(প্রিয়.কম) ২৬ অক্টোবর দেশের বাজারে উন্মোচিত হয়ে গেল হুয়াওয়ের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন নোভা টু আই। চার ক্যামেরার ফোন হিসেবে এটি ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়েছে। নানা কারণেই এটি একটি বিশেষ ফোন। প্রথমত এটি দেশের বাজারে প্রথম চার ক্যামেরার স্মার্টফোন। ফোনটির সামনে পেছনে দুটি করে মোট চারটি ক্যামেরা আছে। একই সাথে ফোনটি প্রায় বেজেললেস। অর্থাৎ হুয়াওয়ের অন্যান্য ফোনের তুলনায় এ ফোনটির বেজেল অনেকাংশেই কমানো হয়েছে। হাই এন্ড ফিচারের প্রায় সবগুলোই তুলনামূলক কম দামের এ ফোনটিতে পাওয়া যাবে। একমাস ধরে ফোনটি ব্যবহার করে এ কথা বলতেই পারি, এ ফোনটি হুয়াওয়ের মধ্যম বাজেটের সেরা স্মার্টফোন।

আনবক্সিং

বক্স থেকে বের করলেই প্রথমে চোখে পড়বে ফোনটির প্রায় বেজেললেস ৫.৯ ইঞ্চি স্ক্রিন। এ ছাড়া ফোনটির সাথে পাচ্ছেন-
* পাওয়ার অ্যাডপ্টার 
* হেডফোন জ্যাক
* প্রটেকটিভ কেসিং
* ইউএসবি ক্যাবল
* স্ক্রিন গার্ড
* ওয়েরেন্টি ডকুমেন্টস
* ইউজার ম্যানুয়েল
* সিম রিমুভাল টুল
 
হওয়াওয়ে
নোভা টু আই আনবক্সিং। ছবি: প্রিয়.কম

এক নজরে স্পেসিফিকেশন

* হুয়াওয়ের নিজস্ব কিরিন ৬৫৯, অক্টাকোর ২.৩৬ গিগাহার্টজ প্রসেসর।
* ৪ জিবি র‌্যাম
* ৬৪ জিবি রম (২৫৬ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে)
* ওজন ১৬৪ গ্রাম
* ৫.৯ ইঞ্চি ফুল ভিউ ডিসপ্লে যার বডি টু ডিসপ্লে অনুপাত ১৮:৯। স্ক্রিন রেজুলেশন ২১৬০X১০০ পিক্সেল
* পেছনে ১৬ মেগাপিক্সেল ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি এবং সামনে ১৩ মেগাপিক্সেল ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরা।
* ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
* ডুয়াল ন্যানো সিম স্লট
* থ্রিজি, ফোরজি সাপোর্টেড
* এন্ড্রয়েড ৭.০ ন্যুগাট
* ৩৩৪০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি

ডিজাইন

ফুল ভিউ ডিসপ্লের স্মার্টফোনগুলো এখন খুবই জনপ্রিয় হচ্ছে। ফোন কোম্পানিগুলোও ফুল ভিউ ডিসপ্লে দিয়ে গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করতে মরিয়া। নোভা টু আই ফোনের মাধ্যমে সে লক্ষ্যে একধাপ এগিয়ে গেল হুয়াওয়ে। নোভা টু আই ফোনটিতে ফিজিক্যাল হোম বাটন উঠিয়ে দিয়েছে হুয়াওয়ে, ফলে ৫.৯ ইঞ্জি ফুল ডিসপ্লে রাখতে সুবিধা হয়েছে।
হুয়াওয়ে
ফোনের পেছনে রয়েছে ১৬ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরা। ক্যামেরা বরাবর নিচে আছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। ছবি: প্রিয়.কম
 
ওপরের অংশে বেজেল কমানো হয়েছে ৩১ শতাংশ এবং নিচের দিকে কমানো হয়েছে ৩৬ শতাংশ। ৫.৫ ইঞ্চি ডিসপ্লের তুলনায় এ ফোনটির স্ক্রিন টু বডি অনুপাতের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ উন্নতি করা হয়েছে। ফুল ভিউ ডিসপ্লের আগে ৫.৫ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লের স্মার্টফোনকে ‘ফ্যাবলেট’ বলা হতো। কিন্তু হুয়াওয়ের এ ফোনটি হাতে নিলে তেমন কিছু মনে হবে না। বরং এটি অনেক আকর্ষণীয় এবং হাতে নিতে আরামদায়ক স্মার্টফোন বলেই মনে হবে আপনার। ফোনটির দু’পাশে কার্ভ ডিজাইন এটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।
 
সামনের দিকে রয়েছে ১৩ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরা। ছবি: প্রিয়.কম
 
স্পিকার গ্রিল, মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক আছে ফোনটির নিচের দিকে। হাইব্রিড সিম কার্ড ও মেমোরি কার্ড ট্রে রয়েছে ডান পাশে ওপরের দিকে। পেছনের ক্যামেরার বরারব নিচে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রাখা হয়েছে। এতে মুঠোতে থাকা অবস্থায় খুব সহজেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে ফোন আনলক করা যাবে।
 
টাচ স্ক্রিনে আছে সর্বোচ্চ ১০ আঙুলের মাল্টিটাস্কিং সুবিধা। তবে ফোনটিতে একটি কেসিং লাগিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারণ মেটাল ইউনি বডির কারণে পেছনটা একটু পিচ্ছিল হওয়ায় টাইপ করা বা সেলফি তোলার সময় হাত পিছলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।
 
হুয়াওয়ে
ফোনটির নিচের দিকে রয়েছে ৩.৫ মিমি অডিও জ্যাক, স্পিকার ও চার্জিং পোর্ট। ছবি: প্রিয়.কম

ক্যামেরা 

ফুল ভিউ ডিসপ্লের স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে বিশ্বে এ ফোনটিতেই প্রথমবারের মতো চারটি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। পেছনে ১৬ মেগাপিক্সেল ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ও সামনে ১৩ মেগাপিক্সেল ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরা। ২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাগুলো মুলত যেকোনো পরিবেশে মূল ক্যামেরার ছবির সেরা ডেফথ ও ব্যাকগ্রাউন্ড পেতে সহায়তা করে।
 
ফোনটির ক্যামেরা দিয়ে স্টুডিও লেভেল হাই সিআরআই (কালার রেন্ডারিং ইনডেক্স) ছবি তোলা সম্ভব। এ ছাড়া অন্ধকারে ভালো ছবি তোলার জন্য সামনে ও পেছনে টনিং ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন স্মার্ট সেলফি টনিং ফ্ল্যাশ কোন পরিবেশে কেমন লাইট এবং ব্রাইটনেস লাগবে, তা স্বয়ংক্রিভাবে নির্ধারণ করতে পারে। সামনে ও পেছনে দুটি ক্যামেরা থাকায় খুবই ভালো মানের পোর্ট্রেট ছবি তোলা যাবে। ফোনটিতে বিল্টইন পোর্ট্রেট মুড আছে। হার্ডওয়্যার লেভেলেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমবারের এ ফোনটিতে ডুয়াল টোন ইন্টিলিজেন্ট সেলফি ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা হয়েছে।
 
এ ছাড়া ছবি তোলার জন্য আছে ১২টি ভিন্ন ভিন্ন মোড। ছবি তোলার সময় এবং তোলার পরও বুকেহ ইফেক্ট (ফোকাস ঠিক রেখে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার) পরিবর্তন করা যাবে এ ফোনটিতে। আরও স্পষ্ট এবং নান্দনিক ছবির জন্য এ দু’টি ডুয়াল লেন্সেই থাকছে হার্ডওয়্যার লেভেল বোকেহ। এর পাশাপাশি লো লাইটেও ফোনটি দিবে আগের চেয়েও উন্নততর পারফরমেন্স। ফোনটির ক্যামেরা দিয়ে ফোরকে ভিডিও করা যাবে। 
 
হুয়াওয়ে রিভিউ
হুয়াওয়ে নোভা টু আই দিয়ে তোলা ছবি। 
 
হুয়াওয়ে রিভিউ
হুয়াওয়ে নোভা টু আই দিয়ে তোলা ছবি। 
 
হুয়াওয়ে রিভিউ
হুয়াওয়ে নোভা টু আই দিয়ে তোলা ছবি। 

হুয়াওয়ে রিভিউ

হুয়াওয়ে নোভা টু আই দিয়ে পোর্ট্রেট মোডে তোলা ছবি। 

সেন্সর

* প্রক্সিমিটি সেন্সর

* এক্সিলারোমিটার

* কম্পাস

* অ্যামবিয়েন্ট লাইট

* ব্যারোমিটার

*ফিঙ্গারপ্রিন্ট

ব্যাটারি

বর্তমানে স্মার্টফোন কেনার আগে ব্যাটারির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন অনেকেই। নানা কারণে যেহেতু স্মার্টফোনে অনেক কাজ করতে হয়, তাই চার্জও ফুরায় দ্রুত। সেক্ষেত্রে একটু বেশি স্থায়িত্বের ব্যাটারির দিকে ঝুঁকছেন সবাই। গ্রাহকদের সেই আগ্রহের কথা বিবেচনা করে হুয়াওয়ে এ ফোনটিতে ৩৩৪০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ব্যবহার করেছে। ভারি ব্যবহারেও ফোনটি পুরোপুরি একদিন ব্যবহার করা যাবে আর একটু হালকা ব্যবহারে এক চার্জে প্রায় দুই দিন ব্যবহার করা যাবে ফোনটি। আর একটানা দুই ঘণ্টা চার্জ দিলে ব্যাটারি পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। অর্থাৎ ব্যাটারি চার্জিংয়েও অন্যান্য ফোনের চেয়ে দ্রুত চার্জ হয় নোভা টু আই ফোনের ব্যাটারি। 
 
হুয়াওয়ে নোভা টু আই স্মার্টফোনের স্ট্যান্ডবাই ব্যাটারি টাইম ২৬০ ঘণ্টা, টকটাইম ১১ ঘণ্টা, মিউজিক প্লে টাইম ১৬ ঘণ্টা, এক নাগাড়ে ভিডিও দেকা যাবে টানা ৭ ঘণ্টা, ইন্টারনেট ব্রাউজ করা যাবে টানা ৮ ঘণ্টা। 

সফটওয়্যার

* অপারেটিং সিস্টেম: অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ ন্যুগাট
* ইউজার ইন্টারফেস (ইউআই): ইমোশন ইউআই ৫.১
* প্রি ইনস্টলড অ্যাপস: জিমেইল, গুগল প্লে স্টোর, গুগল ম্যাপস, ক্লক, ক্যালেন্ডার, ওয়ার্ল্ড ক্লক, সাউন্ড রেকর্ডার, হুয়াওয়ে অ্যাপ সেন্টার

কানেক্টিভিটি

* ওয়াইফাই: ৮০২.১১ এ/বি/জি/এন, ওয়াইফাই হটস্পট 

* ইউএসবি: ২.০ উইথ ওটিজি ক্যাবল

* ব্লুটুথ: ভি ৪.২ এবং বিএলই সাপোর্ট

* এফএম রেডিও: আছে 

* নেভিগেশন টেকনোলজি: জিপিএস, এ-জিপিএস, বিডিএস, গ্যালিলিও 

* ৩.৫ মিলি মিটার হেডফোন

আনতুতু বেঞ্চমার্ক স্কোর

হুয়াওয়ে নোভা টু আই স্মার্টফোনটির আনতুতু বেঞ্চমার্ক টুলে স্কোর এসেছে ৭৪৯৯৮, যা সমসাময়িক অন্য ফোনগুলোর তুলনায় বেশ ভালো।

হুয়াওয়ে

হুয়াওয়ে নোভা টু আই’র আনতুতু বেঞ্চমার্ক স্কোর। 

শুধু ক্যামেরা পারফরম্যান্স ও ৫.৯ ইঞ্চি ফুল ভিউ ডিসল্পের কারণে হলেও ফোনটি কেনা উচিত। এটির দাম ধরা হয়েছে ২৬,৯৯০ টাকা, বাজারে থাকা এ দামের অন্যান্য যেকোনো ফোনের চেয়ে এটির ফিচার আরও বেশি ও মানসম্পন্ন। নতুন ফোন কিনতে চাইলে নিঃসন্দেহে এ ফোনটি কিনতে পারেন।

সেলিব্রেটি ফটোগ্রাফার প্রীত রেজার করা ভিডিও রিভিউ: