আন্দোলনকারীরা ইত্তেফাক পত্রিকা পুড়িয়ে  প্রতিবাদ জানায়। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন প্রত্যাহার, ইত্তেফাকের দুঃখপ্রকাশ

‘সংবাদটি ইতোমধ্যেই দৈনিক ইত্তেফাকের প্রিন্টের অনলাইন সংস্করণ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সংবাদের ওপর কারও ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা দুঃখ পেয়ে থাকলে দৈনিক ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ সেইজন্য দুঃখ প্রকাশ করছে।’

ইরফান-উল-হক
সংবাদকর্মী
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:২১ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০০:১৬


আন্দোলনকারীরা ইত্তেফাক পত্রিকা পুড়িয়ে  প্রতিবাদ জানায়। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ‘কোটা আন্দোলনের সেই চার নেতার একজন শিবিরের সক্রিয় কর্মী’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদের মুখে তা প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে দৈনিক ইত্তেফাক। আন্দোলনকারীদের বেঁধে দেওয়া সময়ের পূর্বেই প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার করে নেয় পত্রিকাটির কর্তৃপক্ষ।

১৬ এপ্রিল, সোমবার দুপুরে এ প্রতিবেদনটি অনলাইন সংস্করণ থেকে প্রত্যাহার করা হয়।   

প্রতিবেদন সরিয়ে ফেলার পর দৈনিক ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ তাদের অনলাইন সংস্করণে বিকেল ৪টা ১৩ মিনিটে এক প্রতিবেদনে বলে, ‘সংবাদটি ইতোমধ্যেই দৈনিক ইত্তেফাকের প্রিন্টের অনলাইন সংস্করণ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সংবাদের ওপর কারও ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা দুঃখ পেয়ে থাকলে দৈনিক ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ সেইজন্য দুঃখ প্রকাশ করছে।’

এর আগে কোটা সংস্কারের দাবিতে অান্দোলন করা শিক্ষার্থীরা সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে বিকেল ৫টার মধ্যে প্রতিবেদনটি প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নিয়ে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করেছে দৈনিক ইত্তেফাক—এমন অভিযোগ করে পত্রিকাটিকে আল্টিমেটাম দিয়েছিল আন্দোলনকারীদের প্লাটর্ফম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ’।

এ ছাড়া প্রিন্ট সংস্করণের সোমবারের সংখ্যায় সংবাদটি প্রকাশের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে আন্দোলনকারীরা ইত্তেফাক পত্রিকা পুড়িয়ে  প্রতিবাদ জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র সংগঠনটি বলেছিল, ১৬ এপ্রিল সোমবার বিকেল ৫টার মধ্যে এ প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় ১৭ এপ্রিল, মঙ্গলবার থেকে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইত্তেফাক পত্রিকা বর্জন করা হবে।

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত ‘কোটা আন্দোলনের সেই চার নেতার একজন শিবিরের সক্রিয় কর্মী’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০১২ সালে সূর্যসেন হলের ৫০৫ নম্বর কক্ষে থাকতেন রাশেদ খান। শিবির করার কারণে তিনি হল ছেড়ে চলে যান।

প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতায়। ছবি: সংগৃহীতপ্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতায়। ছবি: সংগৃহীত

সংবাদটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে রাশেদ খান বলেন, ‘আমি ২০১২-১৩ সেশনের ছাত্র। ২০১৩ সালের প্রথম দিকে আমাদের ক্লাস শুরু হয়। তাহলে আমি কীভাবে ২০১২ সালে হলে থাকি। আমি ২০১৩ সালের সূর্যসেন হলের গণরুমে থাকতাম। এমনকি আমি এখনো সূর্যসেন হলে থাকি।’

কোটা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুর লিখিত বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘দৈনিক ইত্তেফাকে আমাদের নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা সত্য নয়। বিকেল ৫টার মধ্যে যদি প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে সারা বাংলার ছাত্রসমাজ ইত্তেফাক পত্রিকা বর্জন করবে।’

৮ এপ্রিল কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সরাতে রাত ৮টার দিকে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। টানা তিন দিন আন্দোলনের পর ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা পদ্ধতি বাতিলের কথা বললে আন্দোলন স্থগিত হয়।

প্রিয় সংবাদ/হাসান/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
পায়ের দেখা ‘পায় না’ পদচারী সেতু
সফিউল আলম রাজা ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  ফোরামের নতুন কমিটি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোরামের নতুন কমিটি
প্রথম আলো - ৩ সপ্তাহ, ২ দিন আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্র-রচনা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্র-রচনা
প্রথম আলো - ১ মাস, ২ সপ্তাহ আগে
‘টাক' নিয়ে আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
‘টাক' নিয়ে আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলা ট্রিবিউন - ১ মাস, ৩ সপ্তাহ আগে
ট্রেন্ডিং