চিয়ারলিডার। ছবি: সংগৃহীত

আইপিএলে চিয়ারলিডাররা ‘ভোগ্যপণ্য’

আইপিএলের মোহনিয়া ক্রিকেটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর এই চিয়ার লিডাররাই।

মেহেরিনা কামাল মুন
সহ-সম্পাদক
১৫ এপ্রিল ২০১৮, সময় - ১০:৪০


চিয়ারলিডার। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) হয়ে স্বল্প পোশাকে আর নাচবে না চিয়ারগার্লস। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির এমন পরিকল্পনায় সাধুবাদ জানিয়েছে খোদ আইপিএল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু যে চিয়ারলিডারদের এই সম্মান দেওয়া তারা কী আদৌ ভালো আছেন আইপিএলের মতো লিগগুলোতে?

মাঠে চলে ব্যাটে-বলের ধুন্ধুমার লড়াই। বিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্সরা যখন বল আছড়ে ফেলেন মাঠের বাইরে বা সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমানরা যখন ফিরিয়ে দেন কোনো ব্যাটসম্যানকে তখন মাঠের বাইরে চলে এর উদযাপন। শুধু সমর্থকদের উদযাপন নয়। আসলে এসব উদযাপনের কেন্দ্রে থাকেন চিয়ারলিডাররা। আইপিএলের মোহনিয়া ক্রিকেটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর এই চিয়ার লিডাররাই।

কিন্তু ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আইপিএল মৌসুমে চাকরি করতে আসা চিয়ারলিডারদের ভারত বিষয়ে অভিজ্ঞতা কেমন তা শুনলে চমকে উঠতে হয়। ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে খোলাখুলি জানিয়েছেন তাদের আইপিএল অভিজ্ঞতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিয়ারলিডার বলেন, ‘প্রাশ্চাত্যে যখন কোনো নারী নৃত্যশিল্পী নাচেন, তখন তার পোশাক, শরীর নিয়ে কেউ ভাবে না। কিন্তু এখানে (ভারত) এটাই দেখে। এদেশে চিয়ারলিডারদের ভোগ্যপণ্য ছাড়া আর কিছুই ভাবা হয় না।’

আরেকজন বলেন, ‘আমি একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে টুর্নামেন্টে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি, এখানে যৌন পণ্য হিসেবেই আমাকে দেখা হয়। আমাদের মূল্য এভাবেই দেওয়া হচ্ছে। আইপিএলে আমাকে নৃত্য শিল্পী না, শুধু মাত্র ভোগ্যপণ্য ভাবা হয়।’

দর্শকদের কাছাকাছি থাকতে হয় বিধায় গ্যালারি থেকে প্রায়ই যৌন-ইঙ্গিত পেতে হয় এবং মুখ বুজে সেসব সহ্য করতে হয়। দর্শকদের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এক চিয়ারলিডার বলেন, ‘মাঠে অনেকেই এমন অঙ্গভঙ্গি করে, মন্তব্য করে যা সহজে মেনে নেওয়া যায় না। এড়িয়ে যেতে বাধ্য হই আমরা। ক্ষমাসুলভ দৃষ্টিতে দেখি। কিছু বলতে গেলে উল্টো আরও খারাপ কথা শুনতে হয়।’

আইপিএলে এসে যেন নতুন নৃত্য শিল্পীরা ভেঙে না পড়েন তাই প্রথম অবস্থায় এই পেশা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এসব চিয়ারলিডাররা। একজন বলেন, ‘যদি কেউ চিয়ারলিডার হতেই চায়, তাহলে অবশ্যই নাচের তালিম নিয়ে চিয়ারলিডার হওয়া উচিত। কারণ সে ক্ষেত্রে এই পেশা হতাশ করলে, নৃত্যশিল্পী হিসেবে জীবনযাপন করা যেতে পারবে।’

এ ছাড়া আইপিএলের বিরুদ্ধে এসব চিয়ারলিডাররা বর্ণবিদ্বেষেরও অভিযোগ তুলেছেন। তাদের মতে, শ্বেতাঙ্গ মেয়েদের বেশি ছোট পোশাক পরতে দেওয়া হয়। অনেকটা বাধ্যই করা হয়। প্রতিবাদ করলে উল্টো চুক্তির অর্থ কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

প্রিয় খেলা/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
বিশ্বকাপ জিতে ইংল্যান্ডকে বিদ্রূপ করলেন পগবা
আনোয়ার হোসেন সোহাগ ১৬ জুলাই ২০১৮
গোলহীন জিরুডের বিশ্বকাপ জয়
ইব্রাহিম সোহান ১৬ জুলাই ২০১৮
মানজুকিচই প্রথম…
আনোয়ার হোসেন সোহাগ ১৬ জুলাই ২০১৮
৮৩২ কেজি ‘নেইমার কোকেন’ উদ্ধার!
সৌরভ মাহমুদ ১৬ জুলাই ২০১৮
ট্রেন্ডিং