(প্রিয়.কম) মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন সময়ে ভারতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেবে না ভারত। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রায় ১ লক্ষ চাকমা এবং হাজংদের নাগরিত্ব দিতে যাচ্ছে দেশটি। রোহিঙ্গারা মুসলিম, চাকমারা বৌদ্ধ এবং হাজংরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী। 

এমন বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতিসংঘ। এর জবাবে ভারত বলছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকমা ও হাজংদের নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবে না। 

২০১৫ সালে চাকমা এবং হাজংদের ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট নাগরিকত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। পরে তা অরুণাচল সরকার পুনর্বিবেচনার দাবি জানালেও খারিজ হয়ে যায় সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসেন। এতে অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রীর পেমা খান্ডু বলেন, অরুণাচলে ১ লাখের মতো চাকমা ও হাজং জনগোষ্ঠি বাস করে। তাদের নাগরিকত্ব দিলে জনবিন্যাস বদলে অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়বে। রাজ্যে অশান্তিও হতে পারে।

অরুণাচলের রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলি বরাবরই বহিরাগত চাকমা-হাজংদের নাগরিকত্ব দেওয়ার তীব্র বিরোধী।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার সুযোগ নেই কেন্দ্রের। এ সিদ্ধান্ত বিজেপির বিপদ বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সাল থেকে আসামের লুসাই পাহাড় হয়ে তারা ভারতে প্রবেশ করেছেন। অরুণাচল রাজ্যে তারা বসবাস শুরু করেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছেড়ে আসা এ জনগোষ্ঠি দুটির সর্বমোট শরণার্থী ছিল পাঁচ হাজার। যার সংখ্যা এখন প্রায় ১ লক্ষ। 

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

প্রিয় সংবাদ/শান্ত