(প্রিয়.কম) ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় হাসপাতালে ঢুকে রোগীকে মারপিট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে এ ঘটনা ঘটে বলে। এতে আহত হয়েছেন দুইজন। আহতরা হলেন- বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও পেট্টোলপাম্প এলাকার সাহির উদ্দীনের ছেলে মজিবর রহমান (২৫) ও চাড়োল ইউনিয়নের মো: ইমাম হোসেনের ছেলে হামিদুর রহমান (৩৫)। আহতরা ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার রাতে মজিবর রহমান ও তার ভাই খলিলুর রহমান উপজেলার মর্জিনা হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় হঠাৎ করেই ছাত্রলীগ কর্মী পজির ও তার লোকজন মজিবরের উপর হামলা চালিয়ে তাকে আহত করে এবং একটি মোবাইল ফোন ও প্রায় ১০ হাজার টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় মজিবরকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসে।

এসময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মী পজির, উজ্জল, কামালসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসকদের একটি বদ্ধ রুমে আটক করে রাখে। এরপর তারা মজিবর রহমানকে পূনরায় লাঠিসোটা দিয়ে বেধরক মারপিট করে। এসময় মজিবর রহমানকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন হাসপাতালের এক রোগীর স্বজন হামিদুর রহমান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত মজিবর রহমান বলেন, আকস্মিকভাবে ছাত্রলীগ নেতা মনার নেতৃত্বে তার দলবল আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। এমনকি তারা আমার মোবাইল ও টাকাও ছিনতাই করে নিয়ে গেছে।

আহত হামিদুর রহমান বলেন, আমি হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা থেকে ওষুধ কেনার জন্য নিচে নেমে আসছিলাম। এসময় জরুরি বিভাগে এক রোগীকে মারপিট করতে দেখে আমি তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলেই তারা আমার ওপরও হামলা চালায় এবং আমার ডান হাত ভেঙ্গে দেয়।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল কাসেম বলেন, ফিল্মি স্টাইলে সন্ত্রাসীরা চিকিৎসকদের বদ্ধ রুমে আটক করে এক রোগীকে মারধর করে। বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশকে খবর দিলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত মজিবর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, মারপিটের ঘটনায় মজিবরের ভাই খলিলুর রহমান বাদী হয়ে চার জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ ব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী মিয়া বলেন, হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের জিম্মি করে রোগীকে মারপিট করার বিষয়টি দুঃখজনক। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কোন নেতা-কর্মী জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

প্রিয় সংবাদ/কামরুল