ছবিঃ সংগৃহীত

প্রবল বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতির মুখে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা

দেশের মোট ভোগ্যপণ্যের ৪০-৫০ শতাংশ খাতুনগঞ্জে বিকিকিনি হয়। প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে এক হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয় এ বাজারে।

এম. রেজাউল করিম
প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০১৭, ২১:৫৭ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৯:০০
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০১৭, ২১:৫৭ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৯:০০


ছবিঃ সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) টানা বর্ষণ আর জোয়ারের পানিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই ও আছদগঞ্জ এলাকা। পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় আর্থিক ক্ষতির শিকার দেশের প্রায় ৬ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জলাবদ্ধতা ও জোয়ারের কারণে ৯০ শতাংশেরও বেশি দোকান ও আড়তে পানি ঢুকে পড়ে। 

টানা বৃষ্টির কারণে সাময়িতভাবে পণ্য সংগ্রহ, সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থায় ছন্দপতন ঘটে। কিন্তু বন্দরের জেটি কিংবা অন্যান্য এলাকার গুদাম ও পানি কমলে স্বাভাবিক হয়ে আসে পণ্য সংগ্রহ, সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থা। তবে বিভিন্ন পণ্যের দাম আগের মতোই।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, দেশের মোট ভোগ্যপণ্যের ৪০-৫০ শতাংশ খাতুনগঞ্জে বিকিকিনি হয়। প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে এক হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয় এ বাজারে। কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়নের অভাবে এখানকার ব্যবসায়ীরা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। সুইস গেট না থাকা ও চাক্তাই-রাজাখালী খাল কার্যত ভরাট হয়ে যাওয়ায় খাতুনগঞ্জে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। জনপ্রতিনিধিদের এসব সমস্যা জানানো হলেও কোনো প্রতিকার হয়নি। ফলে খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, আছদগঞ্জ, কোরবানীগঞ্জ, চামড়ার গুদাম এলাকা ও শুঁটকিপট্টি পুরো বাণিজ্যিক এলাকা কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও পুরোপুরিভাবে পানিতে তলিয়ে যায়।

গত এক সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে পাইকারি বাজার এলাকার মধ্যম চাক্তাই, নতুন চাক্তাই, চরচাক্তাই, পুরাতন চাক্তাই, মকবুল সওদাগর রোড ও আছদগঞ্জের প্রতিটি সড়ক পানিতে তলিয়ে ছিল। এ ছাড়া খাতুনগঞ্জ সড়কের পাশে হামিদুল্লাহ মার্কেটে পানি ছিল গলা সমান। পাশাপাশি চান্দমিয়া গলি, ইলিয়াছ মার্কেট, বাদশা মার্কেট, সোনামিয়া মার্কেট, নবী মার্কেট, মাল্লা মার্কেট, চাক্তাই মসজিদ গলি, ড্রামপট্টি, চালপট্টি ও এজাজ মার্কেটসহ বেশিরভাগ মার্কেটেই পানি ঢুকে পড়েছে। এখানকার ব্যবসায়ীরা জলাবদ্ধতার কারণে চাক্তাই-রাজাখালী খালসহ গুরুত্বপূর্ণ খালের মুখগুলো ভরাট হওয়াকে দায়ী করেছেন। প্রতি বছর বর্ষা আসে আর যায়। কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। 

চকবাজার, বাকলিয়া ও আন্দরকিল্লা এলাকায় বেশ কয়েকটি খুচরো দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রভেদে পাঁচ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে দাম। জলাবদ্ধতার অজুহাতে নগরীর পশ্চিম বাকলিয়া এলাকার মুদি দোকানদার মানব পাল আলু, পেঁয়াজ, চিনি, ডিম ও চাল স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে একটু বেশি দামে বিক্রি করছেন। 

গতকাল নগরের এক অনুষ্ঠানে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রামের ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। দিন দিন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নগরবাসী যেভাবে জলাবদ্ধতায় কষ্ট পাচ্ছে, তা অবর্ণনীয়। তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে ৮০৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে উপস্থাপনের অপেক্ষায় আছে। চসিকের গৃহীত প্রকল্পের মধ্যে ছয় হাজার ৫২৪ কোটি টাকার পৃথক তিনটি প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে আছে। এর মধ্যে সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গৃহীত ৯২৪ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প রয়েছে।

প্রিয়.বিজনেস /কামরুল