ছবি সংগৃহীত

ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মূল লক্ষ্য মানব কল্যাণ : সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী

সাধারণ ব্যাংকের হিসাব-নিকাশ চলে সুদের ভিত্তিতে, কিন্তু ইসলামে সুদ হারাম। সুতরাং ইসলামি ব্যাংকের মূলনীতি হলো, মানুষকে সুদের হারাম থেকে মুক্ত করা।

মিরাজ রহমান
সাংবাদিক ও লেখক
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ০৯:৩৪ আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০১৮, ০০:৪৮
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ০৯:৩৪ আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০১৮, ০০:৪৮


ছবি সংগৃহীত

সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী। ছবি : শামসুল হক রিপন, প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ১৯৬২ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন জনাব ওয়াসেক। ১৯৮৩ সালে আইএফআইসি ব্যাংকে যোগদানের মাধ্যমে তিনি তার ব্যাংকিং ক্যারয়িার শুরু করনে। ইসলামী ব্যাংকিং জগতের একজন অগ্রসর পুরুষ, আলোকিত ব্যাংকার এবং ৩২ বছররেও অধিক সময় ধরে বহুমুখী ব্যাংকিং ধারায় অভিজ্ঞ একজন মানুষ সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী। ২০০৮ সালে তিনি ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগদান করেন এরপর ২০১১ সালে পদোন্নতি লাভ করে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হন এবং ২০১৫ সালে ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে মনোনীত হন ।

এফসিআইবিএল (ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক)-এ যোগদানের আগে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা দায়িত্বসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় তিনি দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও প্রফেশনাল প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। জনাব সৈয়দ ওয়াসেক নানা দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনারে গুরুত্বর্পূণ বক্তব্য উপস্থাপন করে সাড়া জাগিয়েছেন ।

সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর রোটারি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে তিনি গুলশান সোসাইটি-৬ ঢাকার কনভেনর। এ ছাড়াও তিনি গুলশান সোসাইটি ও গুলশান সেন্ট্রাল (আজাদ) মসজিদের আজীবন সদস্য এবং গুলশান ইয়োথ ক্লাব, গুলশান হেলথ ক্লাবসহ নানামুখী সামজিক ও কল্যাণর্ধমী সেবমূলক বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িত ।

প্রিয়.কম : কনভেনশনাল ব্যাংকে না গিয়ে একটি ইসলামিক ব্যাংকের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে নেয়ার পেছনে আপনার প্রেরণা কী?

সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী : আমি কিন্তু কনভেনশনাল ব্যাংকেই ছিলাম। ১৯৮৩ সালে আইএফআইসি (ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড কমার্স) ব্যাংকে জয়েন করার মধ্য দিয়েই আমার ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু হয়। এরপর ডাচ-বাংলা ব্যাংকেও বছরখানেক ছিলাম। ২০০৮ সালে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকে যোগদান করেছি। ইসলামি ব্যাংকে যুক্ত হওয়ার প্রেরণা আমার জীবনের শুরু থেকেই ছিল। আমি যখন আমার ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেছি, তখন বাংলাদেশে বেসরকারি সেক্টরে ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মাত্র। সুতরাং নিজের চাকরি ছেড়ে নতুন একটা চাকরিতে যোগ দেয়া তখন এতো সহজ ছিল না। এখনও সহজ নয়। তবে ২০০৮ সালে যখন একটা ইসলামি ব্যাংকে যোগ দেয়ার সুযোগ পেলাম, তখন আর সুযোগটা হাতছাড়া করিনি।

প্রিয়.কম : ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা, পথচলা এবং বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে আমাদের বলুন।

সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী : ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯৯ সালের অগাস্টে। সেপ্টেম্বরের দিকে এসে কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স পেয়েছেন। আমাদের ব্যাংকের একটা স্লোগান হলো, সবার জন্যে সবসময় (অলওয়েজ পর এভরিওয়ান)। আমাদের ভিশন হল, ক্রমান্নয়ে দেশের প্রধানতম আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং এ জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, মানসম্মত প্রডাক্ট ও সার্ভিস প্রদান এবং অত্যন্ত দক্ষ টিমের মাধ্যমে সেবার মান নিয়ন্ত্রণ করা। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমরা আমাদের লক্ষ উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন। সারা দেশে বর্তমানে আমাদের ব্যাংকের (১৫৬) শাখা রয়েছে এবং ব্যাংকের ক্যাপিটালের পরিমাণ (পরিশোধিত মূলধন ৬৭৮ কোটি টাকা) ছাড়িয়ে গেছে। প্রচলিত ইসলামিক ব্যাংকগুলোতে যেসব সুবিধা ও ইসলামি প্রডাক্ট রয়েছে, আমাদের ব্যাংক কোনো অংশে সেগুলো থেকে পিছিয়ে নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে কম্বল তুলে দিচ্ছেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং ব্যবস্থপনা পরিচালক সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী। ছবি : সংগৃহীত

প্রিয়.কম : বাংলাদেশে দুই ধারার ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। এক. সুদি ব্যাংকিং। দুই. ইসলামিক ব্যাংকিং। এই দুই ধারার ব্যাংকিং ব্যবস্থার মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যগুলো কী কী এবং তুলনামূলক সুবিধা-উপকারিতা কোনটায় কেমন বেশি কম?

সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী : সুদি ব্যাংকিং ও ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো, একটা হালাল ব্যাংকিং, আরেকটা হারাম ব্যাংকিং। সুদি ব্যাংকগুলোর মূল টার্গেট ব্যবসা বৃদ্ধি করা, তাই তা গ্রাহকদের ঋণ দিয়ে লভ্যাংশ গ্রহণের মাধ্যমে হোক, কিংবা হারাম পণ্য বিক্রির মাধ্যমে হোক। কিন্তু ইসলামি ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হল মানব কল্যাণ। আর সুদ ও হারামের মাধ্যমে যেহেতু মানুষের কল্যাণ নষ্ট হয়, তাই ইসলামি ব্যাংক সুদমুক্তভাবে ন্যাচারাল ব্যবসার মাধ্যমে তাদের প্রবৃদ্ধি ঘটিয়ে থাকে।

উপকারিতার বিষয়টি কিছুটা আপেক্ষিক। এখানে সেবার মান বড় একটি প্রশ্ন। ইসলামি ব্যাংকিংয়ে অবশ্যই উপকারিতা বেশি, কিন্তু যদি সঠিকভাবে সেবার মান বজার রাখা না হয়, তবে সে-উপকারিতা মানুষের নজরে পড়বে না। আর সুদি ব্যাংকগুলোর টার্গেট যেহেতু কেবলই ব্যবসা, দেখা যায়, সেবার মান তারা ব্যবসার খাতিরেই ভালো রাখে। কিন্তু একটি কথা মনে রাখতে হবে, সুদি ব্যাংকে একটা নিশ্চিত ও নির্ধারিত লাভ মানুষ চোখে দেখে ঠিক, তবে আখেরে এর পরিণাম কখনোই শুভ হয় না। আর ইসলামি ব্যাংকগুলোতে নির্ধারিত মুনাফা না থাকলেও মুনাফা কিন্তু আদতে কম হয় না। এবং ন্যাচারাল ব্যবসার মাধ্যমে তাদের প্রবৃদ্ধি ঘটে বলে আখেরে তাদের পরিণাম শুভ হয়।

প্রিয়.কম : সাধারণ মানুষ একটি কনভেনশনাল ব্যাংকে না গিয়ে ইসলামিক ব্যাংকে কেনো আসবে?

সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী : সুদ থেকে ও হারাম থেকে যারা বাঁচাতে চায় অবশ্যই তাদেরকে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের সাথে যুক্ত হতে হবে। ঈমান রক্ষার তাগিদে অবশ্যই একজন মুসলিমকে ইসলামি ব্যাংকে আসতে হবে। বর্তমান সময়টা এমন হয়ে উঠেছে যে, ব্যাংকিং ছাড়া সামাজিক জীবন কল্পনা করা প্রায় অবসম্বব। ব্যাংকিং যখন করতেই হবে এবং ইসলামি ব্যাংকিংয়ের যেহেতু সুযোগও আছে, সুতরাং যদি আপনি ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ধারণ করে থাকেন, তাহলে আপনি কিছুতেই একটি কনভেনশনাল ব্যাংকে আপনি যেতে পারেন না।

প্রিয়.কম : ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের মৌলিক নীতিমালা-বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী, সংক্ষেপে যদি বলতেন?

সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী : সাধারণ ব্যাংকের হিসাব-নিকাশ চলে সুদের ভিত্তিতে, কিন্তু ইসলামে সুদ হারাম। সুতরাং ইসলামি ব্যাংকের মূলনীতি হলো, মানুষকে সুদের হারাম থেকে মুক্ত করা। ইসলামী শরীয়ার ভিত্তিতে ইসলামী ব্যাংকিয়ের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়- এই কথা যখন আমরা বলি তখন আমরা এটাই বোঝাতে চাই যে, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে হালাল-হারাম নিয়ে ইসলামের যেখানে যে বিধান আছে সেটা সম্পূর্ণরূপে পালন করা। ইসলামী ব্যাংক শুধু ইসলামী ব্যাংকিং করার জন্য ব্যাংক পরিচালনা করে না, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য করে, সমাজে ইসলামী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য করে। সুতরাং ইসলামী ব্যাংকিংয়ের লক্ষ্য হচ্ছে ইসলামি অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা, আর ইসলামী অর্থনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানব কল্যাণ।

তা ছাড়া ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মূল ভিত্তি হলো আল-কুরআন। ইসলামী শরীয়াহর ব্যাখ্যা হলো, প্রথমত: রিবা নিষিদ্ধ। দ্বিতীয়ত: গারার নিষিদ্ধ। গারার ও জুয়ার সাথে অর্থনীতির বড় একটা সম্পর্ক আছে। গারার ও মাইসির এককভাবে একটা খারাপ পরিণতির দিকে নিয়ে আসে। অনেকেই হয়তো মানব কল্যাণ করে, তবে তা করে দুনিয়ার কল্যাণের কথা চিন্তা করে কিন্তু ইসলাম দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের কল্যাণেরই চিন্তা করে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সাথে সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী। ছবি : সংগৃহীত

প্রিয়.কম : বাংলাদেশে সর্বত্র পরিপূর্ণ ইসলামসম্মত অর্থনীতি চালু করার ক্ষেত্রে কোনো বিষয়গুলো সবচে’ বড় বাধা? এবং এক্ষেত্রে আমাদের কী করণীয়? এ বিষয়ে আপনাদের কোনো পরিকল্পনা আছে কী না?

সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী : উদ্যোগ ও সদিচ্ছার অভাবই বড় বাধা। যারা অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের সিংহভাগ মুসলিম হলেও, ইসলামি অর্থনীতি স্টাবলিস্টমেন্টের জন্যে তাদের মধ্যে তেমন একটা গরজ আমরা দেখি না। বাংলাদেশের ইসলামি নেতৃবৃন্দের মধ্যেও ব্যবসায় শরীয়া নীতিমালা সম্পর্কে মানুষকে জানানোর কোনো তাগিদ লক্ষ করা যায় না। একেবারেই নেই, তা বলছি না। ইসলামি ব্যাংকিং ও ইসলামি ইনসিওরেন্সের কারণে কিছুটা জাগরণ আমরা দেখছি, কিন্তু তা নিয়েও বিভেদের শেষ নেই। যারা অর্থনৈতিক সেক্টরে আছেন, হোক সেটা ব্যাংক-বীমা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান, তাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি।

প্রিয়.কম : যদি কখনো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক-এর কোনো প্রক্রিয়া ইসলামিক শরিয়াহ পরিপন্থী বলে সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্বারা প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রে আপনার ভূমিকা কী হবে?

সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী : অত্যন্ত দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এখানে শরীয়া পালনের দিকটি সর্বদা নজরদারী করা হয়। এ জন্যে যোগ্য মুরাকিববৃন্দ সর্বদা তৎপর রয়েছেন। সুতরাং চট করেই এখানে ইসলামি শরীয়া পরিপন্থি কিছু খুঁজে পাওয়া অবান্তর বৈকি। তারপরও তেমন কিছু যদি বের হয়ে আসে, তবে অবশ্যই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এ বিষয়ে ছাড় দেয়ার প্রশ্নই আসে না।

প্রিয়.কম : বাংলাদেশের ইসলামিক ব্যাংকিং নিয়ে জনগণের মাঝে নেতিবাচক কিছু কথার প্রচলন রয়েছে। অনেকেই বলে, ইসলামিক ব্যাংকগুলোর ভেতরের অবস্থা আর বাহিরের অবস্থা এক নয়। আবার অনেকে বলে, ইসলামিক ব্যাংকগুলো ঘুরিয়ে সুদ খায়- একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে এসব মন্তব্যকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী : আসলে ব্যাংক ব্যবস্থাপনার দিক থেকে দেখলে ইসলামি ব্যাংক ও কনভেনশনাল ব্যাংকের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য চোখে পড়ে না। এ কারণে হয়তো অনেকে মনে করেন, সুদি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই সম্ভবত এ জাতীয় প্রশ্ন উত্থাপিত হয়ে থাকে। আরেকটা কারণ হতে পারে, বিশাল একটি প্রতিষ্ঠানে দুয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা থাকতে পারেন। যারা ইসলামী নীতিমালা প্রয়োগ না করেই কারো সাথে হয়তো লেনদেন করে থাকেন, যা সচরাচর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়ে হয়তো কোনো ভোক্তা এমন মন্তব্য করতে পারেন। প্রকৃত অর্থে ইসলামি ব্যাংকে সুদভিত্তিক লেনদেন হতেই পারে না। সুতরাং যদি কোনো গ্রাহকের মনে এ জাতীয় কোনো খটকা থেকে থাকে, আমরা তাদের প্রতি অনুরোধ জানাবো, যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সেটা অবহিত করতে। তাতে করে আমাদের ত্রুটি থাকলে তা-ও সংশোধন করা সম্ভব হবে এবং তার ভেতরে কোনো ভ্রান্তি বিরাজ করলে তা-ও নিরসন হবে।

প্রিয়.কমকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জনাব একিউএম ছফিউল্লাহ আরিফ, জনাব মোস্তফা খায়ের এবং মাওলানা মিরাজ রহমান। ছবি : শামসুল হক রিপন, প্রিয়.কম

প্রিয়.কম : ব্যাংকিং কার্যক্রমের পাশাপাশি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক-এর আর কী কী সেবামূলক কার্যক্রম রয়েছে?

সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী : ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ইসলামি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং এর মাধ্যমে মানব কল্যাণ করাটাও একটি সেবাই বটে। এ ছাড়াও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ, সাহিত্য-সংস্কৃতিক অ্যাওয়ার্ড প্রদান, দেশব্যাপী স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খেলাধুলা এবং পরিবেশ খাতে নিমিতভাবে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। এছাড়াও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় দুর্ঘটনার সম্মুখীন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে বিভিন্ন জনকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।

প্রিয়.কম : ইসলামি ব্যাংকগুলোতেও দেখা যায়, নারী-পুরুষের সহ-কর্মসংস্থান রয়েছে; যেখানে ইসলামের পর্দার বিধান লঙ্ঘিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতির ক্ষেত্রে কী করণীয় বলে আপনি মনে করেন?

সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী : নারীদের জন্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি-নকরি করাকে ইসলাম নিষেধ করে নি। এ জন্যে নারীদের শালীন পোশাক পরিধানের কথা বলা হয়েছে। আমাদের ব্যাংকে নারীদের জন্যে নির্ধারিত ড্রেস কোড রয়েছে, যাতে শালীনতাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। আর নারীদের নামাজ-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদির জন্যেও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। নারীদের কাজ করার জায়গাটিও আমার যথাসম্ভব পুরুষদের থেকে একটু পৃথক রাখার চেষ্টা করি এবং অধিক পাবলিক ফাংশনের ক্ষেত্রগুলোতে সাধারণত নারীদের রাখা হয় না।

প্রিয়.কম : ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকের বর্তমান ডিপোজিট এবং মোট ক্লায়েন্ট সংখ্যা সম্পর্কে একটি পরিসংখ্যান আমরা জানতে চাচ্ছি।

সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী : ডিপোজিট ২৫,০০০ কোটি  টাকা এবং মোট ক্লায়েন্ট সংখ্যা ১০.৩৪ লক্ষ।

প্রিয়.কম: আপনাকে ধন্যবাদ সময় দেওয়ার জন্য। 

সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী : আপনাকেও ধন্যবাদ। 

সম্পাদনা: গোরা