(ইলিয়াস আহমেদ খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) চলতি ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। এখানে প্রতি আসনে লড়েছেন প্রায় ১৫০ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী।

এই ভর্তি পরীক্ষা দীর্ঘ ৮ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘসময় ব্যাপী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ে। এ বছর অনুষদ ও ইনন্সিটিউট ভিত্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ও দ্বিতীয়দিনে গাণিতিক ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ক পরীক্ষা ৯ শিফটে অনুষ্ঠিত হয়। আবার বিজ্ঞান বিভাগেরই ‘এইচ ইউনিট’ আইআইটি বিভাগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম দিনে। ফলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

তাছাড়াও মোবাইলে প্রাপ্ত ক্ষুদে বার্তায় পরীক্ষার কেন্দ্র ও কক্ষ বিভ্রান্তের শিকার হচ্ছেন অনেক পরীক্ষার্থী। প্রথম দিনে ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষায় অনেক পরীক্ষার্থীর মোবাইলে প্রাপ্ত ক্ষুদে বার্তায় পরীক্ষা কেন্দ্রের কক্ষ নম্বর ভুল ছিল বলে পরীক্ষার্থী জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ৪৪৫, ৪৫৬ নামের কোন কক্ষ না থাকলেও অনেক ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীর মোবাইলের খুদে বার্তায় এই কক্ষের নম্বরগুলো আসে। আবার অনেকের মোবাইলে আসা আসন বিন্যাসে বিভিন্ন বিভাগের নাম ভুল হিসেবে এসেছে।

এদিকে দ্বিতীয়বারের মত এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি  বিভাগ তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কিত অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পরীক্ষার্থীদের আসন বিষয়ক ক্ষুদে বার্তা বিড়ম্বনা সম্পর্কে আই আই টি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এ কে এম আককাছ আলী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে এরকম ছোট কিছু ভুল হয়েছে। মূলত ডীন অফিস থেকে দেওয়া সিট প্লান অনুযায়ী আমরা পরীক্ষার্থীদের ক্ষুদে বার্তায় তথ্য দিয়েছি। তবে পরবর্তী সময়ে আমরা এসব বিষয় লক্ষ্য রাখব।

অন্যদিকে, এ বছরও জালিয়াতি চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিম। পরবর্তীতে প্রক্টোরিয়াল টিম তাদেরকে প্রশাসনের কাছে তুলে দেয়। প্রথমবারের মতো ভর্তি পরীক্ষাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্ত ছিল ভ্রাম্যমান আদালত  (মোবাইল কোর্ট)। আটককৃত জাতিয়াতি চক্রের তিন জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশ গেটে ছিল আনসার সদস্য, নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্যরা। এ বছরই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতি রোধে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে প্রশাসন ভ্রম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) নিযুক্ত করে।

২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে  ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব মো. আবু হাসান জানান, টানা ৮ দিনের কর্মজজ্ঞ ছিল এ ভর্তি পরীক্ষা। এ সময়ে ছোট খাটো বিভিন্ন ভুল-ত্রুটি হয়েছে। যে কোন তথ্য আমরা আমলে নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। জাতিয়াতি চক্রের কয়েকজনকে আমরা আইনের আওতায় আনতে পেরেছি।

প্রিয় সংবাদ/সজিব