(প্রিয়.কম) বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

২ অক্টোবর সোমবার বাংলাদেশ সফররত মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির দফতর বিষয়ক মন্ত্রী কিও তিন্ত সোয়ের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি।

বৈঠকে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে জানান মাহমুদ আলী। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল খুব শিগগিরই মিয়ানমার সফর করবেন। ওই সফরে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, পররাষ্ট্রসচিব শহিদুল হক, বিজিবির মহাপরিচালক আবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালাতে শুরু করলে এই প্রথম দেশটির কোনো প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফর করছেন। তবে তিনি কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের দেখতে যাবেন না বলে জানিয়েছেন।

এদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখতে তিন দিনের সফরে আজ ২ অক্টোবর ঢাকা আসছেন জাতিসংঘের মানবিক এবং জরুরি ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয়কারি আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক ও জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেক। 

সফরকালে তারা ২ অক্টোবর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন এবং ৩ অক্টোবর জেলা শহরের ওসান প্যারাডাইস হোটেলে দুপুর দুইটায় সংবাদ সম্মেলন করবেন। 

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। ফাইল ছবি          

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। ফাইল ছবি

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধন অভিযান শুরুর পর প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা ৬ লাখেরও বেশি। এদিকে পালিয়ে আসার হার আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও, তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বলার সময় এখনও হয়নি জানান সংস্থাটির মুখপাত্র।     

অভিযানের নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী খুন, ধর্ষণ, ঘরবাড়ি পুরিয়ে দেওয়া, কুপিয়ে হত্যাসহ বর্বরতার চূড়ান্ত সীমাও অতিক্রম করেছে বলে অভিযোগ নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইচ ওয়াচের। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংস্থাটি বলেছে, ইতোমধ্যে প্রায় ২১৪টি রোহিঙ্গা অধুষ্যিত গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে। তাই দেশটির ওপর কিছু ক্ষেত্রে ও তার সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

প্রিয় সংবাদ/রিমন