পাতিলাপুর গ্রামের হত দরিদ্র মোক্তার আলীর স্ত্রী ছালেহা বেওয়া।

৭০ বছর বয়সেও জোটেনি ভাতা

ছালেহা জানান, এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পাননি বিধবা বা বয়স্কভাতার কার্ড।

জেলা প্রতিনিধি
প্রিয়.কম
১৬ এপ্রিল ২০১৮, সময় - ২২:৩৩


পাতিলাপুর গ্রামের হত দরিদ্র মোক্তার আলীর স্ত্রী ছালেহা বেওয়া।

(প্রিয়.কম) তার পাশে দাঁড়ানোর মতো যারা ছিলেন, তারা সবাই মারা গেছে। আশ্রয় হয়েছে দিনমজুর জামাইয়ের বাড়িতে। শরীরে বহন করছেন বিশাল আকৃতির ঘ্যাগ বা গলগন্ড। এ জীবনের বোঝা যেন আর বয়ে নেবার সামর্থ নাই। শৈল্য চিকিৎসা করে ঘ্যাগ অপসারণ করাবেন, সে সামর্থও তার নাই।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের পাতিলাপুর গ্রামের হত দরিদ্র মোক্তার আলীর স্ত্রী  ছালেহা বেওয়া (৭০)। স্বামী ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন। মারা গেছেন ১০ বছর আগে। এরপর একমাত্র পূত্র আমিনুর রহমান দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। দুই বছর পর সে ছেলেও মারা যান। বৃদ্ধ বয়সে ছালেহার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। কোথায় যাবেন, কী খাবেন!

এ অবস্থায় ঠাঁই হয় হত দরিদ্র মেয়ে মের্শেদা বেগম ও দিন মজুর জামাইয়ের সংসারে। তাদেরও অভাবী সংসারের টানাপড়েন। বাধ্য হয়ে ছালেহাকে নামতে হয় ভিক্ষাবৃত্তিতে।

ছালেহা জানান, এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পাননি বিধবা বা বয়স্কভাতার কার্ড। তার ভাষায় ‘৩-৪ হাজার ট্যাকাও দিবের পাং নাই কাডো পাং নাই। ভাতে জোটে না চিকিৎসা করোং কি দিয়া।’

এভাবেই চলছে ছালেহার জীবন সংগ্রাম। ছালেহার বেঁচে থাকার প্রশ্নে অনেক কিছুরই জবাব নেই।

এ বিষয়ে থেতরাই ইউপি চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী সরকার বলেন, আমি ওই ওয়ার্ডের মেম্বারকে বলেছিলাম ভাতা দেয়ার জন্য, দিয়েছে কি না জানি না।

ছালেহা বেওয়ার গলায় অপারেশনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. এস এম আমিনুল ইসলাম। 

প্রিয় সংবাদ/হিরা/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
‘কেন শিক্ষকরা লাঞ্ছিত হলো’
ইতি আফরোজ ১৬ জুলাই ২০১৮
মোবাইল ‘চুরি’র ঘটনায় নাকে খত, জরিমানা আড়াই লাখ টাকা
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ১৬ জুলাই ২০১৮