চট্টগ্রামের মানচিত্র

চট্টগ্রামে আট বছরে নিখোঁজ অর্ধশতাধিক

সারাদেশে ১৬ বছরে প্রায় ৫ হাজার বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম। যার ৯৫ শতাংশের পরিচয় শনাক্ত হয়নি।

জানিবুল হক হিরা
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০১৭, ১৫:১৯ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১৯:১৬


চট্টগ্রামের মানচিত্র

(প্রিয়.কম) চট্টগ্রামে গত আট বছরে নিখোঁজ হয়েছে অর্ধশতাধিক লোক। যাদের কাউকে আজ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফিরে আসবে ভেবে প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন স্বজনরা। নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও ছাত্রসহ সাধারণ লোকজন। চট্টগ্রামে সাড়ে তিন বছরে নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে আড়াই শতাধিক।

প্রতিদিনই নগরী ও জেলায় এখানে সেখানে, নির্জন স্থানে মিলছে লাশ। সারাদেশে ১৬ বছরে প্রায় ৫ হাজার বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম। যার ৯৫ শতাংশের পরিচয় শনাক্ত হয়নি।

গত ২৯ মার্চ রাতে নগরীর চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা এলাকার একটি বাসা থেকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম নুরুকে। পরদিন লাশ পাওয়া যায়।

গত ১০ মে ফটিকছড়ি উপজেলার আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি এনামুলের বস্তাভর্তি লাশ উদ্ধার করা হয়। এর দু’দিন আগে এনাম অপহরণের শিকার হন।

গত ২০ মে নিখোঁজ হন রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের কায়সার আলম নামে এক যুবক। তিনি উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের নিরামিশপাড়া আবু ছৈয়দ মেম্বারবাড়ির হোসেন আহম্মদের ছেলে। এ ঘটনায় রাউজান থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

এক বছরেও খোঁজ মেলেনি চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড মুসা সিকদার ওরফে আবু মুসার। তার স্ত্রী পান্না আকতারের দাবি, ২০১৬ সালের ২২ জুন নগরীর বন্দর থানাধীন একটি বাসা থেকে পুলিশ পরিচয়ে তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

২০১২ সালের ২০ অক্টোবর নগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় সানোয়ারা বালক স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী তোহেল আহমেদ। তোহেল প্রবাসী কোব্বাদ আহমেদের একমাত্র ছেলে।

২০১৪ সালে নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন মনসুরাবাদ এলাকা থেকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বরিশাল ছাত্রদল নেতা ফিরোজ আহমেদকে।

২০১৩ সালে ফটিকছড়ি কাঞ্চনপুর এলাকার বাসিন্দা কাঠ ব্যবসায়ী বলি মনসুরকে পুলিশ পরিচয়ে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

২০১৫ সালের ৩ জুলাই ঢাকায় নিখোঁজ হন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকার শিপব্রেকিং ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন কুসুম। ওইদিন উত্তরা-১০ নম্বর সেক্টরে দুই মোটরসাইকেল আরোহী তার গাড়ির গতিরোধ করে অপহরণ করে। এরপর তার খোঁজ মেলেনি।

২০১০ সালের ৭ নভেম্বর রাতে ঢাকা থেকে গুম হন বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও করলডেঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। তিনি ফার্মগেট থেকে গাজীপুরে যাওয়ার পথে জয়দেবপুরের বাগড়া বিকল্প সড়কের চৌরাস্তা মোড়ে তার গাড়িটি যানজটে আটকে পড়ে। এ সময় অজ্ঞাত পরিচয় চার-পাঁচজন লোক নজরুলকে অস্ত্রের মুখে অন্য একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।

২০১০ সালের ২৭ মার্চ র‌্যাব পরিচয়ে নগরীর খুলশী থানাধীন ভূঁইয়া গলির মুখ থেকে তুলে নেয়া হয় রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবুজাফরকে। তার সন্ধান মেলেনি। আবু জাফর দক্ষিণ রাউজান ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।

২০০৯ সালের ৪ এপ্রিল নগরীর খুলশী থানা এলাকায় নিখোঁজ হন চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর শ্রীকান্ত রক্ষিত হত্যাসহ ১৬ মামলার আসামি আজিমউদ্দিন মাহমুদ।

২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর নিখোঁজ হয় রাউজান উপজেলার পশ্চিম গুজরা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুল আজিম।

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে গুম হয় রাউজানের অপর সন্ত্রাসী বদিউল আলম।

২০০৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় অপহৃত হন ঠিকাদার মোজাফফর আহমদ চৌধুরী।

২০০৭ সালে রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যান তরুণী চিকিৎসক নুসরাত।

২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি ঢাকার মতিঝিলে অপহরণের শিকার হন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ফরহাদ চৌধুরী। ২০১৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁওয়ে নিখোঁজ হয় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মনির হোসেন।

জেলা পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন সময়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানের চেষ্টা চলছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) সালেহ মো. তানভীর বলেন, ‘যেসব লাশ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় সেগুলো শনাক্তে উন্নত কোনো প্রযুক্তি আমাদের কাছে নেই। তারপরও এসব লাশের ডিএনএ সংগ্রহ এবং ছবি তুলে লাশের বিবরণ লিখে রাখা হয়।

সূত্র: যুগান্তর

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট
ট্রেন্ডিং