(প্রিয়.কম) রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব দিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘এখানে প্রত্যাবর্তন সমস্যাটা ত্রি-পক্ষীয়ভাবে করতে হবে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও জাতিসংঘ। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ। ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনায় প্রত্যাবর্তন হবে, এই ব্যবস্থাপনায়ই তালিকা হবে, নাগরিকত্ব দিবে, ক্ষতিপূরণ দেবে ও পুর্নবাসন করবে।’

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রোহিঙ্গাদের যাচাই সাপেক্ষে ফেরত নেওয়ার আশ্বাসের পর এই প্রস্তাব দেন ইনু।

২০ সেপ্টেম্বার বুধবার সচিবালয়ে এক মতবিনিময় সভায় ইনু বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার এবং সুচি, উনি কিন্তু বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বি-পক্ষীয় পথে বিষয়টাকে রাখতে চাচ্ছেন। বাংলাদেশের জন্য এটা মঙ্গলজনক নয়।’

তিনি জানান, দশকের পর দশক ধরে মিয়ানমারের কয়েক লাখ শরণার্থীর ভার বহন করে আসছে বাংলাদেশ। ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির পর মিয়ানমার সোয়া দুই লাখের মতো রোহিঙ্গাকে ফেরত নিয়েছিল। এরপর আর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগোয়নি। এবার রাখাইনে সহিংসতার পর নতুন করে আরও ৪ লাখ যোগ হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সম্প্রতি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধান বাংলাদেশ সমসময় দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সারতে চেয়েছিল, কিন্তু মিয়ানমারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এছারা বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ভারতসহ আরও কয়েকটি দেশে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে, যারা মিয়ানমারে দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে গেছেন।’

রোহিঙ্গা সঙ্কটকে ‘আন্তর্জাতিক সমস্যা’ আখ্যায়িত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আন্তর্জাতিক সমস্যা, সুতরাং দ্বিপক্ষীয় কোনো সমাধান নয়। এই যে যাচাই-বাছাই করবেন। এখানে যাচাই-বাছাই কে করবেন? এখানে প্রত্যাবর্তন সমস্যাটা ত্রি-পক্ষীয়ভাবে করতে হবে- বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও জাতিসংঘ। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ। ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনায় প্রত্যাবর্তন হবে, এই ব্যবস্থাপনায়ই তালিকা হবে, নাগরিকত্ব দিবে, ক্ষতিপূরণ দেবে ও পুর্নবাসন করবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যারা সামরিক যুদ্ধের উসকানি দিচ্ছে, তারা রোহিঙ্গাদেরও ক্ষতি করছে, বাংলাদেশেরও ক্ষতি করছে এবং অঞ্চলেরও ক্ষতি করছে।’

ইনু বলেন, ‘মনে রাখবেন, প্রতিবেশীর ভেতরেই সমস্যা হয়। আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামেও সমস্যা হয়েছিল। বাংলাদেশের উদ্বাস্তু ভারতে গিয়েছিল। ভারত কিন্তু বাংলাদেশে আক্রমণ করেনি বা বাংলাদেশ ভারতকে আক্রমণ করেনি।’

তিনি বলেন, ‘আধুনিক বিশ্বে আমি আরেকটি রাষ্ট্র দখল করে রাখতে পারব না। যুদ্ধ করে কিছু এলাকায় ঢুকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বসাইয়া দিয়ে আসি। আমার সেনাবাহিনী যখন চলে আসবে তখন আবার ওদের (রোহিঙ্গা) বের করে দেবে। এই জায়গাটা আমি কীভাবে হ্যান্ডেল করব- সেই মুন্সিয়ানাটা, সেই কূটনৈতিক বুদ্ধিমত্তা প্রদর্শন করতে হবে।’

ইনু বলেন, ‘মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে। সেজন্য বারবার আমরা বলছি, সামরিক সমাধান নয়।“কূটনৈতিক তৎপরতা, গণমাধ্যমের ‍ভূমিকা ও শেখ হাসিনার শান্তির উদ্যোগ ত্রিমুখী উদ্যোগ।’

প্রিয় সংবাদ/শান্ত