ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে বর্তমান প্রজন্মের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা তাদের স্মার্টফোন দিয়ে দৈনন্দিন কাজ করার পাশাপাশি কিছু বাড়তি কাজও করতে চায়। যার মধ্যে ডিভাইসে থাকা ক্যামেরার সাহায্যে নিজেদের সৃজনশীলতা দেখাতেই বেশি পছন্দ করেন তারা। তাই তরুণ প্রজন্মের কাছে মোবাইল ফটোগ্রাফি যেন একরকম ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।

আর সেই মোবাইল ফটোগ্রাফিতে সম্ভাব্য সব সম্ভাবনাকে বাস্তবে রুপ দেওয়ার প্রয়াসে ডুয়েল ক্যামেরাযুক্ত ও আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন স্মার্টফোন নিয়ে এল প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। সম্প্রতি দেশের বাজারে ডাবল রিয়ার ক্যামেরার নতুন স্মার্টফোন জিআর ফাইভ-২০১৭ নিয়ে এসেছে চীনের এই স্মার্টফোন ব্র্যান্ড।

হুয়াওয়ে’র স্মার্টফোন জিআর ফাইভ-২০১৭। ছবি: প্রিয়.কম

ডুয়েল ক্যামেরা ছাড়াও বড় ডিসপ্লে, শক্তিশালী ব্যটারিসহ স্মার্টফোনটির সকল ভালো এবং খারাপ দিকগুলো নিয়ে প্রিয়.কম-এর পাঠকদের জন্য থাকছে এই হ্যান্ডস অন রিভিউটি।

আনবক্সিং
স্মার্টফোনটির বক্স খুললেই পাবেন ব্র্যান্ড নিউ জিআর ফাইভ-২০১৭ হ্যান্ডসেট, এরপর পেপার পাউচটি খুললে পাবেন একটি সিম ইজেক্টর, এর নিচে রয়েছে একটি ট্রান্সপারেন্ট ব্যাক কভার, একটি হেডফোন, চার্জিং অ্যাদাপটর ও একটি ইউএসবি ক্যাবল। এছাড়া আছে একটি ওয়ারেন্টি কার্ড ও একটি ইউজার ম্যানুয়াল।


স্মার্টফোনটি বেশ হালকা এবং স্লিম। ছবি: প্রিয়.কম  

ডিজাইন
জিআর ফাইভ-২০১৭ সংস্করণের ফোনটিকে বেশ গর্জিয়াস লুক দিয়েছে হুয়াওয়ে। মেটাল বডির এই স্মার্টফোনটিতে আছে ২.৫ডি কার্ভড ডিজাইন, যা স্মার্টফোনটিকে করে তুলেছে আরও আকর্ষণীয়। স্ট্যান্ডব্লাস্টিং প্রসেসর ব্যবহার করে তৈরি হুয়াওয়ে জিআর ফাইভ স্মার্টফোনটি বেশ হালকা এবং স্লিম, যা ব্যবহার করতে বেশ আরামদায়ক।

 অন স্ক্রিন ন্যাভিগেশন বাটন ব্যবহার করা হয়েছে। ছবি: প্রিয়.কম  

স্মার্টফোনটির সামনের দিকের উপরের অংশে আছে একটি নোটিফিকেশন লাইট, লাইট অ্যাম্বিয়েন্ট সেন্সর, স্পিকার ও ফ্রন্ট ক্যামেরা। সামনের দিকের নিচের অংশে নেই কোনো ক্যাপাসিটিভ টাচ বাটন। এর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে অন স্ক্রিন ন্যাভিগেশন বাটন। ফোনটির উপরের অংশে রয়েছে ৩.৫ মিমি. অডিও পোর্ট ও একটি মাইক্রোফোন।

স্মার্টফোনটির নিচের দিকে দুই পাশে আছে স্পিকার গ্রিল ও মাঝে আছে একটি ইউএসবি পোর্ট। ছবি: প্রিয়.কম


হেন্ডসেটটির ডান পাশে উপরে আছে ভলিউম বাটন ও এর নিচে আছে পাওয়ার বাটন। ছবি: প্রিয়.কম

ফোনটির বাম পাশে আছে সিম ও মেমোরি কার্ড ট্রে। ছবি: প্রিয়.কম   

স্মার্টফোনটির পেছনে একেবারে উপরে মাঝ বরাবর আছে দুটি রিয়ার ক্যামেরা। এর নিচেই রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরও। আর ক্যামেরার ডানপাশে আছে একটি ফ্ল্যাশলাইট। ছবি: প্রিয়.কম  

ডিসপ্লে
৫.৫ ইঞ্চির একটি ফুল এইচডি আইপিএস এলসিডি ক্যাপাসিটিভ টাচ ব্যবহার করা হয়েছে হুয়াওয়ের এ স্মার্টফোনে। এর সাথে আছে ব্লু লাইট ফিল্টার, ফুল ল্যামিনেশন ও সানস্ক্রিন প্রযুক্তি।

ডিসপ্লেটি ১০ আঙ্গুল পর্যন্ত মাল্টি টাচ সাপোর্ট করে। সংগৃহীত ছবি 

ডিসপ্লেটিকে স্ক্র্যাচের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রতিষ্ঠানটি ঠিক কোন নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, তা সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত নই! তবে এই মূল্যের একটি স্মার্টফোনে অন্ততপক্ষে গরিলা গ্লাস ৩ আশা করাই যায়। ১৬.৭ মিলিয়ন কালার সমৃদ্ধ ডিসপ্লেটির পিক্সেল ডেনসিটি প্রায় ৪০০ পিপিআই। ডিসপ্লেটি ১০ আঙ্গুল পর্যন্ত মাল্টি টাচ সাপোর্ট করে।

ছবি: প্রিয়.কম

ডিসপ্লেটি ফুল ব্রাইটনেসেও সূর্যের আলোতে খুব ভালো আউটপুট দেয় না, ডিসপ্লের এই বিষয়টি স্মার্টফোনটির একটি ড্র ব্যাক বলেই মনে করা যায়।

ক্যামেরা

ছবি: প্রিয়.কম

হুয়াওয়ের জিআর ফাইভ-২০১৭ এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর ডুয়েল রিয়ার ক্যামেরা। ১২ এবং ২ মেগাপিক্সেলের আলাদা দুটি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে এর পেছনে। দুটি ক্যামেরা থাকায় ছবিতে ব্লার বা বকেহ ইফেক্ট দেওয়ার কাজটিও করা যাবে আরও সহজে, এক্ষেত্রে পেছনের ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাটি মূল সাবজেক্ট ফোকাস করে থাকে এবং ২ মেগাপিক্সেলের ইউনিটটি ক্যাপচার করে ব্যাকগ্রাউন্ড। এর রিয়ার ক্যামেরায় অপটিক্যাল জুমিং সুবিধাও পাওয়া যাবে।

ব্যাক ক্যামেরায় তোলা ছবি। ছবি: প্রিয়.কম 

হেন্ডসেটটিতে আছে মাত্র ০.৩ সেকেন্ডের মধ্যে অটোফোকাসের সুবিধাও। এ ছাড়া রাতের বেলা স্বল্প আলোতেও ঝকঝকে ও মনোরম ছবি তোলার জন্য স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১.২৫ মাইক্রো মিটার পিক্সেল সেন্সর। এছাড়া এসএলআর ক্যামেরা ব্যবহারকারীদের জন্য আছে প্রো ফটো মোড।

ব্যাক ক্যামেরায় তোলা ছবি। ছবি: প্রিয়.কম

সেলফি তোলার জন্য এতে থাকছে ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা যাতে আছে ৭৮ ডিগ্রি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স এবং অটোমেটিক ফেস রিকগনিশন। এছাড়া রয়েছে ১০ লেভেল বিউটি মোড ও অটো মেকআপ মোড এবং প্যানারমিক সেলফি তোলার সুবিধা। স্মার্টফোনটির ৪পি অ্যারে লেন্স প্যানোরোমিক সেলফি তোলার সুবিধা। যার ফলে এ ক্যামেরা ফোন ব্যবহারকারী ও তার বন্ধুদের ছবির কেন্দ্রে রেখে প্যানোরোমা ছবি ধারণ করতে পারবে।

ব্যাক ক্যামেরায় তোলা ছবি। ছবি: প্রিয়.কম

ফ্রন্ট এবং রিয়ার উভয় ক্যামেরাতেই ১০৮০ পিক্সেলের হাই ডেফিনেশন ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা পাওয়া যাবে।

হার্ডওয়্যার ও পারফর্মেন্স

ডিভাইসটিতে অক্টাকোর প্রসেসরের সাথে ব্যবহার করা হয়েছে হুয়াওয়ের নিজস্ব কিরিন ৬৫৫ চিপসেট এবং মালী টি ৮৩০ গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস। এতে থাকছে ৩ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ৩২ গিগাবাইট বিল্ট ইন মেমোরি যার প্রায় ২.৭৩ গিগাবাইট র‍্যাম ও ২৪ গিগাবাইট স্টোরেজ ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও স্মার্টফোনটিতে ১২৮ গিগাবাইট পর্যন্ত বাড়তি স্টোরেজ ব্যবহার করার সুবিধা আছে।

বেঞ্চমার্ক স্কোর। সংগৃহীত ছবি

অনেকেই একটি স্মার্টফোনের পারফর্মেন্স বিবেচনা করে থাকেন বিভিন্ন ধরনের বেঞ্চমার্কিং টুলের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে। এক্ষেত্রে হুয়াওয়ের এই ডিভাইসটি আনটুটুতে স্কোর করেছে ৫৬ হজার ৪৭১, নেনামার্ক ২-তে এর স্কোর ছিল ৫৮.৮ এফপিএস এবং গিকবেঞ্চ ৪-এ এর সিংগেল কোর ও মাল্টিকোরের পারফর্মেন্স পাওয়া গিয়েছে যথাক্রমে ৮০৯ ও ৩ হাজার ২৭২।

আনটুটু’র ফলাফল। সংগৃহীত ছবি 

গিকবেঞ্চ’র ফলাফল। সংগৃহীত ছবি 

নেনামার্ক ২ এর ফলাফল। ছবি: প্রিয়.কম 

সফটওয়্যার
স্মার্টফোনটিতে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্শম্যালোর উপরের লেয়ারে ব্যবহার করা হয়েছে ইএমইউআই ৪.০ এবং খুব শীঘ্রই এতে অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ নোগাটের আপডেট পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।

স্মার্টডিভাইসটির লক স্ক্রিন, হোম স্ক্রিন এবং নোটিফিকেশন প্যানেলকে রাখা হয়েছে যথাসম্ভব সিম্পল। ডিভাইসটির স্টক লঞ্চারে কোনো আলাদা অ্যাপ ড্রয়ার নেই, ব্যবহারকারীদের বাড়তি হোম স্ক্রিন থেকেই সকল অ্যাপলিকেশনগুলো এক্সেস করতে হবে।

ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর

স্মার্টফোনটির রিয়ার ক্যামেরার নিচে আছে একটি ৩.০ ফাস্ট বায়োমেট্রিক সেন্সর। যার মাধ্যমে আপনি ফোন আনলক করার, অ্যাপলিকেশন লক করার এবং ছবি তোলার সুবিধা পাবেন। বায়োমেট্রিক এই সেন্সরটি মাত্র ০.৩ সেকেন্ডের মধ্যে ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে আপনার ফিংগারপ্রিন্ট শনাক্ত করতে সক্ষম যা আপনার ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে বদলে দেবে।

রিয়ার ক্যামেরার নিচে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর। ছবি: প্রিয়.কম

সেন্সর
ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর ছাড়াও স্মার্টফোনটিতে আছে ম্যাগনেটিক ফিল্ড সেন্সর, অরিয়েন্টেশন সেন্সর, প্রক্সিমিটি সেন্সর, লাইট সেন্সর, গ্রাভিটি সেন্সর, হল সেন্সর, স্টেপ কাউন্টার ও জিওম্যাগনেটিক রোটেশন ভেক্টর।

গেমিং পারফরমেন্স

ডিভাইসটির গেমিং পারফরমেন্স। ছবি: প্রিয়.কম

৫.৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে হওয়ায় ব্যবহার করতে অনেকের কাছেই সমস্যা মনে হলেও যারা স্মার্টফোনে গেম খেলতে পছন্দ করেন, তারা কিন্তু এতে বেশ খুশিই হবেন। এতে সাধারণ মানের গেমগুলো খেলা যাবে অনায়াসেই। বিভিন্ন বড় গেম যেমন- মডার্ন কমব্যাট ৫, অ্যাসফ্যাল্ট ৮সহ আরও কিছু গেম কোনো ল্যাগ ছাড়াই খেলা সম্ভব হয়েছে।


ডিভাইসটির গেমিং পারফরমেন্স। ছবি: প্রিয়.কম 

ব্যাটারি
স্মার্টফোনটিতে আছে ৩ হাজার ৩৪০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি যা একবার চার্জ দিলে অনায়াসেই দেড় থেকে দুইদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। এর সাথে আছে আল্ট্রা পাওয়ার সেভিং মোড যা আপনাকে ব্যাটারি চার্জ খুব কম থাকলে কিছু সময় ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেবে।

যেখানে পাওয়া যাবে ফোনটি এবং মূল্য

এই ডিভাইসটি দেশের সকল হুয়াওয়ে স্টোরে পাওয়া যাবে। চমৎকার ফ্যাবলেট ফর্ম ফ্যাক্টরের এই ডিভাইসটির দাম পড়বে মাত্র ২১ হাজার ৯০০ টাকা।

রিভিউটির ভিডিও দেখতে হলে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

সম্পাদনা: নাজমুল হাসান শান্ত