(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পথচলাটা শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে। এরপর মাঠে গড়িয়েছে বিপিএলের আরও তিনটি আসর। দরজায় কড়া নাড়ছে আরও একটি বিপিএল। আগামী চার নভেম্বর সাত দলের অংশগ্রহণে পর্দা উঠতে যাচ্ছে বিপিএলের পঞ্চম আসরের। ঘরোয়া ক্রিকেটের জাঁকজমকপূর্ণ এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে দল গুছিয়ে ফেলেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।

বিপিএলের পেছনের আসরগুলোয় তাকালে দেখা যায় মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে মাঠের বাইরের কার্যকলাপই বেশিরভাগ সময় সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছে। কখনও তা ফিক্সিংয়ের কারণে,  কখনও ক্রিকেটাররা তাদের পাওনা টাকা বুঝে না পাওয়ায়। সবকিছু মিলিয়ে বিপিএলের প্রথম চার আসর যতোটা না আলোচিত তার চেয়ে বেশি সমালোচিতই হয়েছে। একনজরে দেখে আসা যাক কেমন ছিল ‘সমালোচিত’ বিপিএলের চার আসর।

  • বিপিএল ২০১২

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের বেহাল দশা, ভগ্নপ্রায় ক্রিকেট কাঠামো নতুন কিছু নয়। এর মধ্যে বিপিএল আসে হাতে নিয়ে আলোকবর্তিকা। হয়তো নতুন কিছু হবে! সেই ইঙ্গিতই দিয়েছিল প্রথম বিপিএল। দারুণ দর্শক সমাদৃত হয় বিপিএল। কারণ ততদিনে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মজাটা পেয়ে বসেছে দর্শকদের। দর্শকদের রুচি পরিবর্তনে সেখানে বড় একটা ভূমিকা রেখেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)।

নিলামের পর আইকন হিসেবে মাশরাফি বিন মুর্তজা গেলেন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসে, তামিম ইকবাল চিটাগাং কিংসে, মুশফিকুর রহিম দুরন্ত রাজশাহীতে, শাহরিয়ার নাফিস বরিশাল বার্নার্সে এবং অলক কাপালি সিলেট রয়্যালসে। দল গঠনের পর বলা যাচ্ছিল না কার হাতে উঠতে যাচ্ছে বিপিএলের প্রথম শিরোপা। 

বাংলাদেশি তারকাদের পাশাপাশি বিপিএলের সেই আসর মাতিয়েছিলেন শহীদ আফ্রিদি, কাইরন পোলার্ডদের মতো তারকারা। টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন সাকিব। ব্যাট হাতে ২৮০ রান করার পাশাপাশি বাঁ-হাতি স্পিনে ১৫ উইকেট নিয়ে হন টুর্নামেন্ট সেরা। ৪৬৮ করে আহমেদ শেহজাদ হন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ১৭টি করে উইকেট নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষ বোলার হন ইলিয়াস সানি ও মোহাম্মদ সামি।

সেই আসরের ফাইনালে বরিশাল বার্নার্সকে আট উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম বিপিএলজয়ী দল হিসেবে নাম লেখায় মাশরাফির নেতৃত্বাধীন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। তবে আয়োজনে ছিল অনেক ঘাটতি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো পরিশোধ করেনি ক্রিকেটারদের পাওনা অর্থ। যে কারণে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটার্সের (ফিকা) কাছ থেকে মামলার হুমকি পর্যন্ত শুনতে হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি। নানা অনিয়ম, অসংলগ্নতার পরও দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল বিপিএল। সেই বিপিএলই বাংলাদেশের ক্রিকেট খুলে দিয়েছিল অনেক সম্ভাবনার দুয়ার। পরের আসরে আরও গোছালো হওয়ার প্রত্যয়ে পর্দা নামে বিপিএলের প্রথম আসরের।

  • বিপিএল ২০১৩

বিপিএলের দ্বিতীয় আসর; যেখানে রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায়। সেই আসরেই বাংলাদেশ হারিয়েছিল তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলকে।  যার সূত্রপাত সেই আসরের ২৪তম ম্যাচে। চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স বনাম চিটাগং কিংসের মধ্যকার সেই ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশের ক্রিকেটের আকাশ ছেয়ে যায় ফিক্সিং নামক অপরাধের কালো মেঘে।

চিটাগংয়ের করা ১৪২ রানের জবাবে মাত্র ৮৮ রানেই থেমে যায় আগের চার ম্যাচে তিনটিতে জয় পাওয়া ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের ইনিংস। তা নজর এড়ায়নি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতি বিরোধী কমিশনের (আকসু)। পরবর্তীতে আকসুর তদন্তেই উঠে আসে পর্দার আড়ালের কাহিনী।

নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা না থাকায় সেই ম্যাচে ঢাকার অধিনায়কত্ব তুলে দেওয়া হয় আশরাফুলের কাঁধে। যা ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। কারণ মাশরাফিকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখাত হতে হবে; তা অনুমেয়ই ছিল। উড়তে থাকা ঢাকা সেই ম্যাচটা হারে ৫৪ রানের ব্যবধানে।

আকসুর সেই তদন্ত শেষে জানানো হয় ঢাকা ও চিটাগংয়ের মধ্যকার সেই ম্যাচটি ছিল পাতানো! আকসু অভিযোগ গঠন করে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের মালিকসহ মোট নয়জনের বিরুদ্ধে। জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল অকপটে স্বীকার করেন ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার কথা। সেই জিজ্ঞাসাবাদে কেবল বিপিএলই নয়, আশরাফুল জানান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার কথাও!

ফিক্সিং ইস্যুতে আশরাফুলের দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে আসে বাংলাদেশের সাবেক তিন ক্রিকেটার খালেদ মাহমুদ সুজন, মোহাম্মদ রফিক ও খালেদ মাসুদ পাইলটের নাম। আশরাফুলের ভাষ্যমতে এই তিন ক্রিকেটারই তাকে ফিক্সিংয়ের কালো জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। যদিও ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন সুজন-পাইলট-রফিকরা। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ও স্বীকার করে নেওয়ায় আশরাফুলকে আট বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এরপর সেই নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে আনা হয় পাঁচ বছরে। আজীবন নিষিদ্ধ করা হয় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের মালিক শিহাব চৌধুরী ও সেলিম চৌধুরীকে।

দ্বিতীয় বিপিএলেও শিরোপা জেতে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। মাশরাফির হাত ধরে ফাইনালে সেই চিটাগং কিংসকে ৪৩ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বিপিএল শিরোপা ঘরে তোলে দলটি। ১২ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা বোলার হন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের আলফনসো টমাস। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন সিলেট রয়্যালসের মুশফিকুর রহিম। ২০১২ ও ২০১৩ সালে টানা দুইবার বিপিএল অনুষ্ঠিত হলেও ২০১৪ সালে মাঠে গড়ায়নি বিপিএলের তৃতীয় আসর। ফিক্সিংয়ের ধাক্কা তো ছিলই। ছিল ক্রিকেটারদের পাওনা অর্থ বকেয়া থাকার বিষয়টিও। অধিকাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তি অনুসারে মেটায়নি ক্রিকেটারদের পাওনা অর্থ। সবকিছু মিলিয়ে ২০১৪ সালে আলোর মুখ দেখেনি বিপিএল।

  • বিপিএল ২০১৫

এক বছর বন্ধ থাকার পর বিপিএলের তৃতীয় আসরের পর্দা উঠে ২০১৫ সালে। আসে অনেক পরিবর্তন। বাদ পড়ে দুরন্ত রাজশাহী ও খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস। বিপিএলের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। মাশরাফি যোগ দেন কুমিল্লায়। ফ্র্যাঞ্চাইজি বদলে যাওয়ায় ঢাকার নাম হয় ঢাকা ডায়নামাইটস। ঢাকা ডায়নামাইটসের অধিনায়কত্ব তুলে দেওয়া হয় সাকিবের কাঁধে। এছাড়াও আসে আরও অনেক রদবদল।

২০১৫ সালকে বলা হয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বছর। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে এসে ঘরের মাটিতে ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জেতার পর আনন্দে মাতোয়ারা পুরো দেশ। সে অবস্থান থেকে বিপিএলের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ হয়তো একটু বেশিই ছিল। কিন্তু বিপিএল শুরুর আগ পর্যন্ত প্রত্যাশার পারদ যতটুকু উপরে উঠেছিল, খেলা শুরু হওয়ার পর তার আবহটা এক থাকেনি।

মাঠের বাইরের বেশ কিছু কার্যকলাপে সমালোচিত হয়ে আছে তৃতীয় বিপিএল। যদিও অব্যস্থাপনা, অগোছালো শব্দগুলো শুরু থেকেই বিপিএলের সঙ্গী।

সেই কথাটা আবারও মনে করিয়ে দেয় চিটাগাং ভাইকিংস ও সিলেট সুপার স্টার্সের মধ্যকার ম্যাচ। এই ম্যাচের আগে তামিম ও তার পরিবারকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন সিলেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক আজিজুল ইসলাম। গালিগালাজের বিষয়টি তামিম জানান ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে। সিলেটের বিদেশি ক্রিকেটারদের অনাপত্তিপত্র সংক্রান্ত সমস্যায় আপত্তি জানিয়েই সিলেটের মালিকের রোষানলে পড়েন তামিম। এর জের ধরে টস হয় নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট পর। ম্যাচ শুরু হয় তারও এক ঘন্টা বিলম্বে।

চরম অব্যবস্থাপনার আরও একটি নজির স্থাপন করে দর্শকদের উশৃংখল আচরণ। তবে এখানে কর্তৃপক্ষের দিকেই আঙুল তোলা উচিত। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে খেলছে চিটাগং ভাইকিংস ও রংপুর রাইডার্স। ঢাকা ডায়নামাইটস ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স খেলবে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচ। হুট করে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শোনা যায় ‘ঢাকা!...ঢাকা!’ স্লোগান। দিনের প্রথম ম্যাচ চলাকালীন খুলে দেয়া হয় স্টেডিয়ামের মূল গেট। হুড়মুড় করে বিনা বাধায় বিনা টিকেটে গ্যালারিতে প্রবেশ করেন হাজারখানেক দর্শক। নিরাপত্তার তোয়াক্কা করেননি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও। সঠিক জবাব দিতে পারেননি বিসিবি ও বিপিএলের কর্মকর্তারা।

টি-টোয়েন্টি মানেই বলে বলে চার-ছয়। এই চার ছয়ের খেলায় যদি দর্শক না থাকে, তবে কি তা পূর্ণতা পায়? বিপিএলের তৃতীয় আসরে টিকেটের দাম কমিয়ে আনা হয়। এক টিকেটে রয়েছে দুই ম্যাচ দেখার সুযোগ, তবুও গ্রুপ পর্বের প্রায় সব ম্যাচই হয়েছে দর্শকশূন্য গ্যালারিতে। এমনটা দেখার পর বলাই যায় জৌলুস হারায় বিপিএল। সেই আসরের পর্দা নামে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স চমকে। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলে চ্যাম্পিয়ন হয় মাশরাফির কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালের শেষ বলে নির্ধারিত হয় ফলাফল। বরিশাল বুলসকে তিন উইকেটে হারিয়ে প্রথম বিপিএল শিরোপা জেতে কুমিল্লা।

  • বিপিএল ২০১৬

বিপিএলের চতুর্থ আসর মাঠে গড়ায় ২০১৬ সালে। চতুর্থ বিপিএল দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে খুলনা টাইটান্স। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি দলে টানে জাতীয় দলের অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। আগের তিন আসরের চেয়ে মাঠের খেলায় কিছুটা হলেও গোছানো ছিল চতুর্থ বিপিএল। সাকিব, তামিমদের মতো তারকাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেদের মেলে ধরেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী মারুফ, মোহাম্মদ মিথুনের মতো ক্রিকেটাররা। তারা পাল্লা দিয়েছেন কুমার সাঙ্গাকারা, মারলন স্যামুয়েলদের সাথেও। বল হাতে সেরা দশে ছিলেন বাংলাদেশের রুবেল হোসেন, আরাফাত সানি, সোহাগ গাজীরা।

ফাইনালে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে মাঠে নামে ঢাকা ডায়নামাইটস। ঢাকার ১৬০ রানের জবাবে ১০৩ রানে গুটিয়ে যায় ড্যারেন স্যামির রাজশাহী। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের হাত ধরে শিরোপা জেতে ঢাকা ডায়নামাইটস। টুর্নামেন্ট সেরা হন খুলনা টাইটান্সের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

অব্যবস্থাপনার আরও কিছু চিত্র ধরা পড়ে ২০১৫ বিপিএল থেকে। টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অথচ দেখা নেই রানের। ক্রিকেটের এই ক্ষুদ্র সংস্করণের বিশেষত্বই হচ্ছে বাহারি সব শটে রান বন্যার উৎসব। রসদ মুড়ি মুড়কির মতো চার-ছয়। কিন্তু মারকাট ক্রিকেটের এই টুর্নামেন্টের বেশিরভাগ ম্যাচই কিনা হয়েছে লো স্কোরিং! এখানে ব্যাটসম্যানদের দিকে অভিযোগ তোলার অবকাশ নেই। টানা খেলার ধকলে উইকেট হয়ে গিয়েছিল ধীর গতির। মাঠকর্মীরা যথেষ্ট সময় পাননি পরিচর্যা করার। ২০১৬ বিপিএলে যদিও সেই চিত্র কিছুটা বদলেছে। বেশ কিছু ম্যাচে দেখা গেছে ১৭০ ছাড়ানো স্কোর।

ক্রিকেট মাঠে এই কাজটাই সবচেয়ে কঠিন। বিপিএলের গেল দুই আসরে ঠিকমতো করতে পারেননি বাংলাদেশি আম্পায়াররা। খেলা পরিচালনায় দেশি আম্পায়ারদের অদক্ষতা চোখে লেগেছে প্রকটভাবে। একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলেছে ম্যাচের ফলাফলে। বিপিএলের সামনের আসরে এই সমস্যা কাটবে কি না তা সময়ই বলে দিবে।

বিপিএল শুরু হওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলতে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাশরাফিদের হয়তো এখান থেকেই পাওয়া যাবে। সে আশায় গুড়েবালি না হলেও আবু হায়দার রনি, আফিফ হোসেন ধ্রুবরা আশার পালে কিছুটা হলেও হাওয়া দিয়েছিলেন। এর আগে এনামুল হক বিজয়ও নিজের উপস্থিতির কথা জানান দিয়েছিলেন বিপিএল দিয়েই। স্পিড স্টার তাসকিন আহমেদ নজরে আসেন বিপিএল খেলেই। বিজয়-তাসকিনদের মতো হয়তো ধ্রুব-রনিরাও প্রতিনিধিত্ব করবেন বাংলাদেশের।

২০১২-১৩ সালের বাংলাদেশ দল আর এখনকার বাংলাদেশ দলে বিস্তর ফারাক। সময়ের এই পালাবদলে বাংলাদেশের ক্রিকেটে এসেছে অনেক পরিবর্তন। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ হয়ে ওঠেছে অদম্য এক প্রতিপক্ষ। দেশের বাইরেও রাখছে উন্নতির ছাপ। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিশ্বসেরা দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। বদলে যাওয়া এই বাংলাদেশের সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসরের রুপ কি বদলেছে?

বদলেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কতটুকু বদলাবে বিপিএল? ভবিষ্যতের সাকিব-তামিমদের বিপিএল তৈরি করতে পারবে কিনা? এসব প্রশ্নের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী চার নভেম্বর পর্যন্ত।

প্রিয় স্পোর্টস/ শান্ত মাহমুদ