(প্রিয়.কম) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রশাসনের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির প্রতিবাদে পাল্টা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক রাশেদা আখতার! ঘটনায় তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

জানা গেছে, অনশনরত শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবিতে দুপুর সাড়ে ১২টায় সমাজবিজ্ঞান অনুষদ চত্ত্বর থেকে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামীপন্থী শিক্ষকেরা একটি মৌন মিছিলটি বের করেন। বিভিন্ন বিভাগের প্রায় অর্ধশত শিক্ষকের অংশগ্রহণে মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে নতুন কলা ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে ছাত্রকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক এবং সিন্ডিকেট সদস্য রাশেদা আখতার, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক বশির আহমেদ, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন আবদুল জব্বার হাওলাদার, সহকারী প্রক্টর মো. মাহবুবুল মোর্শেদ প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন। রাশেদা আখতার এ ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির সদস্য।

এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, ‘তদন্ত কমিটির একজন সদস্য কীভাবে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন? তার অংশগ্রহণ তদন্ত কমিটির পক্ষপাতদুষ্টতার সুস্পষ্ট প্রমাণ। এ তদন্ত কমিটিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’ 

মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীরা।

মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি: প্রিয়.কম  

তদন্ত কমিটির সদস্য হয়েও কীভাবে ওই মিছিলে অংশ নিয়েছেন এমন প্রশ্ন করা হলে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’-এর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলাম। এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’ 

এ ব্যাপারে অধ্যাপক রাশেদা আখতারকে ফোন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ মে শুক্রবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন সিঅ্যান্ডবি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নাজমুল হাসান ও মেহেদি হাসান নামের দুই শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নিতে খবর দেওয়ার এক ঘণ্টা পরে অ্যাম্বুলেন্স পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ওই শিক্ষার্থীরা মারা গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তার অজুহাতে ক্যাম্পাসে জানাযার নামাজও পড়তে দেয়নি।

পরদিন ২৭ মে শনিবার সকাল হতেই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি, নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, গতিরোধক ও পদচারী-সেতু (ফুটওভারব্রিজ) নির্মাণসহ আরও কয়েকটি দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে পুলিশ।

হামলায় সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাসহ আহত হন অন্তত ১৫ জন। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বিকেলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর চালায়। সে সময় ৪২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। ওইদিন রাতে উপাচার্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভা থেকে ৩১ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামাসহ মোট ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে প্রশাসনের করা মামলায় আটক শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

তবে ২৮ মে গ্রেফতারকৃত ৪২ শিক্ষার্থী আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি লাভ করে। এর পর থেকেই শিক্ষকদের একটি অংশ এবং শিক্ষার্থীরা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। এ ছাড়া ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ’ ও ‘প্রতিবাদের নাম জাহাঙ্গীরনগর’ এ দুটি ব্যানারে শিক্ষকদের একাংশ এবং শিক্ষার্থীরা এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আসছে। মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সর্বশেষ ১৫ জুলাই শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার পাদদেশে আমরণ অনশনে বসেন দুই শিক্ষার্থী। পরে ১৬ জুলাই রোববার আরও তিন শিক্ষার্থী এবং সোমবার আরো তিন শিক্ষার্থীর অনশনের যোগদানের মাধ্যমে ওই কর্মসূচিতে মোট আট শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে তিন শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত