আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

সাজা বাড়ানোর রুল নিয়ে বিতর্ক

খালেদা জিয়ার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীরা পরস্পর পরস্পরকে দুষছেন।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০১৮, ১১:৪৪ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২০:৪৮


আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। 

জারি করা এই রুল নিয়ে খালেদা জিয়ার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীরা পরস্পর পরস্পরকে দুষছেন। হাইকোর্টের এই রুলের বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দুদক যে রিভিশন আবেদন করেছে সেটি আইন অনুযায়ী চলে না।’

জয়নুল আবেদীনের যুক্তি দুদকের মামলার বিচার করা হয় বিশেষ আইনে। দুদকের মামলাগুলোতে আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আসতে হবে ক্রিমিনাল ‘ল’ অ্যামেনমেন্ট অ্যাক্ট ১৯৫৮ অনুযায়ী।

জয়নুল বলেন, ‘এখানে দুদক যদি খালেদা জিয়ার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিশন করেন বা করতে হয় সে ক্ষেত্রে ফৌজদারী কারাবিধির (সংশোধিত) ৪১৭(এ) অনুসরণ করতে হবে। এই আইনে অন্য বিষয় নিয়ে মামলা করতে পারবে সরকার কিন্তু দুদক মামলা করতে পারবে না।’

অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলছেন, ‘ফৌজদারী কার্যবিধির (সংশোধিত আইন) ১০-এর ১(এ) ধারা অনুযায়ী আমরা হাইকোর্টে রিভিশন ফাইল করেছি। খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়েছি। আদালত আমাদের আবেদনের শুনানি করে রুল জারি করেছেন।’

যদিও খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ক্রিমিনাল ল অ্যামেনমেন্ট অ্যাক্ট (১৯৫৮)-এর ধারা ১০-এর ১(এ) অনুযায়ী দুদক হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করেছে সাজা বৃদ্ধির জন্য। কিন্তু ১০-এর ১(এ)’তে সাজা বৃদ্ধির জন্য রিভিশন দায়েরের কোনো সুযোগ নেই।

বিচারিক আদালতের কোনো কোনো আদেশের বিরুদ্ধে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে ধারা ১০-এর ১(এ) অনুযায়ী রিভিশনের সুযোগ আছে। কিন্তু এটি সাজা বৃদ্ধির জন্য নয়, রিভিশনের জন্য। আর এতে দুর্নীতি দমন কমিশন ফাইল করেছে আইনগতভাবে তা রক্ষণীয় নয়। দুদক চাইলে আপিল করতে পারেব। রিভিশন চলবে না। তিনি (খুরশীদ আলম খান) আইনটি সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি করতে না পেরে ভুল ব্যাখা দিয়ে রিভিশনটি ফাইল করেছেন।’

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, “যদিও হাইকোর্ট ডিভিশন আবেদনের শুনানি করে প্রাথমিকভাবে রুল জারি করেছেন। কিন্তু চূড়ান্ত শুনানিতে এই রুল টিকবে না। ডিসচার্জ (গ্রহণযোগ্য না হওয়া) হবে। এই পয়েন্টে যখন আদালতে শুনানি হয়, তখন আমরা বলি এটি আইনগতভাবে বার্ড (বাতিল)। এই রিভিশন রক্ষণীয় নয়। আমরা আদালতের কাছে আবেদনটি সরাসরি খারিজ চেয়েছি। তখন আদালত বলেন, ‘আপনাদের যুক্তির সমর্থন আছে। তবে, আপনাদের বক্তব্য আইনগতভাবে বিবেচনায় নিতে গেলে রুল ইস্যু না করলে আপনাদের এই বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হতো না। এ কারণেই রুল ইস্যু করলাম এবং আপিলের সঙ্গে রুলটি নিষ্পতি হবে।’”

রুল জারি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আকতার উল ইসলাম প্রিয়.কমকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের বিষয়ে দুদকের রিভিশন আবেদন চলে না। তারা ( দুদক) এ মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে। রিভিশন চলবে না।

দুদক খালেদা জিয়ার রায়ের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করে আইনগতভাবে ভুল করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলাগুলো পরিচালিত হবে বিশেষ আইন দ্বারা। আর বিশেষ আইনের মামলাগুলোর রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আপিল করা যায়। রিভিশন করার সুযোগ নেই।’

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী মওদুদ আহমদ বলেন, ‘রাজনীতির চাপে তারা (দুদক) খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন ফাইল করেছে। এটা দুদকের নিজস্ব বিষয় না।’

জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, ‘দুদক এইটি স্বাধীন দায়িত্বশীল সংস্থা। এ মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার যে ৫ বছরের সাজা হয়েছে এতে তারা (দুদক) ক্ষুব্ধ হলেন কিভাবে? এটাতো কোনো প্রাইভেট কোম্পানি আর দুদকের মামলা নয়। এতে বোঝা যাচ্ছে তারা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছেন না। রাজনীতির চাপে তারা এই আবেদন ফাইল করেছে। এটা দুদকের নিজস্ব পলিসি না।’

দুদকের ভূমিকা নিয়ে মওদুদ বলেন, ‘কোন রাজনৈতিক দলের কে বা কার বিরুদ্ধে এ মামলা, সেসব দেখে দুদকের ক্ষুব্ধ হওয়ার কথা না। আমরা আদালতে বলেছি তাদের (দুদকের) যদি রিভিশন করতে হয় তাহলে আইন পরিবর্তন করতে হবে। আইন পরিবর্তন না করলে এটা (রিভিশন আবেদন) তাদের প্রত্যাহার করা উচিত।’

২৮ মার্চ, বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি একেএম সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও খালেদা জিয়াকে চার সপ্তাহের মধ্যে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এতিমদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশিবাজারের অস্থায়ী আদালতের বিচারক ড. আকতারুজ্জামান

এ মামলার অপর আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার পর থেকেই পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া।

প্রিয় সংবাদ/ফারজানা/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
আদালতে তোলা হচ্ছে রফিকুল ইসলাম মিয়াকে
আমিনুল ইসলাম মল্লিক ২১ নভেম্বর ২০১৮
শোডাউনকারীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না: মির্জা ফখরুল
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ২১ নভেম্বর ২০১৮
তিন জেলায় গুলিতে নিহত ৪
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ২১ নভেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
ট্রেন্ডিং