(প্রিয়.কম) মেহেপুরের মুজিবনগর উপজেলায় ভারত থেকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া ছয় রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ। ২৫ অক্টোবর বুধবার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার কেদারগঞ্জ বাজার থেকে ওই রোহিঙ্গা সদস্যদের আটক করা হয়।

আটক রোহিঙ্গা হলেন মিয়ানমারের নিমেরনাই থানার শিকদারপাড়া গ্রামের আবদুল গনি (৩০), তার স্ত্রী সালেমা খাতুন (২৭), তাদের চার সন্তান জাহাঙ্গীর আলম (১০), নূর হালিমা (৬), সাইফুল ইসলাম (৩) ও তসলিমা খাতুন (১০ মাস)।

মুজিবনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, আটক রোহিঙ্গারা ভোরে সীমান্ত পেরিয়ে কেদারগঞ্জ বাজারে আসেন। তাদের ভাষায় সন্দেহ হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে রোহিঙ্গা পুলিশকে জানান, দুই সপ্তাহ আগে মিয়ানমারে নির্যাতনে শিকার হয়ে পালিয়ে ভারতের পাঞ্জাব শহরে যান। পরে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে সীমান্তে নিয়ে আসে এবং মুজিবনগরের নাজিরাকোনা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে বাধ্য করে।

প্রসঙ্গত, গত আগস্টে রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর বাংলাদেশ মানবিক কারণে ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা শরনার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। ঠিক সে সময়ে তখন ভারত সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের মাধ্যমে কোনো রোহিঙ্গাকে সেদেশে ঢুকতে দিচ্ছে না বরং সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের কৌশলে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। দেশটি বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের পুশইন করছে। সর্বশেষ গত তিন সপ্তাহে শুধু সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়েই অন্তত ৫৭ রোহিঙ্গাকে পুশইন করা হয়েছে।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছিলেন, ‘ভারতে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা শরণার্থী নয়, অবৈধ অভিবাসী, তাদেরকে ভারত থেকে বিতাড়ন করা হবে।’ এমন মন্তব্য করে তিনি বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হন। 

তবে গত ১৪ অক্টোবর দেশটির সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ‘সরকার মানবিক বিবেচনাগুলো এড়িয়ে যেতে পারে না। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যাবে না। প্রয়োজনমতো অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ধারণা করা হয় বিভিন্ন সময়ে রাখাইন থেকে পালিয়ে ভারতে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরনার্থী আশ্রয় নিয়েছে। 

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ