তৈরি পোশাক শিল্পে ভারতের কাছে বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ?

এ অবস্থায় এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই মনে করলেও সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হওয়ার তাগাদা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মিজানুর রহমান
সহ-সম্পাদক
১২ অক্টোবর ২০১৭, সময় - ২১:৩২

বাংলাদেশের একটি পোশাক কারখানা। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ভারত সরকার দেশটির তৈরি পোশাক শিল্প খাতে যে ৬ হাজার কোটি রুপি বা ৮৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ‘স্টিমুলাস প্যাকেজ’ (এক ধরনের অর্থনৈতিক ত্রাণ প্রকল্প) ঘোষণা করেছিল, তার ফল পেতে শুরু করেছে। খাতটিকে আরও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে এ প্যাকেজ ঘোষণা করে ভারত সরকার। তৈরি পোশাক খাতে ভারতের উল্লেখযোগ্য উন্নতির কারণে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান খর্ব হচ্ছে বলে জানা গেছে সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে। তবে এ অবস্থায় এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই মনে করলেও সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হওয়ার তাগাদা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারত সরকারের এ বিশাল ভর্তুকির কারণে দেশটির পোশাক শিল্প ব্যবসায়ীরা এখন অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পোশাক ক্রয়ে ক্রেতাদের আহ্বান জানাতে পারছে। দেশটি ক্রমবর্ধমান হারে এ বাজার দখল করায় অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রেতা হারাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে এ খাত সংশ্লিষ্টরা।

তৈরি পোশাক খাতের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিজিএমই’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘গার্মেন্টস খাতে ভারতের উন্নতির অর্থ হচ্ছে, এ খাতটি আরও প্রতিযোগিতামূলক হচ্ছে ও বাংলাদেশ কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাজার হারাবে।’

একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি তৈরি পোশাক রফতানি করে যুক্তরাষ্ট্রে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ ছিল ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ ভারত আর বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ থেকে নেমে গেছে ষষ্ঠ স্থানে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, ২০১৬ সালে পোশাক খাতে বিশ্ববাজারে ভারতের শেয়ার ছিল ৪ শতাংশ এবং বাংলাদেশের শেয়ার ছিল ৬.৪ শতাংশ। গত অর্থ বছরে ভারতের তৈরি পোশাক রফতানি ১৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ বিলিয়ন ডলারে।

কিন্তু বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ একই অর্থবছরে ২৮.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক রফতানি করেছে, যা তার আগের বছরের চেয়ে মাত্র ০.২০ শতাংশ বেশি।

ধারণা করা হচ্ছে, চলতি অর্থবছরে ভারতের তৈরি পোশাক রফতানি ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ বেড়ে ২০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। ভারতের মোট রফতানির ৩০ শতাংশই হয় যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রসহ দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও জাপানেও ভারতের ভালো বাজার আছে বলে জানিয়েছেন ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার পেসিডেন্ট রাহুল মেহতা। 

বাংলাদেশ কী তাহলে ভারতের কাছে তৈরি পোশাকের বিশ্ব বাজার হারাতে চলছে?

এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থনীতিবিদ শহীদুল ইসলাম প্রিয়.কমকে বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পটি এক দুদিনের নয়। এটি বহু বছরের একটি শিল্প। তাই দু এক বছরের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করা উচিত হবে না।’ আর দু’এক বছরের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এখনই শঙ্কিত হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ প্রিয়.কমকে বলেন, ভারত সরকার ভর্তুকি দিয়ে বাজার দখল করতে চাইছে, এটা বাংলাদেশের জন্য শঙ্কার।

বাংলাদেশের গ্রোথ এত কম কেন, এমন প্রশ্নে উত্তররে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘ভারতের সাথে এ দিক থেকে বাংলাদেশের তুলনা করা যাবে না। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স নানা ধরনের শর্ত দিচ্ছে। এখানে আবার কম মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে। মজুরি কম হলে সেটার প্রভাব উৎপাদনেও পড়বে, এটা স্বাভাবিক। শ্রমিকরা কম মজুরিতে বেশি কাজ করতে চাইবে না। দেশে বড় বড় কারখানাগুলো এখনও ঠিকঠাকভাবে চললেও সাব কন্ট্রাক্ট অর্ডার কমেছে। কমপ্লায়েন্স ইস্যু বেশি হওয়ার কারণে চীন আস্তে আস্তে এ শিল্প থেকে সরে আসছে। ভারত এ ফাঁকা জায়গাটা দখল করতে চাইবে।

ভারতের কাছে বাংলাদেশ বাজার হারাতে পারে কিনা? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এখনই এটা বলা কঠিন। তবে পোশাক শিল্পের বাজার ধরে রাখতে হলে ভারতের সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকতে হবে। এজন্য সরকারের আরও উদ্যোগী হওয়া দরকার।’

প্রিয় বিজনেস/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
জনপ্রিয়