(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এখনও বাংলাদেশ সীমান্তে স্থলমাইন পুঁতে রাখছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, একাধিক সূত্র থেকে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে হিউম্যান রাইটস বলছে, ‘সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির সীমান্তের মূল পয়েন্টগুলোতে ল্যান্ডমাইন পুঁতেছে। যা বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।’

এমনকি উত্তর রাখাইনের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে হামলার আগে সেখানকার রাস্তায় ও নো ম্যানস ল্যান্ডেও মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, বিশেষ করে বুথিডং ও টং পিও লেট ইয়ার সীমান্তে স্থলমাইন পুঁতে রাখা হচ্ছে।

এর আগে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলজুড়ে সে দেশের সেনাবাহিনী স্থলমাইন পুঁতে রাখছে বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ০৯ সেপ্টেম্বর শনিবার এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও দাবি করে, বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের ভেতর সে দেশের সরকার ভূমি মাইন পেতেছে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পুতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে দুই পা উড়ে যায় এক রোহিঙ্গা নারীর

৯ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে  নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন রেজু আমতলি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন রোহিঙ্গা নিহত ও একজন আহত হন। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৪৬নং পিলারের কাছে ১১ সেপ্টেম্বর সোমবার রাতে স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় মোক্তার আহমদ (৪০) নামে এক রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ