ড. মুনাজ আহমেদ নূর। ছবি: শামছুল হক রিপন

(প্রিয়.কম) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের দায়িত্বে থাকাকালীন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ পান ড. মুনাজ আহমেদ নূর। ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) তাকে বাংলাদেশের প্রথম এ অান্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের আহবান জানায়। ৫৭ টি মুসলিম দেশের সংগঠন ওআইসি পরিচালিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বড় পরিসরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ২০১৬ সালের এপ্রিলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন ড. মুনাজ আহমেদ। 

প্রিয়.কমের সাথে আলাচারিতায় ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যত পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন উপাচার্য ড. মুনাজ আহমেদ নূর।  

প্রিয়.কম: আইইউটি কীভাবে পরিচালিত হয়?

উপাচার্য: বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ওআইসি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে ও বাজেট দেয়। প্রতি বছর আইইউটি ওআইসিকে বাজেট পেশ করে এবং ওআইসিভুক্ত প্রতি দেশ সমন্বয় করে সে বাজেট পাশ করে। তবে সবসময় প্রস্তাবিত বাজেটের শতভাগ পায় না আইইউটি। অনেক দেশই নানা সমস্যার কারণে তাদের প্রতিশ্রুত বাজেট দিতে পারে না। এটি আইইউটির অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ। সে কারণে আইইউটির অনেক শিক্ষার্থীকে নিজ খরচে পড়তে হয়। এদেরকে বলা হয় ‘সেলফ ফাইনান্স’ স্টুডেন্ট। এদেরকে নিজেদের খরচ নিজেদেরই বহন করতে হয়। আইইউটিতে ওআইসি স্কলারশিপ নিয়ে কিছু স্টুডেন্ট পড়াশোনা করে, যাদের থাকা, খাওয়া ও একাডেমিক সব খরচ ওআইসি বহন করে। 

প্রিয়.কম: কত শিক্ষর্থী ওআইসি স্কলারশিপ নিয়ে পড়ছে?

উপাচার্য: এ বছর আইইউটিতে ৪১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে, এদের মধ্যে ১১০ জন শিক্ষার্থী ওআইসি স্কলারশিপ নিয়ে পড়ছে। বাকীদের পড়তে হচ্ছে নিজ খরচে। 

ছবি: শামছুল হক রিপন

প্রিয়.কম: স্কলারশিপের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ আছে?

উপাচার্য: আমরা প্রতিবছরই বাজেট দেই। তবে ওআইসি শতভাগ বাজেট দিতে পারে না। তাই আপাতত এটি বাড়ছে না। 

প্রিয়.কম: ওআইসি স্কলারশিপ কী নির্দিষ্ট? 

উপাচার্য: হ্যাঁ, ওআইসি নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ দিচ্ছে। স্কলারশিপের জন্য ১১০টি আসন বরাদ্দ। 

প্রিয়.কম: স্কলারশিপ কীভাবে নির্ধারিত হয়?

উপাচার্য: এ আসনগুলো ওআইসিভুক্ত ৫৭টি দেশের মধ্যে ভাগ হয় অর্থাৎ প্রতিটি দেশ ৩টি করে আসন পায়। কিন্তু কোনো কারণে যদি সদস্যভুক্ত কোনো দেশ শিক্ষার্থী না দেয়, তখন তা অন্য দেশের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। 

আইইউটি ক্যাম্পাস। ছবি: শামছুল হক রিপন

প্রিয়.কম: এখন কতটি দেশের শিক্ষার্থী আইইউটিতে পড়াশোনা করছে?

উপাচার্য: ওআইসি ভুক্ত ৫৭টি দেশই আইইউটেতে তাদের শিক্ষার্থী দেয়ার কথা। তবে নানা কারণে সবগুলো দেশ শিক্ষার্থী দিতে পারছে না। এ মুহূর্তে আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, পাকিস্তান, ইয়েমেন, সুদান, নাইজেরিয়া, উগান্ডাসহ ২০টিরও বেশি দেশের শিক্ষার্থীরা আইইউটিতে পড়াশোনা করছে। 

প্রিয়.কম: এখন কত শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী? 

উপাচার্য: মোট শিক্ষার্থীর ২০ ভাগ বিদেশি শিক্ষার্থী আর বাকী ৮০ ভাগ স্থানীয় শিক্ষার্থী। সদস্যভুক্ত দেশগুলো পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না দেয়ার কারণে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অন্যান্য দেশের কোটার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী দিয়ে আসণ পূর্ণ করা হয়েছে।

প্রিয়.কম: আইইউটির ভর্তি প্রক্রিয়া কী?

উপাচার্য: আইইউটিতে ভর্তি প্রক্রিয়া দুই ভাবে হয়। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হতে পারে। আর ওআইসিভুক্ত বাকী ৫৬টি দেশের ছাত্ররা আসে নিজ নিজ দেশের মনোনয়নের ভিত্তিতে। আইইউটি থেকে প্রতিটি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ভর্তি কার্যক্রম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়। সে অনুসারে দেশগুলো তাদের পছন্দের শিক্ষার্থীদের মনোনয়ন দেয়। বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সাধারণত নিজ নিজ দেশের মনোনয়নের ভিত্তিতেই ভর্তি চূড়ান্ত হয়। 

প্রিয়.কম: অর্থাৎ প্রথমে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়, তারপর আসন খালি থাকা সাপেক্ষে স্থানীয় শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়..

উপাচার্য: হ্যাঁ, আগে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। তারপর যত সংখ‌্যক আসন খালি থাকে, সে অনুযায়ী স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। 

আইইউটির ল্যাব। ছবি: শামছুল হক রিপন

প্রিয়.কম: আইইউটির কোনো অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম আছে কিনা?

উপাচার্য: ওআইসি এবং আইইউটি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে বিশ্বব্যাপী প্রায় দেড়শ কোটি মুসলমানকে সাহায্য করা, তাদের জীবন মান উন্নীত করা। কিন্তু অর্থনৈতিক ও নানা সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী আইইউটিতে আসতে পারে না। তাদের জন্য দূরশিক্ষণ বা অনলাইন লার্নিং প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে আইইউটি, যা এ বছরের মধ্যেই চালু হওয়ার কথা। ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্কাইপে স্বাক্ষাৎকার নিয়ে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিছু শর্ট কোর্স ও ট্রেড কোর্সও চালু হয়েছে, যাতে অনলাইনের মাধ্যমেই বিদেশে থেকেও আইইউটির ডিগ্রি নেওয়া যায়। তবে এটাকে অারও যত সম্ভব বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে প্রতিষ্ঠানটির। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কিছু অংশও অনলাইনে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে আইইউটির। পুরো কোর্সের যতটুকু অনলাইনে করা সম্ভব, তা যেন শিক্ষার্থীরা অনলাইনে করতে পারে, আর বাকী অংশ যেন ক্যাম্পাসে এসে করতে পারে, তার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

প্রিয়.কম: আইইউটির কত শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পায়?

উপাচার্য: একসময় আইইউটি শতভাগ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ই ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ানোর ওপর মনোযোগ দেওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি এবারই প্রথমবারের মতো আইইউটিতে ১৪০ জনের মতো অনাবাসিক ছাত্র ভর্তি করেছে। পর্যায়ক্রমে তাদের জন্যও আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তবে আপাতত তাদের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে।

প্রিয়.কম: এক সময় আইইউটি ছিল শুধুমাত্র ছেলেদের বিশ্ববিদ্যালয়..

উপাচার্য: হ্যাঁ, এটা সত্যি। আইইউটি চালু হয়েছিল পূর্ণাঙ্গ একটি ছেলেদের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে, এখানে কখনও মেয়ে শিক্ষার্থী ছিল না। কিন্তু আমি উপাচার্য হওয়ার পর মেয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করার উদ্যোগ নেই। আমার উদ্যোগে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে ওআইসি মেয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমতি দেয়। এ বছর প্রথমবারের মতো ৮০ জন মেয়ে শিক্ষার্থীকে ভর্তি করায় আইইউটি। এটি বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩০ বছরের ইতিহাসে যুগান্তকারী পরিবর্তন।

আইইউটির ল্যাব। ছবি: শামছুল হক রিপন

প্রিয়.কম: মেয়েদের আবাসনের ব্যবস্থা কী?

উপাচার্য: ইতোমধ্যে ঢাকার বাইরের সব মেয়ের জন্যই অর্থাৎ ৩৫ জনের অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইইউটিতে মেয়েদের অাবাসিক হলের জন্য দুই মিলিয়ন ডলার (১৬ কোটি টাকা) অনুদান দিয়েছেন। মেয়েদের আবাসিক হল তৈরীর কার্যক্রমও চলছে। এটি হয়ে গেলে শতভাগ মেয়েই আবাসনের সুবিধা পাবে। 

প্রিয়.কম: আইইউটিকে বিশ্ববিদ্যালয় বলা হলেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমতো ছিল অনেক ইনস্টিটিউটের মতো...

উপাচার্য: যেহেতু আইইউটি একটি ইনস্টিটিউট থেকে ইউনিভার্সিটি হয়েছে, তাই আগে এখানে কোনো ফ্যাকাল্টি বা অনুষদের ধারণা ছিল না। আমি উপাচার্য হিসেবে যোগ দেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ফ্যাকাল্টি চালুর উদ্যোগ নেই। ইতোমধ্যে দুটি ফ্যাকাল্টি চালুর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এগুলো হলো ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি এবং ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স এন্ড ভোকেশনাল এডুকেশন। এ দুটি ফ্যাকাল্টি আগামী বছর থেকে কাজ শুরু করবে। 

প্রিয়.কম: আইইউটিতে কতটি বিভাগ আছে?

উপাচার্য: আইইউটিতে এখন মোট পাঁচটি বিভাগ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং,  ইলেট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল এডুকেশন। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিবিএ ইন টেকনোলজি ম্যানেজমেন্ট নামে আরও দুটি বিভাগ চালু করার জন্য ওআইসির কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলাম এবং ওআইসি তাতে সম্মতিও দিয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে নতুন এ দুটি বিভাগ চালু হবে। 

আইইউটির লাইব্রেরি। ছবি: শামছুল হক রিপন

প্রিয়.কম: ভবিষ্যতে আইইউটিকে কোথায় নিয়ে যেতে চান?

উপাচার্য: প্রাথমিকভাবে আগামী চার বছরের মধ্যে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে আইইউটি। আর আগামী ২৫ বছরের মধ্যে ১৫টি বিভাগ এবং ১৫ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। 

প্রিয়.কম: কিন্তু অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হবে কিনা?

উপাচার্য: এ বছরের মধ্যেই বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ একর জায়গার মধ্যে ১৫টি বিভাগ ও ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদানের পরিবেশ থাকবে কিনা, তা যাচাই করে দেখা হবে। তবে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করেত চাই না। যত সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করালে আমাদের ক্যাম্পাসের পরিবেশ অক্ষুন্ন থাকবে, তত সংখ্যক শিক্ষার্থীই ভর্তি করা হবে। ক্যাম্পাসে সবুজের আচ্ছাদন ও পানির ব্যবহার করেছেন তুরস্কের স্থপতি পামির (বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্থপতি লুই আই কানের সরাসরি ছাত্র)। আমরা তার নকশার কোনো পরিবর্তন করার পক্ষে না। 

আইইউটির স্মার্ট ক্লাসরুম। বিশেষ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকেই এ ক্লাসগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ছবি: শামছুল হক রিপন

প্রিয়.কম: ওঅাইসিভুক্ত দেশের বাইরে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ আছে?

উপাচার্য: না, এটা যেহেতু ওআইসি পরিচালিত একটা বিশ্ববিদ্যালয়, তাই এখানে ওআইসির ৫৭টি দেশ ছাড়া অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ নেই। আমাদের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোতে সাহায্য করা। সে উদ্যেশ্য অর্জিত হওয়ার পরে অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপার বিবেচনা করা হবে। 

প্রিয়.কম: এখানে ভোকেশনাল কোর্সের কথাও উল্লেখ করলেন কিছুক্ষণ আগে..

উপাচার্য: আইইউটি বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্বববিদ্যালয়, যেখানে একই সঙ্গে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল কোর্সের পাঠদান করা হয়। দেশের আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সঙ্গে এ দুটি বিষয়ের ওপর ডিগ্রি নেওয়া যায় না। 

প্রিয়.কম: মুসলিম বিশ্বে  আইইউটি কী অবদানর রাখবে?

উপাচার্য: আইইউটি বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সারা বিশ্বের মুসলিম শিক্ষার্থীরা এখান থেকে ডিগ্রি নিয়ে বিশ্বে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবে। এছাড়া প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার ধারণাও পরিবর্তন করে দেবে আইইউটি। 

আইইউটির মসজিদ। ছবি: শামছুল হক রিপন

প্রিয়.কম: আইইউটি কী ইউজিসির অন্তর্ভুক্ত?

উপাচার্য: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আগে মূলত দুটি ক্যাটাগরি ছিল। একটি হচ্ছে পবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আর অন্যটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু আমি উপাচার্য হওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন একটি ক্যাটাগরি চালুর ব্যাপারে আলোচনা করি। সে আলোচনার ভিত্তিতে ইউজিসি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন একটি ক্যাটাগরি চালু করেছে এবং আইইউটিকে ইউজিসির অন্তর্ভুক্ত করেছে। এখন আইইউটি ইউজিসির সব সেবা পাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও একইভাবে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ক্যাটাগরি চালু করতে পারে কিনা, সে বিষয়েও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি।

প্রিয়.কম: আইইউটির ক্লাসরুম কেমন?

উপাচার্য: আইইউটিতে ডিজিটাল ক্লাসরুমের যাবতীয় সুযোগ সুবধিাতো আছেই, পাশাপাশি ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ নামে বিশেষ এক ধরণের ক্লাসরুমও তৈরী করা হয়েছে। এ ক্লাসরুমগুলোতে আছে একটি বিশেষ ও মজার ফিচার। একই ক্লাসরুমে ইচ্ছামতো দিন, রাত, শীত, গ্রীষ্মের পরিবেশ আনা যাবে। এ স্মার্ট ক্লাসরুমকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বানানো হয়েছে বিশেষ মোবাইল অ্যাপ। এ অ্যাপ দিয়ে প্রয়োজন মতো ক্লাসরুমের পরিবেশে পরিবর্তন আনা যাবে। দূর থেকেও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ক্লাসরুম।

প্রিয়.কম: আইইউটিতে পড়াশোনার খরচ কেমন?

উপাচার্য: ওআইসি স্কলারশিপভুক্ত শিক্ষার্থীদের তো থাকা খাওয়াসহ একাডেমিক সব খরচই ফ্রি। তবে স্কলারশিপের বাইরে নিজস্ব খরচে পড়তে হলে চার বছরে খরচ পড়বে সাড়ে ১০ হাজার ডলার, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮ লাখ টাকা। আর আবাসন সুবিধা নিয়ে পড়তে চাইলে তার জন্য খরচ ১৭ হাজার ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। 

প্রিয়.কম: বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের স্মার্ট কার্ডও দিচ্ছে...

উপাচার্য: আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে স্মার্টকার্ড দিচ্ছি। এ একটি কার্ড দিয়েই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অ্যাটেনডেন্স দিতে পারবে, লাইব্রেরি থেকে বই নিতে পারবে ও ক্যান্টিনে খেতে পারবে। এ কার্ড দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব খরচ পরিশোধ করা যাবে, কোনো শিক্ষার্থীকেই আর হাতে হাতে টাকা দিতে হবে না। শিক্ষার্থীকে স্মার্টকার্ড রিচার্জ করতে হবে।  

প্রিয়.কম: আইইউটির শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক বাজারে কতটুকু সুবিধা পাবে?

উপাচার্য: আইইউটির শিক্ষার্থীরা যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি কাজ করতে পারে, সে জন্য জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাবেট অ্যাক্রিডিটেশন প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। অ্যাবেটের একটি পক্রিয়া সম্পন্ন করতে তিন বছরের মতো সময় লাগে। আমরা আশি করছি তিন বছরের মধ্যে আইইউটির অন্তত দুটি প্রোগ্রাম অ্যাবেট অ্যাক্রিডিটেটেড হয়ে যাবে, তখন এ দুটি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের যেকোনো জায়গায় আইইউটির ডিগ্রি নিয়ে সরাসরি চাকরি করতে পারবে, তাদের আলাদা যোগ্যতা প্রমাণমূলক পরীক্ষা দিতে হবে না।

প্রিয়.কম: আপনার পরিকল্পনা সফল হোক। আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

উপাচার্য: আমাদের কার্যক্রম মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রিয়.কম-কেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

সম্পাদনা: তানজিল রিমন