ছবি সংগৃহীত

বয়স থাকতেই যেন প্রাপ্য পুরস্কার দেয়া হয়: কুদ্দুস বয়াতি

পালাকার শিল্পী কুদ্দুস বয়াতি। পরিশ্রমের সাথে প্রতিভাকে সমন্বয় করে হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তী। বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রিয়.কম কথা বলেছিল তার সাথে।

শ্রাবণ আহমেদ
লেখক
প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০১৭, ০৪:২৩ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৮:৪৮
প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০১৭, ০৪:২৩ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৮:৪৮


ছবি সংগৃহীত

কুদ্দুস বয়াতি। ছবি: শাহরিয়ার তামিম, প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) পালাকার শিল্পী কুদ্দুস বয়াতি। ‘কুদ্দুইচ্ছা’ নামেই সবাই তাকে চিনে। পরিশ্রমের সাথে প্রতিভাকে সমন্বয় করে হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তী। চল্লিশ বছর ধরে বাংলার এই ঐতিহ্য শিল্পটাকে নতুন মাত্রায় একাই তুলে ধরেছেন দেশে-বিদেশে। মেঘলা আকাশ, মুখ কালো সকালে, গুড়িগুড়ি-বৃষ্টি-ভেঙ্গে বয়াতির বাসায় উঠলাম আমরা দুজন। ড্রয়িংরুমে অপেক্ষা করছি বয়াতির জন্য। ধূসর রঙের প্যান্ট, হলদে টি-সার্ট, হাতে বিভিন্ন ধরনের ব্রেসলেট পরে, মাথায় বাংলাদেশের পতাকা বেঁধে, আচমকা গতিতে বয়াতি আমাদের পাশের সোফায় আসন নিয়ে বসলেন। হঠাৎ-ই রোমাঞ্চিত হলাম। সকালবেলা এমন একটা দেশিয় সাজ দেখার জন্য হয়তো প্রস্তুত ছিলাম না। বয়াতির সাজের ঘোরটা মাথায় কিছুক্ষণের জন্যে সাইকোলজিক্যালি কী যেন একটা ক্রিয়া করে গেল, শুধু তাকিয়ে রইলাম! ঘোর কাটলো বয়াতির প্রশ্নে, ‘কেমন আছেন আপনারা?’

প্রিয়.কম: ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

কুদ্দুস বয়াতি: ভালো আছি, ভালো থাকতে হয়।

প্রিয়.কম: ভালো দেখাচ্ছে আপনাকে। এখন কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন আপনি?

কুদ্দুস বয়াতি: ধন্যবাদ। গ্রাম-গঞ্জে-পালা গান নিয়ে ব্যস্ত আছি। দেশে-বিদেশে গান করে বেড়াই। রেডিও, টেলিভিশনে মাঝে মাঝে সময় দেই, এভাবেই চলছে...

প্রিয়.কম: ‘এসো মা হে’ গানে আপনাকে কিন্তু দারুণ লেগেছে…

কুদ্দুস বয়াতি: (হেসে) আমার কাছেও ব্যাপারটা ভালো লেগেছে। আমরা একটা সময় পার করে দিয়েছি একই তালে। এখন যুগ ভিন্ন, মানুষের রুচিবোধ ভিন্ন। তাই শুধু এই গানে না; প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙ্গেচুড়ে নতুন রুপ দিতে চেষ্টা করেছি। ২৫ বছর আগেই গুরু হুমায়ূন আহমেদ এর লেখা- ‘এই দিন দিন না, আরও দিন আছে, এই দিনেরে লইয়া যাইবো সেই দিনের কাছে’ গানটিতে বলে রেখেছিলাম, বাংলাদেশের লোকজ পালাগানগুলোকে আধুনিক হিপহপ মিশ্রণে জনপ্রিয় করা যায়। সেটিই করে দেখিয়েছি।

কুদ্দুস বয়াতি। ছবি: শাহরিয়ার তামিম, প্রিয়.কম

প্রিয়.কম: বাহ্। ভালো লাগলো। আপনাকে ছোটবেলা থেকে একই রকম দেখছি! রহস্যটা কী?

কুদ্দুস বয়াতি: এটা আসলে পরিশ্রম। আমি খাবার-দাবারের বেলায় সচেতন থাকি। নিয়মিত ব্যায়াম করি। তাছাড়া ছোটবেলার একটা ব্যাপার তো আছেই। আমার দুখিনী মা আমাকে ছোলা, মটর ভেজে খাওয়াতেন, গাছের তাজা ফল পেড়ে খাওয়াতেন। গরুর দুধ, কবুতরের বাচ্চা, পুকুরের শিং মাছ, কৈ মাছ ভেজে আমাকে খাওয়াতেন। মা বলতেন, ‘বাবা মাছের মাথায় কামড় দিয়ে মাছ খাওয়া শুরু করবা, লিজে গিয়ে শেষ করবা, মাছের কাঁটা ফেলা যাবে না।’ আর এখন তো সবকিছুতে ভেজাল।

প্রিয়.কম: ছোটবেলা থেকেই তাহলে মাকে ঘিরে থাকতেন?

কুদ্দুস বয়াতি: ছোটবেলায় আমার জগৎ-ই ছিল আমার মা আর আমার ওস্তাদ মনসুর বয়াতিকে ঘিরে। যখন ছোট ছিলাম- মা আমাকে শিখিয়েছেন দুঃখ কী করে এড়িয়ে চলতে হয়। মা আমাকে কলাই, মটর ভেজে দিতেন গ্রামে গ্রামে বিক্রি করার জন্য। আমি বন্ধুদের সাথে মাছ ধরেছি- সেই মাছ বাজারে বিক্রি করেছি। নদী, খাল, ধানক্ষেত, বাঁকের গাছের নিচে বাঁশের মাচা আর দল বেঁধে গাওয়া ওস্তাদের গান আমায় খুব টানতো। স্কুল, পড়াশোনা ভালো লাগতো না। আমি ওস্তাদের কাছে চলে যেতাম। আমার ওস্তাদ ছিলেন অন্ধ মানুষ। কোলের উপর একটি বালিশ নিয়ে তিনি গান গাইতেন। আমি ওস্তাদের পায়ের কাছে বসে মন দিয়ে শুনতাম। ওস্তাদ আমাকে নানান বিষয়ে বলতেন। গানের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো ধরিয়ে দিতেন।

প্রিয়.কম: ‘কুদ্দুস বয়াতি’ হয়ে ওঠার গল্পটা জানতে চাই…

কুদ্দুস বয়াতি: হাজার বছর আগের মহুয়া, মলুয়া, দেওয়ান বাদশা, কাঞ্চন বাদশা, হাতেমতাইসহ এমন অনেক ধরনের পালার গান ধরার লাইনটা ওস্তাদ শিখিয়ে দিয়েছিলেন। আমাকে নিয়ে ওস্তাদ বিভিন্ন জায়গায় যেতেন। গানের আসর, মজমা আরো অনেক জায়গায়; এক সের-আধ সের চাউলের বিনিময়ে আমি গান করতাম। মানুষ খুশি হয়ে যা দিত তাই নিতাম। আমাদের গ্রামের পাশে তুরুকপাড়া নামে একটি গ্রামে ওস্তাদের একদিন বায়না পড়ল। ওস্তাদ আমাকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন; বললেন, ‘আমার শীর্ষ কুদ্দুস, দু-একটা কথা আপনাদের শোনাইতে চায়।’ আমি ভাবলাম- যদি গানের চরিত্রের সাথে মিল রেখে পোশাক পরা যায়; কোমরে শাড়ি বেঁধে, কোমর দুলিয়ে গান করা যায়, তাহলে কেমন হয়। সারারাত গান করলাম, দেখলাম একজন মানুষও আসর থেকে উঠে যায় না। সে রাতেই পাঁচ টাকা সম্মানী উঠেছিল। তখন আমি সাহস পেলাম যে, আমি নিশ্চয়ই পারবো। তারপর শুরু করলাম বয়াতি জীবন। ৩০ বছর আগে আমার গুরু হুমায়ূন আহমেদ একটা গান লিখে দিয়েছিল, ‘এই দিন, দিন না, আরো দিন আছে।’ গানটি গেয়ে ভীষণ ভালোবাসা পাই মানুষের কাছ থেকে।

কুদ্দুস বয়াতি। ছবি: শাহরিয়ার তামিম, প্রিয়.কম

প্রিয়.কম: হুমায়ূন আহমেদ স্যারের সাথে কোনো স্মৃতি মনে আছে?

কুদ্দুস বয়াতি: হুমায়ূন স্যার আমার বাড়িতে লোক পাঠিয়েছেন ‘খাদক’ নাটকে কাজ করার জন্যে। আমার মা আমাকে কিছুতেই ঢাকায় আসতে দিবে না। মা বললো, ‘বাবা তুই ঢাকা যাইস্ না, ঢাকা মানুষ কাইট্টা খাইয়া ফেলায়, তুই যাইস না বাবা।’ তখন আমার স্ত্রী আমাকে বললো, ‘আপনি যান, দেখা যাক কী হয়।’ আমি হুমায়ূন স্যারকে চিনতাম না। ঐ লোক, আমি আর আমার কয়েকজন সাগরেদ নিয়ে রামপুরা টেলিভিশন ভবনে আসলাম। একটা রুমে অনেক লোক ফ্লোরে বসা, আমরাও ফ্লোরে বসে আছি; অপেক্ষা করছি স্যার আসবে বলে। কিছুক্ষণ পরে একজন লোক এসে বললেন, ‘স্যার আসছে।’ দেখলাম সবাই দাঁড়িয়ে গেছেন। আমরাও দাঁড়ালাম। স্যার বললেন, ‘তোমরা ভালো আছো সবাই? কী কুদ্দুস, ভালো আছো?’ বললাম- জ্বি স্যার, ভালো আছি। স্যার বললেন, ‘কুদ্দুস তোমাকে আনা হয়েছে একটা গান গাওয়ার জন্যে। এই যে এই গানটা আমি লিখেছি।’ আমি বললাম, স্যার আমি তো লেখাপড়া জানি না। আপনি আমাকে বিষয়টা বুঝাইয়া বলেন, তারপর দেখি পারি কি-না। স্যার আমাকে বিষয়টা বললেন। আমি আমার মতো করে গানটা গাইলাম। সবাই বেশ জোরেশোরে হাততালি দিল। আমি কিন্তু হাততালির প্রকার বুঝি। কারণ, আমি হাততালি পাওয়া মানুষ। গ্রামগঞ্জের মানুষ আমার গান শুনে হাততালি দেয়। আমি আমার কাজের ভালো মন্দের প্রমাণ হাততালি শুনে বুঝতে পারি। স্যারও হাততালি দিতে দিতে দাঁড়িয়ে গেলেন। আমার কাছে এসে- মাথায় হাত রেখে বললেন, ‘এ হলো আমার কুদ্দুস। আমি বলেছিলাম না; ওকে দিয়ে হবে।’ (কথাগুলো বলেই বয়াতি ঝর্ ঝর্ করে চোখের পানি ছেড়ে দিলেন)। স্যার বললেন, ‘তোমাদের ঢাকায় আত্মীয়-স্বজন কেউ থাকে?’ বললাম, না স্যার। স্যার বললেন, ‘তাহলে চলো আমার বাসায়। আজ একটা খাওয়া দাওয়ার আয়োজন হউক। সারারাত আজ তোমার পালাগান শোনা যাবে।’ (দুহাত দিয়ে দুদিক থেকে টেনে- টেনে চোখের পানি মুছতে লাগলেন। পরিবেশটা আয়ত্বে আনতে বললাম-) 

কুদ্দুস বয়াতি। ছবি: শাহরিয়ার তামিম, প্রিয়.কম

প্রিয়.কম: তারপর তো অনেক বড় বড় অনুষ্ঠান করেছেন। কখনো বাঁধার সম্মুখীন হয়েছিলেন?

কুদ্দুস বয়াতি: হ্যাঁ, অনেক। আমি পড়াশোনা জানি না। সেজন্য মানুষ আমাকে অনেক ঠকিয়েছে। অনুষ্ঠানের বায়না যদি পঞ্চাশ হাজার টাকা করতো আমাকে এসে বলতো বিশ হাজার। অনেক শিক্ষিত মানুষ দেখেছি; যারা শুধু মানুষ, তাদের ভেতর মান-হুশ্ নাই। একজন মানুষের মান আর হুশ্ থাকাটা জরুরি। পড়াশোনা জানি না বলে অনেক বাঁধার মুখে পড়তে হয়েছে আমাকে। একবার এক ঘটনা ঘটলো। আমি লন্ডন যাবো। বিমানে উঠেছি কিন্তু কারো কোনো কথা বুঝি না। তারাও আমার কথা বোঝে না। সাত ঘণ্টা কিছু খেতে পারলাম না। আমার দুই সিট আগে একটা লোক এক ভদ্রমহিলাকে বললেন, চিকেন-রাইচ। কিছুক্ষণ পরে দেখলাম, তার সামনে খাবার-দাবার চলে এলো। আমি ভাবলাম আমাকেও দেখতে হবে ‘চিকেন-রাইচ’ বিষয়টা কী। আমিও ভদ্র মহিলাকে বললাম, হ্যালো, চিকেন-রাইচ। মহিলা বললেন, ‘থ্যানকিউ স্যার।’ বুঝলাম ভালো কিছু বলেছে। কিছুক্ষণ পর দেখলাম ভদ্র মহিলা ভাত মাংস এনেছেন। তারপর সেই ‘চিকেন-রাইচ’ দিয়ে জীবন বাঁচালাম।

প্রিয়.কম: কোনো সুখকর ঘটনা বা স্মৃতি মনে পড়ে?

কুদ্দুস বয়াতি: অনেক স্মৃতি আছে, আমার বয়াতি জীবনে। সপ্তাহখানেক ধরে কথা বলতে পারতাম না গলা ব্যথায়। গান করে এসে ঘুমাতাম। সকালে উঠে দেখি কথা বলতে পারি না। মনে হতো বোবা হয়ে গেলাম নাকি! গলায় মাফলাম পেঁচিয়ে রাখতে হতো। একদিন গান গাইতে গেলাম এক গ্রামে। সবাই দেখতে আসলো। আমরা খাওয়া দাওয়া করে বিশ্রাম নিচ্ছি। ঘরটা ছিল পাট কাঠির। ঘরের বাহিরে থেকে সলা ফাঁক করে কয়েকটা মেয়ে আমাকে দেখতে লাগলো। মেয়েদের নাক-মুখ ঘরের ভেতরে ঢুকে গেছে, নাকের নোলকগুলো দুলছে। আমার এক বন্ধু এক মেয়ের নোলকের ভেতর দিয়ে পাট-কাঠি ঢুকিয়ে দিলেন। সে যে কী কান্ড! (স্মৃতি মনে করে বয়াতি হাসলেন অনেকক্ষণ)।

প্রিয়.কম: আপনার সংসার জীবন সম্পর্কে জানতে চাই…

কুদ্দুস বয়াতি: আমার প্রথম স্ত্রী মারা যায় গতবছর। সে ছিল হিন্দু ধর্মের অনুসারি। সে বাড়ি ছেড়ে আমার কাছে চলে এসেছিল। আমি তাকে গ্রহণ করি। বিয়ে করে তাকে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করাই। সে নামাজ-রোজা করতো। এ নিয়ে আমাকে অনেক ঝামেলা করতে হয়েছে। অনেক মানুষ ফতুর হয়েছে মামলা-মোকদ্দমা করে। প্রথম সংসারে আমার আট ছেলে মেয়ে আছে। সবাই আমার এখানে আসা-যাওয়া করে। দ্বিতীয় সংসারে এক ছেলে  ও এক মেয়ে। সবাইকে পড়াশোনা করিয়েছি। সবাই মাশাআল্লাহ ভালো আছে।

বাম থেকে ছোটছেলে দ্রুব, কুদ্দুস বয়াতি, দ্বিতীয় স্ত্রী পাপিয়া আক্তার পিউ ও ছোটমেয়ে প্রাপ্তি । ছবি: শাহরিয়ার তামিম, প্রিয়.কম

প্রিয়.কম: ‘কুদ্দু্‌স বয়াতি ফাউন্ডেশন’ নিয়ে আপনার চিন্তা-ভাবনা কী?

কুদ্দুস বয়াতি: পালাগান তো আমাদের ঐতিহ্য-সংস্কৃতির একটা অংশ। পালাগান যেন হারিয়ে না যায়- সেজন্য আমি এই ফাউন্ডেশন করেছি। পালাগানের চর্চা এবং এই ঐতিহ্যের সাথে জড়িত বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছি। সাথে ‘হুমায়ূন আহমেদ স্মৃতি জাদুঘর’ থাকবে সেখানে। প্রতিষ্ঠানটি আমি দাঁড় করাতে চাই। সরকারি বা ব্যক্তিগতভাবে কেউ যদি আমাকে সাহায্য বা পরামর্শ দিতে চায় তাহলে; আমার জন্য কাজটি করতে সুবিধা হবে।

প্রিয়.কম: জীবনে অপ্রাপ্তি কিছু আছে?

কুদ্দুস বয়াতি: এখানে একটি ছোট কষ্ট আমার আছে। আমি পালাকার- চল্লিশ বছর ধরে মানুষকে- মানুষের কথা শুনিয়েছি। গ্রাম বাংলার গল্প বলেছি। দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কথা, লোক-সংস্কৃতির কথা আমি একজন মানুষ বিশটা চরিত্রে অভিনয় করে বাংলার চিত্ররুপ মানুষের চোখে তুলে ধরেছি। ‘এই দিন দিন না, আরো দিন আছে’ আমার গুরু হুমায়ূন আহমেদ স্যারের লেখা, আমার গাওয়া এই গান শুনে দেশের লক্ষ লক্ষ ছেলে-মেয়ে স্কুলে গিয়েছে। বাবা-মা সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়েছে, বয়স্করা শেষ বয়সে ‘বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রে’ গিয়েছে। সব জায়গায় সবকিছু হচ্ছে, কিন্তু আমাদের মতো পালাগান শিল্পীদের জন্য কিছু হচ্ছে না। পালাগান যারা করে তাদের জন্য যদি সরকার কিছু করতে চায়, তাহলে আমার জন্যে, দেশের এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের জন্য যেন পুরস্কারের ব্যবস্থা করেন। আমি একাই এই শিল্পটাকে বাংলাদেশে ধরে রেখেছি।

কুদ্দুস বয়াতি ও শ্রাবণ আহমেদ (ডানে), ছবি: শাহরিয়ার তামিম, প্রিয়.কম

আরেকটা বিষয় মনে হয় বলা দরকার- আমাদের দেশে পুরস্কারগুলো দেয়া হয় তখন, যখন একটা মানুষ হাঁটতে পারেন না বা তার শরীরে চলাফেরা করার মতো শক্তি থাকে না। দেখি অনেককে পুরস্কার দেয়া হয়- তাকে পুরস্কার আনতে স্টেজে উঠতে হয় দুজনের কাঁধে ভর দিয়ে। আচ্ছা একটা মানুষ শেষ বয়সে এসে পুরস্কার দিয়ে করবেটা কী? পুরস্কার যাদের প্রাপ্য বয়স থাকতেই যেন দেয়া হয়। তাহলে তারা তাদের কাজগুলো দেশ-বিদেশ ঘুরে সেইভাবে প্রচার করতে পারবে। যে, যে জায়গাগুলোতে কাজ করে, সে জায়গাগুলোতে আরো ভালো করে কাজ করতে পারবে। এতে দেশের সংস্কৃতি-ঐতিহ্য বেশি করে বিকাশ হবে, বিশ্ববাসী কাজগুলোর ব্যাপারে জানতে পারবে।

প্রিয়.কম: ধন্যবাদ প্রিয়.কমকে সময় দেওয়ার জন্য।

কুদ্দুস বয়াতি: ধন্যবাদ প্রিয়.কমকেও।

সম্পাদনা: ফারজানা রিংকী