(প্রিয়.কম) ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা সু-নেত্র পরিবহণের একটি বাস হঠাৎ করেই ময়মনসিংহ শহরের ব্রিজের মোড়ের ভৈরব রেললাইনের রেলক্রসিংয়ে এসে বিকল হয়ে রেল লাইনের উপরই আটকা পড়ে। ঠিক একই সময়ে ওই লাইন দিয়ে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার উদ্দেশে আরেকটি ট্রেন দ্রুত ছেড়ে আসছিল। তখন পুলিশের এক উপ পরিদর্শকের (টিএসআই) উপস্থিত বুদ্ধিতে বেঁচে যান অর্ধশতাধিক যাত্রী।

গত ৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। 

দ্রুত গতির ট্রেন আসার সম্ভাব্য বিপদ অনুমান করে বাসের যাত্রীরা চিৎকার করতে থাকে। যাত্রীদের চিৎকার শুনে সেখানে ছুটে যান ওই এলাকায় দায়িত্বরত ময়মনসিংহ ট্রাফিক বিভাগের টিএসআই নুরুল হক। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ময়মনসিংহ পুলিশ কন্ট্রোল রুমকে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করেন। সেখানে যোগাযোগ করতে না পেরে তিনি বিষয়টি স্টেশন মাস্টারকে জানান। কিন্তু ততক্ষণে ট্রেন দৃষ্টিসীমায় চলে এসেছে! তখন তার উপস্থিত বুদ্ধিতে বেঁচে যান অর্ধশতাধিক যাত্রী।

এ প্রসঙ্গে টিএসআই নুরুল হক প্রিয়.কমকে জানান, যাত্রীদের চিৎকার শুনে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে ট্রেনটিকে থামানোর জন্য আমি স্টেশনে ও কন্ট্রোল রুমে যোাগাযোগ করি। কিন্তু ততক্ষণে ট্রেনটি দৃষ্টিসীমায় চলে এসেছে। তখন আর কোনো উপায় না পেয়ে লাইনে উঠে পুলিশের লাল লাইট ও মোবাইলের লাইটের মাধ্যমে চালককে ট্রেনটি থামানোর সংকেত দেই। এভাবে কয়েকবার চেষ্টা করার পর চালকও সমস্যা আঁচ করতে পেরে ট্রেন থামিয়ে দেন।’

ট্রেনটি থামার পর নুরুল হক ট্রেন চালককে পুরো বিষয়টি অবহিত করেন। নুরুল হক বলেন, ‘ট্রেন থামার পর চালক বলেছেন আরেকটু দেরি হলেই ট্রেনটিকে আর যথাসময়ে থামানো সম্ভব হতো না। ট্রেনটি থামার পর এ ঘটনা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নুরুল হকের উপস্থিত বুুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার প্রসংশা করেন সবাই। 

খবর পেয়ে সেখানে যান ময়মনসিংহ ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক সৈয়দ মাহাবুুবুর রহমান। পরে বিকল হওয়া বাসটি সবার সহযোগিতায় রেকার দিয়ে টেনে রেললাইন থেকে সরানো হয়।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল