(প্রিয়.কম) ‘যারা আপনাদেরকে দেশান্তরী হতে বাধ্য করেছে, যারা আপনাদের ক্ষতি করেছে এবং সর্বোপরি এ বিশ্বে সব বৈসাদৃশ্যের জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।’

১ ডিসেম্বর শুক্রবার ঢাকায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে এক আবেগঘন সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন বাংলাদেশ সফররত ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। এদিন রাজধানীর সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রালে এক অনুষ্ঠানে তিনটি রোহিঙ্গা পরিবারের ১২ জন পুরুষ, দুজন নারী ও দুজন তরুণীর সঙ্গে পোপের সাক্ষাৎ হয়।

রোহিঙ্গাদের ‍মুখে তাদের ওপর হওয়া বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পোপ। এরপরই তিনি উপরোক্ত মন্তব্য করেন। এ সময় পোপ রোহিঙ্গা পুরুষদেরর কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দেন ও  তরুণীদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। ওই দুই তরুণীর বাবা-মা এবং ভাইয়েরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে নিহত হয়েছেন। তিনি হাঁটু গেড়ে উপস্থিত এক শিশুর মাথায় চুমু খান। 

ব্রিসবেন টাইমস’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সেসময় পোপকে দেখে মনে হয়েছে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বর্ণনা তার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে’।

বাংলাদেশে আসার আগে রোহিঙ্গা সমস্যার মূল ভূমি মিয়ানমার সফরে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তিনি নিজ মুখে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ না করায় অনেকেই অবাক হয়েছেন। যিনি আগেও বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গা নারী পুরুষকে নিজের ‘ভাই ও বোন’ উল্লেখ করে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি কেন মিয়ানমারে গিয়ে সরাসরি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি, এ নিয়ে পোপের সমালোচনাও হয়েছে।  বাংলাদেশ সফরের প্রথম দিনেও তিনি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ থেকে বিরত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সফর শেষের একদিন অাগে তিনি শব্দটি উচ্চারণ করলেন। তবে শুক্রবারের ওই অনুষ্ঠানে এ ইস্যুতে নিজের সাম্প্রতিক নীরবতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

রোহিঙ্গা

পোপকে নির্যাতনের ভয়াবহতা বর্ণনা করার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এক রোহিঙ্গা নাগরিক। ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে পোপ বলেন, ‘আমরা আমাদের হৃদয়কে রুদ্ধ করে রাখছি না বা আমরা অন্যত্র দৃষ্টি ফিরিয়ে নিচ্ছি না। রোহিঙ্গাদের মাঝেও সৃষ্টিকর্তা বিরাজমান।’

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষদের উপস্থিতিতে ওই অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গাদের প্রতি তার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন বলে প্রতীজ্ঞা করেন পোপ, যাতে করে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত এ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। গত আগস্ট মাস থেকে তাদের ওপর সেনা অভিযান শুরু করে মিয়ানমার। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, বর্বরতম নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ সেনা অভিযানকে ‘সংখ্যালঘু নিধনের’ সঙ্গে তুলনা করে ধারাবাহিকভাবে নিন্দা জানিয়ে আসছে এবং এ অভিযান যত দ্রুত সম্ভব বন্ধের আহবান জানিয়ে আসছে। 

প্রিয় সংবাদ/মিজান