূচি নয়। ইতোমধ্যে দেড় লাখ শিশুকে হাম রুবেলা, ৭০ হাজার শিশুকে পোলিও এবং ৬৫ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর একটি কর্মসূচি শেষ হয়েছে। তবে আমরা বলছি, কলেরার টিকা কর্মসূচীতে আশি ভাগের বেশি সাফল্য পেয়েছি।’

উল্লেখ্য, ৯ অক্টোবর সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কলেরা প্রতিরোধে রোহিঙ্গাসহ ৯ লাখ মানুষকে কলেরার টিকা খাওয়ানোর জন্য সপ্তাহব্যাপী টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

রোহিঙ্গাদের কলেরার টিকাদান কর্মসূচি।

রোহিঙ্গাদের কলেরার টিকাদান কর্মসূচি। ছবি: সংগৃহীত

টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে জানানো হয়, সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উখিয়া উপজেলায় প্রতিদিন দেড়শটি দল কাজ করবে। দৈনিক ৭৫ হাজার জনকে টিকা খাওয়ানো হবে। আর টেকনাফে ৬০টি দল ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে টিকা দেবে।

১০ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় প্রথম দফায় এক বছরের ঊর্ধ্বে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার জনকে কলেরার টিকা দেওয়া হবে। দুই সপ্তাহ পর পাঁচ বছরের কম আড়াই লাখ শিশুকে টিকার দ্বিতীয় ডোজ খাওয়ানো হবে।

এর ছয় মাস পর কক্সবাজার ও টেকনাফে বুস্টার ডোজ দেয়া হবে। ইতোমধ্যে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা শিশুকে হাম-রুবেলা, ওরাল পোলিও এবং ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ