(প্রিয়.কম) হবিগঞ্জের স্থানীয় দৈনিক বিজয়ের প্রতিধ্বনি’র সম্পাদক ও প্রকাশক আনিছুজ্জামান চৌধুরী রতনের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন চুনারুঘাট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান চৌধুরী।

০৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেড তৌহিদুল ইসলামের আদালতে এ মামলাটি করা হয়। 

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৩০ নভেম্বর আনিছুজ্জামান চৌধুরীর সম্পাদনা ও প্রকাশনায় হবিগঞ্জ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক বিজয়ের প্রতিধ্বনি’ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ‘চুনারুঘাট-মাধবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটি সভার প্রতিবাদ প্রসঙ্গে’ শিরোনামে একটি প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তথ্যে বলা হয় লুৎফুর রহমানে পিতা ১৯৭১ সালের পিস কমিটির তালিকাভূক্ত সদস্য ছিলেন। একইসঙ্গে গত সংসদ নির্বাচনে এডভোকেট মাহবুব আলী চুনারুঘাট-মাধবপুর আসনে নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর শায়েস্তাগঞ্জ গোল চত্তরে কালো ব্যাচ ধারণ করে উনার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন।

তিনি মামলায় উল্লেখ্য করেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছি এবং কালো ব্যাচের মানববন্ধনে আমার উপস্থিতি ছিল না। অথচ দৈনিক বিজয়ের প্রতিধ্বনি পত্রিকা আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে আমার পিতা ও পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে। এতে আমি রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। আনুমানিক এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকা।

এ ব্যাপারে দৈনিক বিজয়ের প্রতিধ্বনি’র সম্পাদক ও প্রকাশক আনিছুজ্জামান রতন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘দলীয় নেতাদের বাদ দিয়ে জামায়াত-বিএনপির সাথে কাজ করছেন এমপি মাহবুব আলী’ এমন অভিযোগসহ বেশ কিছু অভিযোগ এনে গত ২৪ নভেম্বর সাতছড়িতে এক সমাবেশ করে চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ নভেম্বর বিজয়ের প্রতিধ্বনি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। গত ২৫ নভেম্বর চুনারুঘাট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা এক সভায় এমপি মাহবুব আলীর বিরুদ্ধে সমাবেশের নিন্দা জানান। ২৬ নভেম্বর বিজয়ের প্রতিধ্বনি পত্রিকায় এ নিয়েও একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এরই জের ধরে চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা পত্রিকায় প্রেরিত এক প্রতিবাদলিপি আমার পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছিল। তিনি প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তির উপর নির্ভর করে মামলা করেছেন।

তিনি আরও বলেন প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিটি আরও একটি স্থানীয় পত্রিকা প্রকাশ করেছে। কিন্তু তিনি ওই পত্রিকাটি বাদ দিয়ে শুধু আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এতেই প্রমাণ হয় যে তিনি উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছেন। যেহেতু তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। সেহেতু আমি অবশ্যই আদালতে উপস্থিত হয়ে এর ব্যাখ্যা দেব।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল